ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমবায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলা যাবে- প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ খোকসা জনতা ব্যাংক থেকে জাল স্বাক্ষর করে দুই লাখ সত্তর হাজার টাকা উত্তলোনের অভিযোগ আলফাডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন সালথায় সমবায় দিবসের সভায় সমিতির কার্যক্রম নিয়ে নীরব কর্মকর্তা, অতিথিদের ক্ষোভ মথুরাপুরে ফরজ উল্লাহর পক্ষে ৪৩৫ মোটরসাইকেলের বিশাল শোডাউন মাদক ও অপরাধমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড গড়তে চান ইউপি সদস্য প্রার্থী মাকছুদুর রহমান গোয়ালন্দে মুক্তিযোদ্ধা-রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বোয়ালমারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন আলফাডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা দৌলতপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা

সাংবাদিক তুহিন হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন”পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটি

মোঃ ফসিয়ার রহমান,পাইকগাছা(খুলনা):
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫ ২০৫ বার পঠিত

গাজীপুরের চৌরাস্তায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটি।একইসাথে সংগঠনটির পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

শুক্রবার সকালে পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সভাপতি শেখ সেকেন্দার আলীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন,বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফসিয়ার রহমান,সহ-সভাপতি মোঃ আসাদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউদ্দিন নায়েব, কোষাধ্যক্ষ মোঃ ফিরোজ আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক মানছুর রহমান জাহিদ, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য জিএম মিজানুর রহমান মিজান, জহিরুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান রিন্টু। সদস্য রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল মাহমুদ, আক্তারুজ্জামান লিটন,জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, কাজী সোহাগ,,জিএম আনারুল ইসলাম,মাজহারুল ইসলাম মিথুন প্রমুখ।

সংবাদ মাধ্যমে নিহত তুহিনের বন্ধু প্রত্যক্ষদর্শী শামিম জানিয়েছেন,আমরা এক সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি এক নারী এক ব্যক্তিকে নাজেহাল করছে। ওই ব্যক্তি নারীটিকে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই ব্যক্তিকে আঘাত করে। এর পরই ওই ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায়। সাংবাদিক তুহিন ঘটনাটি দেখে দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে ভিডিও করছিল। পরে দুর্বৃত্তরা তুহিনের ভিডিও করা দেখে ওকে ধাওয়া দেয়। তুহিন দৌড়ে পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে ফেলে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

চব্বিশ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।কিন্তু বাস্তবতা হলো,সংসদে এই আইন প্রণয়নের বিষয়টি কেবল আলোচনার টেবিলেই পড়ে আছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভাজন, আর গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা—এসব কারণে বিলম্ব হচ্ছে এই আইনের।

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া বর্ষসেরা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ড এখনো বিচারহীন,১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার হয়নি, এটাই প্রমাণ করে শুধুমাত্র শোক ও নিন্দা প্রকাশ করে সমস্যার সমাধান আসবে না, দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

আজ প্রশ্ন হলো আর কত লাশ গুনবে সাংবাদিক সমাজ? আর কত মায়ের বুক কাঁপবে, বাবার চোখে অশ্রু ঝরে?আর কত সহকর্মী কালো ব্যাজ পরে শোক জানাবে? প্রতিবার প্রশাসন আশ্বাস দেয়, ‘দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাইলগুলো ধূলিসাৎ হয়, অপরাধীরা ফিরে যায় আগের আস্তানায়।

এখন সময় শুধু শোক প্রকাশের নয়; এখন সময় নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের,দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার, এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা প্রদানের, রাষ্ট্র যদি এই দায়িত্বে ব্যর্থ হয়, তাহলে শুধু গণমাধ্যম নয়, পুরো গণতন্ত্রেরও পরাজয় নিশ্চিত, সাংবাদিকদের রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে দ্রুত সাংবাদিক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের বিকল্প নেই বলে মনে করেন সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ হত্যাকাণ্ডে দায়ী চাঁদাবাজ,সন্ত্রাসী ও খুনিদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নাহলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

সাংবাদিক তুহিন হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন”পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটি

আপডেট সময় : ০৪:০৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

গাজীপুরের চৌরাস্তায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটি।একইসাথে সংগঠনটির পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

শুক্রবার সকালে পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সভাপতি শেখ সেকেন্দার আলীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন,বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফসিয়ার রহমান,সহ-সভাপতি মোঃ আসাদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউদ্দিন নায়েব, কোষাধ্যক্ষ মোঃ ফিরোজ আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক মানছুর রহমান জাহিদ, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য জিএম মিজানুর রহমান মিজান, জহিরুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান রিন্টু। সদস্য রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল মাহমুদ, আক্তারুজ্জামান লিটন,জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, কাজী সোহাগ,,জিএম আনারুল ইসলাম,মাজহারুল ইসলাম মিথুন প্রমুখ।

সংবাদ মাধ্যমে নিহত তুহিনের বন্ধু প্রত্যক্ষদর্শী শামিম জানিয়েছেন,আমরা এক সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি এক নারী এক ব্যক্তিকে নাজেহাল করছে। ওই ব্যক্তি নারীটিকে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই ব্যক্তিকে আঘাত করে। এর পরই ওই ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায়। সাংবাদিক তুহিন ঘটনাটি দেখে দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে ভিডিও করছিল। পরে দুর্বৃত্তরা তুহিনের ভিডিও করা দেখে ওকে ধাওয়া দেয়। তুহিন দৌড়ে পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে ফেলে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

চব্বিশ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।কিন্তু বাস্তবতা হলো,সংসদে এই আইন প্রণয়নের বিষয়টি কেবল আলোচনার টেবিলেই পড়ে আছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভাজন, আর গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা—এসব কারণে বিলম্ব হচ্ছে এই আইনের।

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া বর্ষসেরা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ড এখনো বিচারহীন,১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার হয়নি, এটাই প্রমাণ করে শুধুমাত্র শোক ও নিন্দা প্রকাশ করে সমস্যার সমাধান আসবে না, দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

আজ প্রশ্ন হলো আর কত লাশ গুনবে সাংবাদিক সমাজ? আর কত মায়ের বুক কাঁপবে, বাবার চোখে অশ্রু ঝরে?আর কত সহকর্মী কালো ব্যাজ পরে শোক জানাবে? প্রতিবার প্রশাসন আশ্বাস দেয়, ‘দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাইলগুলো ধূলিসাৎ হয়, অপরাধীরা ফিরে যায় আগের আস্তানায়।

এখন সময় শুধু শোক প্রকাশের নয়; এখন সময় নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের,দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার, এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা প্রদানের, রাষ্ট্র যদি এই দায়িত্বে ব্যর্থ হয়, তাহলে শুধু গণমাধ্যম নয়, পুরো গণতন্ত্রেরও পরাজয় নিশ্চিত, সাংবাদিকদের রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে দ্রুত সাংবাদিক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের বিকল্প নেই বলে মনে করেন সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ হত্যাকাণ্ডে দায়ী চাঁদাবাজ,সন্ত্রাসী ও খুনিদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নাহলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।