ঢাকা ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

শহীদুল ইসলাম বাবুলের মেডিকেল ক্যাম্পে মানুষের সন্তুষ্টি

অনিক রায়,ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩৭ বার পঠিত

Oplus_131072

ফরিদপুরের সদরপুরে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে স্থানীয়দের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে।

ফরিদপুর–৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কর্তৃক ধানের শীষ প্রতীক থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদুল ইসলাম বাবুল রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে সদরপুরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সকাল থেকেই সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ ক্যাম্পে আসতে শুরু করেন।

৩১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে শিশু রোগ, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ, চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, হাড়–জোড় (অর্থোপেডিক), নিউরোমেডিসিন এবং সাধারণ চিকিৎসার জন্য ডেস্ক বসানো হয়। রোগীরা লম্বা লাইন করে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা নেন। রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, ওজন ও অন্যান্য প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সঙ্গে সঙ্গে করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “জনগণের সেবা করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ যেন দূরে না গিয়ে নিকটেই স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা হবে।”

তিনি আরও জানান, গ্রামীণ জনপদের মানুষের চিকিৎসাবঞ্চনা দূর করতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সম্পৃক্ত করেই এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে কেউ আর্থিক কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে আসা অনেকেই জানান, তাদের এলাকায় বিশেষ করে প্রসূতি বা জটিল রোগের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া যায় না। সদরপুরের এক গৃহবধূ বলেন, “শহরে গেলে ভাড়া, টেস্ট, ডাক্তার—সব মিলিয়ে অনেক খরচ। আজ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পেরে বেশ উপকৃত হলাম।”

চরভদ্রাসন থেকে আসা এক বৃদ্ধ কৃষক জানান, “বহুদিন ধরে পেটের ব্যথা ছিল। টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধও দিল—এটা আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য বড় আশীর্বাদ।”

সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজকদের অতিরিক্ত ডাক্তার ও স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত করতে হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা রোগীদের লাইন ধরিয়ে রাখা, নিবন্ধন, প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থাপনা ও ওষুধ বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এদিকে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমন আয়োজন শুধু নির্বাচনী প্রচারণা নয়; বরং সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ। তারা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম মানুষের ভোগান্তি কমাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।ক্যাম্প শেষে সেবা নিতে আসা অনেকের মুখেই ছিল স্বস্তির হাসি।

এক যুবক বলেন, “আমাদের এলাকায় এমন আয়োজন খুব কমই হয়। আজ মনে হচ্ছে সত্যিই আমাদের কথা কেউ ভাবছে।”

আয়োজকরা জানান, মানুষের সাড়া দেখে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিয়মিতভাবে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ফলো-আপ এবং দূরবর্তী গ্রামগুলোতে মোবাইল মেডিকেল টিম পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।

সারাদিনের উৎসবমুখর পরিবেশ শেষে ক্যাম্পস্থল ত্যাগ করার সময় অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিল কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টির মিশ্র অনুভূতি।উপস্থিত জনস্রোত দেখে ক্যাম্প এলাকায় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিশু, নারী ও প্রবীণসহ সব বয়সের মানুষের মাঝে চিকিৎসাসেবার প্রতি আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

ট্যাগস :

শহীদুল ইসলাম বাবুলের মেডিকেল ক্যাম্পে মানুষের সন্তুষ্টি

আপডেট সময় : ০১:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের সদরপুরে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে স্থানীয়দের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে।

ফরিদপুর–৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কর্তৃক ধানের শীষ প্রতীক থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদুল ইসলাম বাবুল রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে সদরপুরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সকাল থেকেই সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ ক্যাম্পে আসতে শুরু করেন।

৩১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে শিশু রোগ, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ, চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, হাড়–জোড় (অর্থোপেডিক), নিউরোমেডিসিন এবং সাধারণ চিকিৎসার জন্য ডেস্ক বসানো হয়। রোগীরা লম্বা লাইন করে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা নেন। রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, ওজন ও অন্যান্য প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সঙ্গে সঙ্গে করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “জনগণের সেবা করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ যেন দূরে না গিয়ে নিকটেই স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা হবে।”

তিনি আরও জানান, গ্রামীণ জনপদের মানুষের চিকিৎসাবঞ্চনা দূর করতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সম্পৃক্ত করেই এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে কেউ আর্থিক কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে আসা অনেকেই জানান, তাদের এলাকায় বিশেষ করে প্রসূতি বা জটিল রোগের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া যায় না। সদরপুরের এক গৃহবধূ বলেন, “শহরে গেলে ভাড়া, টেস্ট, ডাক্তার—সব মিলিয়ে অনেক খরচ। আজ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পেরে বেশ উপকৃত হলাম।”

চরভদ্রাসন থেকে আসা এক বৃদ্ধ কৃষক জানান, “বহুদিন ধরে পেটের ব্যথা ছিল। টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধও দিল—এটা আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য বড় আশীর্বাদ।”

সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজকদের অতিরিক্ত ডাক্তার ও স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত করতে হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা রোগীদের লাইন ধরিয়ে রাখা, নিবন্ধন, প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থাপনা ও ওষুধ বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এদিকে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমন আয়োজন শুধু নির্বাচনী প্রচারণা নয়; বরং সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ। তারা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম মানুষের ভোগান্তি কমাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।ক্যাম্প শেষে সেবা নিতে আসা অনেকের মুখেই ছিল স্বস্তির হাসি।

এক যুবক বলেন, “আমাদের এলাকায় এমন আয়োজন খুব কমই হয়। আজ মনে হচ্ছে সত্যিই আমাদের কথা কেউ ভাবছে।”

আয়োজকরা জানান, মানুষের সাড়া দেখে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিয়মিতভাবে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ফলো-আপ এবং দূরবর্তী গ্রামগুলোতে মোবাইল মেডিকেল টিম পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।

সারাদিনের উৎসবমুখর পরিবেশ শেষে ক্যাম্পস্থল ত্যাগ করার সময় অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিল কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টির মিশ্র অনুভূতি।উপস্থিত জনস্রোত দেখে ক্যাম্প এলাকায় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিশু, নারী ও প্রবীণসহ সব বয়সের মানুষের মাঝে চিকিৎসাসেবার প্রতি আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।