রাজবাড়ীতে ৪৬১ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, রং-তুলির আঁচড়ে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা
- আপডেট সময় : ১২:০৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৭০ বার পঠিত

ঢাকের বাদ্য আর উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ার অপেক্ষা। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড়, কোথাও পরানো হচ্ছে বাহারি পোশাক, আবার কোথাও তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা ও ব্যতিক্রমী থিম। প্রতিমা কারিগরদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।

এ বছর রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৪৬১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপগুলোতে সাজসজ্জার ব্যস্ততা। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে এখন সেগুলোকে রং, পোশাক ও নানা অলংকারে সাজিয়ে তুলছেন কারিগররা।
জেলা শহরের ধুঞ্চি পূর্বপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির ও রাধামাধব মন্দিরে এবার থাকছে বিশেষ আয়োজন। মণ্ডপটিতে আলাদা শেডে শ্রীকৃষ্ণের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে ৫২ খণ্ডের প্রতিমা সাজানো হবে। জন্ম থেকে কংসবধ, রামের অকালবোধন ও রাবণবধের কাহিনি তুলে ধরা হবে থিম প্রদর্শনীতে। পাশাপাশি থাকছে আদি যোগী শিবের লাইট শোসহ নানা আয়োজন।
মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রীকান্ত কুমার রাহুল জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ভিন্ন আঙ্গিকে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখতে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ধর্মের মানুষকে আমন্ত্রণ জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অন্যদিকে, জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নে এবার ৪৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। জেলার মধ্যে এ ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউনিয়নের ছোট-বড় সব মণ্ডপেই চলছে প্রতিমা সাজানো ও রং করার শেষ মুহূর্তের কাজ।
জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কল্লোল বসু বলেন, পূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে মণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি সব ধর্মের মানুষকে পূজা উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানান।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, জেলার ৪৬১টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ৩৩৫টি সাধারণ, ৪০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ৮৬টি মধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বিশেষ পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মোবাইল টিম, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পূজার সময় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলও কাজ করবে। শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, মানুষ যেন নিরাপদ বোধ করেন, সে আস্থা তৈরি করাও পুলিশের লক্ষ্য। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে প্রতিমার রং-তুলির কাজ, বাহারি সাজসজ্জা ও ব্যতিক্রমী আয়োজন ঘিরে রাজবাড়ীর পূজামণ্ডপগুলোতে এখন উৎসবের প্রস্তুতি। নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রত্যাশা আয়োজক ও দর্শনার্থীদের।














