ঢাকা ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

বিকল্প সড়ক ছাড়াই ব্রিজ নির্মাণ: চরম দুর্ভোগে জনজীবন

শরিফুল হাসান,সালথা(ফরিদপুর):
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ৬৩ বার পঠিত

Oplus_131072

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রিজ নির্মাণকাজ চললেও বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলার সালথা সদর বাজার ও বালিয়াগট্টি বাজার এলাকায় চলমান ব্রিজ নির্মাণের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে সরাসরি যান চলাচল। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পরিবহন চালকদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-সালথা সড়কটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম আঞ্চলিক সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন উপজেলার মানুষ জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য, মাছ, সবজি ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্মাণাধীন দুটি ব্রিজের কারণে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় এখন বিকল্প সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের পরিকল্পিত বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই ব্রিজের কাজ শুরু করায় দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বড় যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে বাস ও ট্রাক। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়ও।

সালথা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে কয়েক মিনিটেই বাজারে আসা যেত। এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, প্রতিদিন কলেজে যেতে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। সকালে সময়মতো বের হলেও যানজটের কারণে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। বৃষ্টি হলে বিকল্প কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাস, মাহেন্দ্র ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা। সরু রাস্তায় যানবাহন ক্রসিং করতে গিয়ে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। অনেক স্থানে রাস্তার পাশে কাদা জমে থাকায় যানবাহন আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি ঘোরাতে সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় আটকে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়নকাজ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আগে বিকল্প চলাচলের রাস্তা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। দ্রুত অন্তত সাময়িকভাবে চলাচল উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন বলেন, নির্মাণাধীন ব্রিজের আশপাশে বিকল্প রাস্তা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে কেউ জায়গা দিলে দ্রুত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

বিকল্প সড়ক ছাড়াই ব্রিজ নির্মাণ: চরম দুর্ভোগে জনজীবন

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রিজ নির্মাণকাজ চললেও বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলার সালথা সদর বাজার ও বালিয়াগট্টি বাজার এলাকায় চলমান ব্রিজ নির্মাণের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে সরাসরি যান চলাচল। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পরিবহন চালকদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-সালথা সড়কটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম আঞ্চলিক সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন উপজেলার মানুষ জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য, মাছ, সবজি ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্মাণাধীন দুটি ব্রিজের কারণে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় এখন বিকল্প সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের পরিকল্পিত বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই ব্রিজের কাজ শুরু করায় দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বড় যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে বাস ও ট্রাক। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়ও।

সালথা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে কয়েক মিনিটেই বাজারে আসা যেত। এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, প্রতিদিন কলেজে যেতে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। সকালে সময়মতো বের হলেও যানজটের কারণে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। বৃষ্টি হলে বিকল্প কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাস, মাহেন্দ্র ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা। সরু রাস্তায় যানবাহন ক্রসিং করতে গিয়ে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। অনেক স্থানে রাস্তার পাশে কাদা জমে থাকায় যানবাহন আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি ঘোরাতে সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় আটকে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়নকাজ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আগে বিকল্প চলাচলের রাস্তা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। দ্রুত অন্তত সাময়িকভাবে চলাচল উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন বলেন, নির্মাণাধীন ব্রিজের আশপাশে বিকল্প রাস্তা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে কেউ জায়গা দিলে দ্রুত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।