পাইকগাছায় মেয়েকে বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ‘ইত্যাদি’ পুরস্কারপ্রাপ্ত বৃক্ষপ্রেমিক বকুল সিদ্দিক
- আপডেট সময় : ০৬:২২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ২৬০ বার পঠিত

“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা!” ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী এই গানের কথাগুলো যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে খুলনার পাইকগাছার একজন নিঃস্ব অথচ মানবিক গুণে অনন্য মানুষ বৃক্ষপ্রেমিক বকুল সিদ্দিক এর জীবনে।
বকুল সিদ্দিক নামে পরিচিত সিদ্দিক গাজী (৬৯) উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা সহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় পায়ে হেঁটে প্রায় ১২ হাজারের বেশি বকুল গাছ রোপণ করেছেন। তার এই অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি ২০১৫ সালে বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে তার সাক্ষাৎকার প্রদানের সুযোগ পান এবং পান ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার, যা তিনি নিজেই আবার ব্যয় করেন মানবতার কল্যাণে বৃক্ষরোপণে।
বকুল সিদ্দিকের একসময় নিজস্ব নার্সারিও ছিল। তবে দারিদ্র্য, ঝড়, বন্যা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সেই নার্সারিও হারিয়ে যায়। চাকরির প্রস্তাব পেয়েও বৃক্ষরোপণকে নিজের ব্রত মনে করে তিনি তা গ্রহণ করেননি। বর্তমানে জীবিকা নির্বাহ করতে বিল থেকে শাক সংগ্রহ করে পাইকগাছার কপিলমুনি বাজার ও আশপাশের গ্রামে বিক্রি করেন।
সম্প্রতি তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে খাঁদিজা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অ্যাপেন্ডিসাইটিস ধরা পড়ার কথা জানান এবং অপারেশন ও ওষুধ বাবদ ১৪-১৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে মাত্র ৩ হাজার টাকা জোগাড় করতে পেরেছেন তিনি। বাকিটা জোগাড় করতে এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই মানবিক বৃক্ষপ্রেমিক।
বৃক্ষরোপণে জীবন উৎসর্গ করা এই মানুষটির এখন একটাই আবেদন— “আমার মেয়েটাকে বাঁচাতে একটু সহানুভূতি দিন। সামর্থ অনুযায়ী পাশে দাঁড়ান।”
যে কেউ চাইলে বিকাশ/নগদ নম্বরে ০১৯৫৫-৮৯৬৪৩৪ এই নম্বরে সাহায্য পাঠাতে পারেন।
বৃক্ষপ্রেমিক বকুল সিদ্দিককে সাহায্য করা মানে শুধু একটি মেয়েকে চিকিৎসা দেওয়া নয়, একজন নিঃস্ব অথচ নিবেদিত মানুষকে সম্মান জানানো।




















