ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

নিখোঁজের চারদিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার,আটক -২

আল আমিন - জামালপুর :
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪ ১৭২ বার পঠিত

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ইফতারের সময় ফোন করে ডেকে নিয়ে উজ্জল মিয়া (১৪) নামে এক কিশোরকে হত্যা করেছে তার বন্ধুরা। নিখোঁজের চারদিন পর রবিবার (৩১ মার্চ) বিকেলে সেপটিক ট্যাংকি থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত উজ্জল মিয়া উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চরবালিয়া গ্রামের উশর আলীর ছেলে। উজ্জল পেশায় রাজমিস্ত্রির হেলপারের কাজ করতো।

ঘটনার সাথে জড়িতরা এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে দুই বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের ফুফাতো ভাই মিজানুর রহমান জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় উজ্জলকে তার ইমু নম্বরে একজন কল করে। তৎক্ষনাৎ সে বের হয়ে যায়। পরে উজ্জলের নম্বর থেকে তার বোন অন্তরা আক্তারকে কল করে জানানো হয় যে, বিকাশে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতে হবে, নইলে তাকে মেরে ফেলা হবে। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ ঘটনার পর উজ্জলের বাবা উশর আলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর ঘটনার তদন্ত ও কয়েকটি স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। সন্দেহভাজন একই গ্রামের দোকানদার শাহাবুদ্দিনকে পুলিশ আটক করলেও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল মালেক তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

এদিকে রবিবার দুপুরে প্রতিবেশী রাজমিস্ত্রী আপেলের বাড়ির পায়খানার ট্যাংকি থেকে দুর্গন্ধ পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাংকিতে ফেলা অবস্থায় উজ্জলের অর্ধগলিত মৃতদেহ সনাক্ত করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহাবুদ্দিন দোকানদারের ছেলে পরান মিয়া ইমুতে কল করে উজ্জলকে ডেকে নিয়ে যায়। তার বন্ধুরা অধিকাংশ মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাং হিসেবে এলাকায় পরিচিত। রাজমিস্ত্রী আপেলের নির্মাণাধীন আধাপাকা ঘরে ওই গ্যাং প্রায়সময়ই আড্ডা দিতো।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুশফিকুর রহমান জানান, বিকেলে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো—চরবালিয়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে আবু সাইদ ও প্রবাসী শহিদুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন।

ট্যাগস :

নিখোঁজের চারদিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার,আটক -২

আপডেট সময় : ১০:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ইফতারের সময় ফোন করে ডেকে নিয়ে উজ্জল মিয়া (১৪) নামে এক কিশোরকে হত্যা করেছে তার বন্ধুরা। নিখোঁজের চারদিন পর রবিবার (৩১ মার্চ) বিকেলে সেপটিক ট্যাংকি থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত উজ্জল মিয়া উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চরবালিয়া গ্রামের উশর আলীর ছেলে। উজ্জল পেশায় রাজমিস্ত্রির হেলপারের কাজ করতো।

ঘটনার সাথে জড়িতরা এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে দুই বন্ধুকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের ফুফাতো ভাই মিজানুর রহমান জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় উজ্জলকে তার ইমু নম্বরে একজন কল করে। তৎক্ষনাৎ সে বের হয়ে যায়। পরে উজ্জলের নম্বর থেকে তার বোন অন্তরা আক্তারকে কল করে জানানো হয় যে, বিকাশে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতে হবে, নইলে তাকে মেরে ফেলা হবে। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ ঘটনার পর উজ্জলের বাবা উশর আলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর ঘটনার তদন্ত ও কয়েকটি স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। সন্দেহভাজন একই গ্রামের দোকানদার শাহাবুদ্দিনকে পুলিশ আটক করলেও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল মালেক তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

এদিকে রবিবার দুপুরে প্রতিবেশী রাজমিস্ত্রী আপেলের বাড়ির পায়খানার ট্যাংকি থেকে দুর্গন্ধ পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাংকিতে ফেলা অবস্থায় উজ্জলের অর্ধগলিত মৃতদেহ সনাক্ত করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহাবুদ্দিন দোকানদারের ছেলে পরান মিয়া ইমুতে কল করে উজ্জলকে ডেকে নিয়ে যায়। তার বন্ধুরা অধিকাংশ মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাং হিসেবে এলাকায় পরিচিত। রাজমিস্ত্রী আপেলের নির্মাণাধীন আধাপাকা ঘরে ওই গ্যাং প্রায়সময়ই আড্ডা দিতো।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুশফিকুর রহমান জানান, বিকেলে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো—চরবালিয়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে আবু সাইদ ও প্রবাসী শহিদুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন।