ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

নারী নির্যাতনের শীর্ষে খুলনা ও বরিশাল: ঘরেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে নারী

প্রতিদিনের ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫ ২১৩ বার পঠিত

Oplus_131072

বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ব্যাধি, যা আজও ঘরবন্দি নির্যাতনের ভয়াবহ রূপ নিয়ে চলছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, দেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হচ্ছেন নিজেদের ঘরের ভেতরেই—প্রিয়জনদের, বিশেষ করে স্বামীর হাতেই।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে প্রকাশ পেয়েছে, ঘরোয়া সহিংসতার দিক থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ সবচেয়ে শীর্ষে। বরিশালে ৮২ শতাংশ এবং খুলনায় ৮১ শতাংশ নারী কখনো না কখনো স্বামী বা সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক, মানসিক, যৌন অথবা আর্থিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
অর্থাৎ, পাঁচজন নারীর মধ্যে চারজনের বেশিই পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলা করে চলেছেন, যা নিঃসন্দেহে একটি চরম সামাজিক সংকেত। নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ঘরই যেন অনেক নারীর জন্য হয়ে উঠছে ভয়, নিপীড়ন আর নীরব কান্নার স্থান।
জরিপ অনুযায়ী অন্যান্য বিভাগের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। চট্টগ্রামে ৭৬ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৭৫ শতাংশ, রাজশাহীতে প্রায় ৭৫ এবং রংপুরে ৭৪ শতাংশ নারী এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তুলনামূলকভাবে নিচু হারের দুই বিভাগ সিলেট ও ঢাকা হলেও এখানেও যথাক্রমে ৭৩ শতাংশ নারী নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন।
এই সহিংসতার মাত্রা শুধু জীবনভর অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত এক বছরে ৪১ শতাংশ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে জরিপে। তবে দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়গুলো আরও গভীর। বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে নারীদের জীবনকালে এই নির্যাতনের হার প্রকৃতপক্ষে ৭৬ শতাংশে পৌঁছে, এবং কেবল গত এক বছরেই তা ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নারী নির্যাতনের হার আরও বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব অঞ্চলে নারীকে শুধু প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, বরং পারিবারিক সহিংসতা, দারিদ্র্য এবং পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে একযোগে লড়তে হয়।
এই প্রতিবেদনটি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, সমাজে নারীর নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় সংকট ঘটে তার নিজের আশ্রয়স্থলেই। এ থেকে উত্তরণে প্রয়োজন নীতিগত সংস্কার, আইনি কাঠামো আরও কার্যকর করা এবং নারীর প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতার বিস্তার ঘটানো।

ট্যাগস :

নারী নির্যাতনের শীর্ষে খুলনা ও বরিশাল: ঘরেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে নারী

আপডেট সময় : ০৯:২৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ব্যাধি, যা আজও ঘরবন্দি নির্যাতনের ভয়াবহ রূপ নিয়ে চলছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, দেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হচ্ছেন নিজেদের ঘরের ভেতরেই—প্রিয়জনদের, বিশেষ করে স্বামীর হাতেই।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে প্রকাশ পেয়েছে, ঘরোয়া সহিংসতার দিক থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ সবচেয়ে শীর্ষে। বরিশালে ৮২ শতাংশ এবং খুলনায় ৮১ শতাংশ নারী কখনো না কখনো স্বামী বা সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক, মানসিক, যৌন অথবা আর্থিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
অর্থাৎ, পাঁচজন নারীর মধ্যে চারজনের বেশিই পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলা করে চলেছেন, যা নিঃসন্দেহে একটি চরম সামাজিক সংকেত। নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ঘরই যেন অনেক নারীর জন্য হয়ে উঠছে ভয়, নিপীড়ন আর নীরব কান্নার স্থান।
জরিপ অনুযায়ী অন্যান্য বিভাগের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। চট্টগ্রামে ৭৬ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৭৫ শতাংশ, রাজশাহীতে প্রায় ৭৫ এবং রংপুরে ৭৪ শতাংশ নারী এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তুলনামূলকভাবে নিচু হারের দুই বিভাগ সিলেট ও ঢাকা হলেও এখানেও যথাক্রমে ৭৩ শতাংশ নারী নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন।
এই সহিংসতার মাত্রা শুধু জীবনভর অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত এক বছরে ৪১ শতাংশ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে জরিপে। তবে দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিষয়গুলো আরও গভীর। বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে নারীদের জীবনকালে এই নির্যাতনের হার প্রকৃতপক্ষে ৭৬ শতাংশে পৌঁছে, এবং কেবল গত এক বছরেই তা ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নারী নির্যাতনের হার আরও বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব অঞ্চলে নারীকে শুধু প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, বরং পারিবারিক সহিংসতা, দারিদ্র্য এবং পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে একযোগে লড়তে হয়।
এই প্রতিবেদনটি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, সমাজে নারীর নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় সংকট ঘটে তার নিজের আশ্রয়স্থলেই। এ থেকে উত্তরণে প্রয়োজন নীতিগত সংস্কার, আইনি কাঠামো আরও কার্যকর করা এবং নারীর প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতার বিস্তার ঘটানো।