ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

জনবলসংকটে ভোলার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবায় চরম ভোগান্তি

আশিকুর রহমান শান্ত,ভোলা:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৫৪ বার পঠিত

চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ তীব্র জনবলসংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ভোলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। এতে অনেকটা হ’য’ব’র’ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সরকারি এই হাসপাতালে। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো সেই পুরোনো ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে কার্যক্রম। প্রায় সাত বছরেও নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার ২২ লাখ মানুষ।

হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তাসহ মোট ১৭৯টি পদের মধ্যে ৭৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অফিসার, অ্যানেসথেটিস্ট, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং, মিডওয়াইফারিসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু পদও শূন্য।

অন্যদিকে, সিভিল সার্জন অফিসের অধীন বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকেও চিকিৎসক-সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে ১০০ শয্যার পুরোনো ভবনে প্রতিদিন গড়ে ৩ শতাধিক রোগী ইনডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনেও প্রতিদিন বহু রোগীকে ইনডোরে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মোট প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫০০ রোগী ইনডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই শিশু। আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ২৫ শয্যার শিশু ইউনিটে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে। একেক বেডে রাখা হচ্ছে চার-পাঁচটি শিশু। চিকিৎসক-নার্সরা এত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর মেঝে ও এক বেডে একাধিক শিশুর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে সংক্রমিত হচ্ছে হাম, ডায়রিয়াসহ নতুন নতুন রোগে। এতে বাড়তি বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনেরা। তাঁদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবলসংকট দূর করে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘জনবল স্বল্পতার কারণে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইমার্জেন্সি বিভাগে এক সেকেন্ডের জন্যও সেবা বন্ধ রাখা যায় না, অথচ প্রয়োজনীয় জনবল নেই।’ তিনি আরও জানান, জনবলসংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত চিঠি পাঠানো হচ্ছে, তবে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।

ট্যাগস :

জনবলসংকটে ভোলার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবায় চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ তীব্র জনবলসংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ভোলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। এতে অনেকটা হ’য’ব’র’ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সরকারি এই হাসপাতালে। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো সেই পুরোনো ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে কার্যক্রম। প্রায় সাত বছরেও নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার ২২ লাখ মানুষ।

হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তাসহ মোট ১৭৯টি পদের মধ্যে ৭৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অফিসার, অ্যানেসথেটিস্ট, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং, মিডওয়াইফারিসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু পদও শূন্য।

অন্যদিকে, সিভিল সার্জন অফিসের অধীন বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকেও চিকিৎসক-সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে ১০০ শয্যার পুরোনো ভবনে প্রতিদিন গড়ে ৩ শতাধিক রোগী ইনডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনেও প্রতিদিন বহু রোগীকে ইনডোরে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মোট প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫০০ রোগী ইনডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই শিশু। আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ২৫ শয্যার শিশু ইউনিটে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে। একেক বেডে রাখা হচ্ছে চার-পাঁচটি শিশু। চিকিৎসক-নার্সরা এত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর মেঝে ও এক বেডে একাধিক শিশুর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে সংক্রমিত হচ্ছে হাম, ডায়রিয়াসহ নতুন নতুন রোগে। এতে বাড়তি বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনেরা। তাঁদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবলসংকট দূর করে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘জনবল স্বল্পতার কারণে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইমার্জেন্সি বিভাগে এক সেকেন্ডের জন্যও সেবা বন্ধ রাখা যায় না, অথচ প্রয়োজনীয় জনবল নেই।’ তিনি আরও জানান, জনবলসংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত চিঠি পাঠানো হচ্ছে, তবে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।