ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমবায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলা যাবে- প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ খোকসা জনতা ব্যাংক থেকে জাল স্বাক্ষর করে দুই লাখ সত্তর হাজার টাকা উত্তলোনের অভিযোগ আলফাডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন সালথায় সমবায় দিবসের সভায় সমিতির কার্যক্রম নিয়ে নীরব কর্মকর্তা, অতিথিদের ক্ষোভ মথুরাপুরে ফরজ উল্লাহর পক্ষে ৪৩৫ মোটরসাইকেলের বিশাল শোডাউন মাদক ও অপরাধমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড গড়তে চান ইউপি সদস্য প্রার্থী মাকছুদুর রহমান গোয়ালন্দে মুক্তিযোদ্ধা-রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বোয়ালমারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন আলফাডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা দৌলতপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা

খানসামা বেড়েছে সরিষা চাষ, ভালো ফলনের আশায় চাষীরা

মোঃ লায়ন ইসলাম-খানসামা (দিনাজপুর);
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২৩১ বার পঠিত

শস্যভান্ডার খ্যাত উত্তরের জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা। চাহিদা বাড়ায় ও ভালো দাম পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার ব্যাপক চাষ হয়েছে। হলুদ রঙ্গে রাঙ্গিয়েছে সরিষা ক্ষেত, ভ্রমর ঘুরছে ফুলে ফুলে। সুগন্ধে ভরে উঠেছে বাতাস। মাঠের পর মাঠ এখন সবুজের ডাটায় হলুদ রঙ সেজেছে। কুয়াশার জলরাশি ভেদ করে সবুজ মাঠের দেশে এবার হলুদের সমারাহ। যেন চিত্রশিল্পি রং তুলি দিয়ে আল্পনা এঁকেছে হলুদের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে খানসামা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে চাষাবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমি। অন্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা দিনদিন সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্ব বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় সরিষা তেলের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে ক্রেতাদের। যার প্রভাবে চাষাবাদও বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গোবিন্দপুর, হোসেনপুর, টংগুয়া, রামকলা, আঙ্গারপাড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। দেখে মনে হয়, হলুদ চাদরের বিছানা। কিছু দিন পর কৃষকের ঘরে উঠবে এ অর্থকরী ফসল।

খামারপাড়া এলাকার কৃষক আইজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ৩ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। সরিষার গাছ ভালো হয়েছে এবং ফুলও এসেছে ভালো। প্রতিবছর বিঘাপ্রতি ১৪-১৫ মণ করে পেলেও এ বছর অধিক সরিষা পাব।’

হোসেনপুর গ্রামের কৃষক লক্ষিকান্ত সেন বলেন, ‘বোরো ধান লাগানোর আগে জমিতে সরিষা লাগানো হয়। সরিষার দাম ভালো থাকায় এ বছর ২ বিঘা সরিষা আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা যদুনাথ রায় বলেন, ‘ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা মেটাতে সরিষা চাষে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়াসহ সব ধরনের পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের নির্দেশে আমরা মাঠে আছি।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাবিবা আক্তার বলেন, ‘বর্তমানে সরিষা চাষে লাভ হওয়ায় দিন দিন সরিষা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকায় ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি। এই লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করছি।

খানসামা বেড়েছে সরিষা চাষ, ভালো ফলনের আশায় চাষীরা

আপডেট সময় : ০২:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

শস্যভান্ডার খ্যাত উত্তরের জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা। চাহিদা বাড়ায় ও ভালো দাম পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার ব্যাপক চাষ হয়েছে। হলুদ রঙ্গে রাঙ্গিয়েছে সরিষা ক্ষেত, ভ্রমর ঘুরছে ফুলে ফুলে। সুগন্ধে ভরে উঠেছে বাতাস। মাঠের পর মাঠ এখন সবুজের ডাটায় হলুদ রঙ সেজেছে। কুয়াশার জলরাশি ভেদ করে সবুজ মাঠের দেশে এবার হলুদের সমারাহ। যেন চিত্রশিল্পি রং তুলি দিয়ে আল্পনা এঁকেছে হলুদের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে খানসামা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে চাষাবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমি। অন্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা দিনদিন সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্ব বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় সরিষা তেলের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে ক্রেতাদের। যার প্রভাবে চাষাবাদও বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গোবিন্দপুর, হোসেনপুর, টংগুয়া, রামকলা, আঙ্গারপাড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। দেখে মনে হয়, হলুদ চাদরের বিছানা। কিছু দিন পর কৃষকের ঘরে উঠবে এ অর্থকরী ফসল।

খামারপাড়া এলাকার কৃষক আইজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ৩ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। সরিষার গাছ ভালো হয়েছে এবং ফুলও এসেছে ভালো। প্রতিবছর বিঘাপ্রতি ১৪-১৫ মণ করে পেলেও এ বছর অধিক সরিষা পাব।’

হোসেনপুর গ্রামের কৃষক লক্ষিকান্ত সেন বলেন, ‘বোরো ধান লাগানোর আগে জমিতে সরিষা লাগানো হয়। সরিষার দাম ভালো থাকায় এ বছর ২ বিঘা সরিষা আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা যদুনাথ রায় বলেন, ‘ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা মেটাতে সরিষা চাষে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়াসহ সব ধরনের পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের নির্দেশে আমরা মাঠে আছি।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাবিবা আক্তার বলেন, ‘বর্তমানে সরিষা চাষে লাভ হওয়ায় দিন দিন সরিষা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকায় ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি। এই লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করছি।