আলফাডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের দাবি বিএনপির একাংশের সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৫:০২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১২২ বার পঠিত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তী সময়ে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করা মো. খোশবুর রহমান খোকনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা অভিযোগ করেন, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় একটি চক্র সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনে জড়িত। তাঁদের দাবি, স্থানীয় কতিপয় নেতার সহযোগিতায় প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে ডিলারশিপ বরাদ্দে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও সুবিধাভোগী কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের নতুন করে সার ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তাঁরা আলফাডাঙ্গা ইউনিয়নের দাউদ মোল্যা, টগরবন্দ ইউনিয়নের আলামিন শেখ টোকন, বানা ইউনিয়নের কাজী অমিত হাসান জয় এবং পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের শওকত আলীর নাম উল্লেখ করেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বক্তারা বলেন, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হলে সাধারণ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁরা অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে ডিলার নিয়োগের দাবি জানান।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ কৃষক ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার সাহা বলেন, সার ডিলার নিয়োগের নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা কমিটি তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন যোগ্য আবেদনকারীর নাম জেলায় পাঠানো হয়েছে । জেলা কার্যালয় অধিকতর যাচাই-বাছাই করে তা কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে মন্ত্রণালয় চূড়ান্তভাবে ডিলার নিয়োগ দেয়।
তিনি আরও বলেন, “আমরা তদন্ত করে তিনজনের নাম জেলায় পাঠিয়েছি। জেলা কার্যালয় সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয় ওই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগ দিয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির মূল কমিটির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস বলেন, ডিলার নিয়োগের সাথে উপজেলা কমিটির অনৈতিকভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ সত্য নয়। সরকারি নীতিমালা মেনেই জেলা পর্যায়ে নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপি একাংশ , যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।














