আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাদ্রাসার কমিটির অনুমোদন, তালিকায় একাধিক মামলার আসামি
- আপডেট সময় : ০২:৫২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৫৮ বার পঠিত

ঢাকার আশুলিয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও চলমান দেওয়ানি মামলা তোয়াক্কা না করে একটি মাদ্রাসার নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অবাক করার বিষয় হলো, যে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, সেই মামলারই এজাহারভুক্ত আসামিকে রাখা হয়েছে নতুন এই কমিটিতে।
সম্প্রতি আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল (স্নাতক) মাদ্রাসার জন্য এই কমিটির অনুমোদন দেয় ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।
জানা যায়, ঢাকার আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল (স্নাতক) মাদরাসা ও এশিয়া আশরাফ মহিলা মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ, ট্রাস্টের মালিকানা ও সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আইনি লড়াই চলে আসছে।
মাদরাসার সার্বিক পরিস্থিতি ও সম্পত্তি সুরক্ষার স্বার্থে এর আগে ঢাকার ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একটি নিষেধাজ্ঞার দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালত ওই সম্পত্তিতে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। মাদ্রাসার মূল ফটকে আদালতের সেই নোটিশ টানানো হলেও তা তোয়াক্কা না করে গত ১১ অক্টোবর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ. কে. মোহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ৬ মাসের জন্য ৫ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত এক বছর ধরে এই মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ ও সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়েছে। ইতিপূর্বে গত বছরের ২৫ই জুন ডা. মোহাম্মদ সালেহউদ্দীন সাঈদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও তহবিল তছরুপের অভিযোগ এনে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এর জেরে ওই বছরের ২২ই সেপ্টেম্বর হামলা ও লুটের অভিযোগে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ট্রাস্টের সেক্রেটারীর সহকারী এস.এ.টি নুরুজ্জামান। পরবর্তীতে এবছরের ০৯ই মার্চ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে উপ-পরিচালক প্রশাসন সৈয়দ সানজিদ আরেকটি মামলা করেন। এছাড়া গত ২৭ই সেপ্টেম্বর ভাঙচুর ও লাখ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা করেছে অভিযুক্তরা। সর্বশেষ একটি পক্ষ মাদ্রাসার কমিটি আনতে গিয়ে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন দুজন।
মামলার তথ্য সূত্রে জানা যায়, সহিংসতার ঘটনায় দায়েরকৃত গুরুতর ফৌজদারি মামলাগুলোতে নতুন কমিটির বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি হিসেবে স্থান পাওয়া প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন সাঈদ নিজেই অন্যতম এজাহারনামীয় অভিযুক্ত আসামি। তিনি আশুলিয়া থানায় দায়েরকৃত তিনটি মামলার এজাহারনামীয় আসামি। এর মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে একটি মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। এছাড়াও এ বছরের দুটি মামলার ১১ই মার্চের এজাহারে ৮ ও ২৮ই সেপ্টেম্বর দায়ের করা এজাহারে ৭ নাম্বার আসামী তিনি।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ. কে. মোহা. নুরুল ইসলাম জানান, ট্রাস্ট পরিচালিত মাদ্রাসায় অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকতে পারে। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি হাতে পেলে তা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রউফ মিয়া বলেন, আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের আসামিকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন সম্পূর্ণ আইনসম্মত নয়। এ বিষয়ে আমরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেব।
সার্বিক বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, নতুন কমিটির বিষয়টি আমি শুনেছি। যারা কমিটি এনেছে তাদের পরিষ্কার বলে দিয়েছি, আইনি পরিস্থিতি না বুঝে তারা আপাতত কোনো মিটিং করতে পারবে না। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনো অবনতি বা গোলমাল না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি এবং একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করছি।














