ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

দৌলতপুরে অচল এক টাকার কয়েন, রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধ হলেও বাজারে নেই প্রচলন

মোঃ হারুন অর রশীদ দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) :
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৯৫ বার পঠিত

এক সময় নিত্যদিনের কেনাকাটায় বহুল ব্যবহৃত এক টাকার ধাতব মুদ্রা এখন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অনেকটাই অচল। রাষ্ট্রীয়ভাবে মুদ্রাটি বাতিল না হলেও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এক টাকার কয়েন নিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে থাকা এসব কয়েন কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে এক টাকার ধাতব মুদ্রা ১৯৭৫ সাল থেকে চালু হয়। স্বাধীনতার পর প্রথমদিকে বিভিন্ন মূল্যমানের পয়সার ধাতব মুদ্রা চালু হলেও পরবর্তীতে এক টাকার ধাতব মুদ্রা প্রচলনে আসে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের পর বর্তমানে দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় এক টাকার কয়েনের ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। বাজারে কোনো পণ্যের মূল্য এক টাকা বা দুই টাকা কম-বেশি হলে অনেক দোকানি কয়েনের পরিবর্তে চকলেট কিংবা অন্য কোনো পণ্য দিয়ে সমন্বয় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দোকানে এক টাকার কয়েন দিলে অনেক সময় তা নিতে চান না বিক্রেতারা। আবার দোকানিরাও বলছেন, তারা ক্রেতার কাছ থেকে কয়েন নিলেও পরবর্তীতে অন্য ব্যবসায়ী বা বাজারে সেটি দিয়ে লেনদেন করতে সমস্যায় পড়েন। এভাবেই এক টাকার কয়েন এক হাত থেকে অন্য হাতে না ঘুরে মানুষের ঘরে বা দোকানের ড্রয়ারে পড়ে থাকছে।
এর আগে কুষ্টিয়া জেলা নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক ও দুই টাকার কয়েন রাষ্ট্রীয়ভাবে অচল না হলেও জেলার বিভিন্ন বাজারে এর লেনদেন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংকেও কয়েন জমা দেওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে।
কুষ্টিয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বের ওই প্রতিবেদনে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জানিয়েছিলেন, এক, দুই ও পাঁচ টাকার কয়েন সরকার অনুমোদিত এবং ব্যাংকে এলে তা গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ সমস্যা মূলত বাজার পর্যায়ে কয়েনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।
দৌলতপুরের স্থানীয়দের প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধ একটি মুদ্রা বাজারে কেন অচল হয়ে থাকবে? এক টাকার কয়েন গ্রহণে ব্যবসায়ীদের অনীহার কারণ কী এবং ব্যাংকগুলোতে এসব কয়েন সহজে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে জনসচেতনতা তৈরি এবং বাজারে বৈধ কয়েন গ্রহণের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে এক টাকার মুদ্রার লেনদেন আবারও স্বাভাবিক হতে পারে।

দৌলতপুরে অচল এক টাকার কয়েন, রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধ হলেও বাজারে নেই প্রচলন

আপডেট সময় : ১০:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

এক সময় নিত্যদিনের কেনাকাটায় বহুল ব্যবহৃত এক টাকার ধাতব মুদ্রা এখন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অনেকটাই অচল। রাষ্ট্রীয়ভাবে মুদ্রাটি বাতিল না হলেও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এক টাকার কয়েন নিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে থাকা এসব কয়েন কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে এক টাকার ধাতব মুদ্রা ১৯৭৫ সাল থেকে চালু হয়। স্বাধীনতার পর প্রথমদিকে বিভিন্ন মূল্যমানের পয়সার ধাতব মুদ্রা চালু হলেও পরবর্তীতে এক টাকার ধাতব মুদ্রা প্রচলনে আসে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের পর বর্তমানে দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় এক টাকার কয়েনের ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। বাজারে কোনো পণ্যের মূল্য এক টাকা বা দুই টাকা কম-বেশি হলে অনেক দোকানি কয়েনের পরিবর্তে চকলেট কিংবা অন্য কোনো পণ্য দিয়ে সমন্বয় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দোকানে এক টাকার কয়েন দিলে অনেক সময় তা নিতে চান না বিক্রেতারা। আবার দোকানিরাও বলছেন, তারা ক্রেতার কাছ থেকে কয়েন নিলেও পরবর্তীতে অন্য ব্যবসায়ী বা বাজারে সেটি দিয়ে লেনদেন করতে সমস্যায় পড়েন। এভাবেই এক টাকার কয়েন এক হাত থেকে অন্য হাতে না ঘুরে মানুষের ঘরে বা দোকানের ড্রয়ারে পড়ে থাকছে।
এর আগে কুষ্টিয়া জেলা নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক ও দুই টাকার কয়েন রাষ্ট্রীয়ভাবে অচল না হলেও জেলার বিভিন্ন বাজারে এর লেনদেন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংকেও কয়েন জমা দেওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে।
কুষ্টিয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বের ওই প্রতিবেদনে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জানিয়েছিলেন, এক, দুই ও পাঁচ টাকার কয়েন সরকার অনুমোদিত এবং ব্যাংকে এলে তা গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ সমস্যা মূলত বাজার পর্যায়ে কয়েনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।
দৌলতপুরের স্থানীয়দের প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধ একটি মুদ্রা বাজারে কেন অচল হয়ে থাকবে? এক টাকার কয়েন গ্রহণে ব্যবসায়ীদের অনীহার কারণ কী এবং ব্যাংকগুলোতে এসব কয়েন সহজে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে জনসচেতনতা তৈরি এবং বাজারে বৈধ কয়েন গ্রহণের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে এক টাকার মুদ্রার লেনদেন আবারও স্বাভাবিক হতে পারে।