ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

ইস্কনের নামে রশিদ ছাপিয়ে অর্থ আদায়, জমি রেজিস্ট্রিতে জালিয়াতির অভিযোগ

হারুন অর রশিদ হারুন,দৌলতপুর (কুষ্টিয়া):
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১৮৬ বার পঠিত

কুষ্টিয়ার খোকসায় ইস্কন মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ এবং জমি রেজিস্ট্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমোহর মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি প্রভাষক শুভেন্দু বিকাশ সরকার ওরফে শুভর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ইস্কন খোকসা মন্দিরের উদ্যোক্তা ও আমেরিকা প্রবাসী নিধি গৌর দাস এবং কুষ্টিয়া জেলা ইস্কন কর্তৃপক্ষ।
নিধি গৌর দাস গত ১৮ আগস্ট তার ফেসবুক আইডিতে অভিযোগ করেন, খোকসায় মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু নিয়ম না মেনে ১০ শতাংশের বেশি জমির মধ্যে মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ জমি ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘ’ নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। ওই দলিলে শুভেন্দু বিকাশ সরকার নিজেকে ‘পরিচালক’ দাবি করে স্বাক্ষর করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, বাকি প্রায় ৮ শতাংশ জমি শুভর দুই সহযোগী ড. হরগোবিন্দ ও শংকপানির নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইস্কনের অনুমোদন কিংবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়াই জমি কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের’ কোষাধ্যক্ষ শংকপানী দাস বলেন, ইস্কন জেলা কমিটির সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী সবকিছু জানেন এবং তার অনুমতিতেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইস্কন কুষ্টিয়া মন্দিরের সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “আমি কোনো অনুমতি দেওয়ার মালিক নই। সব বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার শুধু ঢাকা ইস্কন হেড অফিসের। তাদের কাছে হেড অফিসের কোনো লিখিত অনুমতিপত্র আছে কি না, সেটি তাদের কাছে জানতে হবে।”
সাংবাদিকরা শংকপানী দাসের কাছে ওই লিখিত অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী আরও বলেন, “ইস্কনে ‘পরিচালক’ নামে কোনো পদ নেই। শুভ নিয়মবহির্ভূতভাবে কারও অনুমতি ছাড়াই নিজস্ব রশিদ ছাপিয়ে টাকা তুলেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বা আমাকে না জানিয়ে গোপনে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের’ নামে জমি কেনা হয়েছে। সেখানে ইস্কনের নামও রাখা হয়নি।” তিনি পুরো ঘটনাকে প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেন।
অভিযোগের বিষয়ে শুভেন্দু বিকাশ সরকারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়। খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা হলেও তিনি কাজের কথা বলে দ্রুত চলে যান। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে শুভেন্দু বিকাশ সরকার পরদিন সব প্রমাণপত্র সাংবাদিকদের দেওয়ার কথা জানান। তবে নির্ধারিত দিনে একাধিকবার ফোন করা এবং তার এলাকায় গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য বা কোনো প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি।
এদিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অনুদানের অর্থ সংগ্রহ ও জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় ভক্ত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
তাদের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা প্রতারণা হলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
(সন্ধান পর্ব–১)

ইস্কনের নামে রশিদ ছাপিয়ে অর্থ আদায়, জমি রেজিস্ট্রিতে জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়ার খোকসায় ইস্কন মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ এবং জমি রেজিস্ট্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমোহর মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি প্রভাষক শুভেন্দু বিকাশ সরকার ওরফে শুভর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ইস্কন খোকসা মন্দিরের উদ্যোক্তা ও আমেরিকা প্রবাসী নিধি গৌর দাস এবং কুষ্টিয়া জেলা ইস্কন কর্তৃপক্ষ।
নিধি গৌর দাস গত ১৮ আগস্ট তার ফেসবুক আইডিতে অভিযোগ করেন, খোকসায় মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু নিয়ম না মেনে ১০ শতাংশের বেশি জমির মধ্যে মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ জমি ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘ’ নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। ওই দলিলে শুভেন্দু বিকাশ সরকার নিজেকে ‘পরিচালক’ দাবি করে স্বাক্ষর করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, বাকি প্রায় ৮ শতাংশ জমি শুভর দুই সহযোগী ড. হরগোবিন্দ ও শংকপানির নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইস্কনের অনুমোদন কিংবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়াই জমি কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের’ কোষাধ্যক্ষ শংকপানী দাস বলেন, ইস্কন জেলা কমিটির সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী সবকিছু জানেন এবং তার অনুমতিতেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইস্কন কুষ্টিয়া মন্দিরের সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “আমি কোনো অনুমতি দেওয়ার মালিক নই। সব বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার শুধু ঢাকা ইস্কন হেড অফিসের। তাদের কাছে হেড অফিসের কোনো লিখিত অনুমতিপত্র আছে কি না, সেটি তাদের কাছে জানতে হবে।”
সাংবাদিকরা শংকপানী দাসের কাছে ওই লিখিত অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী আরও বলেন, “ইস্কনে ‘পরিচালক’ নামে কোনো পদ নেই। শুভ নিয়মবহির্ভূতভাবে কারও অনুমতি ছাড়াই নিজস্ব রশিদ ছাপিয়ে টাকা তুলেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বা আমাকে না জানিয়ে গোপনে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের’ নামে জমি কেনা হয়েছে। সেখানে ইস্কনের নামও রাখা হয়নি।” তিনি পুরো ঘটনাকে প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেন।
অভিযোগের বিষয়ে শুভেন্দু বিকাশ সরকারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়। খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা হলেও তিনি কাজের কথা বলে দ্রুত চলে যান। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে শুভেন্দু বিকাশ সরকার পরদিন সব প্রমাণপত্র সাংবাদিকদের দেওয়ার কথা জানান। তবে নির্ধারিত দিনে একাধিকবার ফোন করা এবং তার এলাকায় গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য বা কোনো প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি।
এদিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অনুদানের অর্থ সংগ্রহ ও জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় ভক্ত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
তাদের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা প্রতারণা হলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
(সন্ধান পর্ব–১)