দৌলতদিয়ার অন্ধকার পল্লীতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরী দিয়ে যৌন ব্যবসা সিন্ডিকেট
- আপডেট সময় : ১২:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৯৪ বার পঠিত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরী মেয়েদের জিম্মি করে জোরপূর্বক যৌন ব্যবসা চালানোর ভয়াবহ চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। প্রভাবশালী একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের এনে আটকে রেখে ‘বখরী’ হিসেবে ব্যবহার করছে—যা মানবপাচার ও নির্মম নির্যাতনের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে পল্লীর ভেতরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের একটি প্রাথমিক তালিকা সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী— জুলির বাড়িতে ১ জন, ফয়জুদ্দিন বাড়িতে১ জন , শিরীনের বাড়িতে ৪ জন, রুমার বাড়িতে ১ জন, সুমির বাড়িতে ১ জন, মুক্তার বাড়িতে ১ জন, ফেরদৌসের বাড়িতে ২ জন, নুপুরের বাড়িতে ২ জন, কনকের বাড়িতে ২ জন, হাসিনার বাড়িতে ১ জন, শান্তর বাড়িতে ১ জন, রুমার বোনের বাড়িতে ১ জন, সোহাগের বাড়িতে ১ জন, ইতির বাড়িতে ১ জন, মুকুলের বাড়িতে ৪ জন , লাল বানুর বাড়িতে ১ জন এবং সুমন বাড়িতে ১ জন—এই চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে এনে পল্লীতে আটকে রাখা হয়। এরপর তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত রেখে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে গ্রাহক ধরতে বাধ্য করা হয়। আয়কৃত অর্থের পুরোটা হাতিয়ে নেয় চক্রটি, আর মেয়েদের ভাগ্যে জোটে কেবল অল্প খাবার ও অবর্ণনীয় নির্যাতন।অভিযোগ রয়েছে, কোনো দিন গ্রাহক কম হলে তাদের ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পালানোর চেষ্টা করলে মারধরসহ ভয়ভীতি দেখানো হয়। এতে অনেকেই চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।পল্লীর একাধিক নারী জানান, অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরীদের আগ্রাসনে তাদের স্বাভাবিক আয় বন্ধ হয়ে গেছে। গ্রাহকেরা কম বয়সীদের দিকে ঝুঁকায় তারা দিনকে দিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই বাড়িভাড়া দিতে না পেরে ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছেন।স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো এলাকার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। গ্রাহক কমে যাওয়ায় ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সফিকুল ইসলাম বলেন,যৌন পল্লীতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরী থাকার কথা না, আমরা যতটুকু জানি “পতিতাবৃত্তি”তে অনুমতি কার্ড নিয়ে বা অনুমোদন নিয়ে তারা এখানে থাকে,যদি আমরা জানতে পারি যৌন পল্লীতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরী প্রবেশ করেছে, তাহলে আমরা নিয়ম মাফিক ওই অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরীকে এনে সাধারণ জিবন দেওয়া, আর যারা এনেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো আমরা, এ বিষয় চলমান অভিযান সবসময় থাকে এ বিষয় আমরা তৎপর রয়েছি।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি শুধু অপরাধ নয়—এটি সরাসরি মানবপাচার, শিশুনির্যাতন এবং আধুনিক দাসত্বের জঘন্য উদাহরণ। অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নাবালিকাদের উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।অসহায় মেয়েদের কথা বললে তারা উদ্ধার করার আকুতি জানিয়ে বলে, ‘এই অমানবিক বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিন।”




















