ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

আশুলিয়ায় আগুনে ১৭ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা

মাসুদুর রহমান রুবেল, সাভার (ঢাকা):
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫ ৭৮ বার পঠিত

ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে অন্তত ১৭টি দোকান। দোকানগুলোর মধ্যে মুদি, লাইব্রেরি, কাপড়, জুতা ও টিনের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়া ও গাজীপুর মহানগরীর সীমান্তবর্তী জিরানী বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ডিইপিজেড ও জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও সম্পূর্ণ নির্বাপণে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা।

রবিবার (১২ অক্টোবর) সকালে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব কুমার চৌধুরী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগুনে প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। কিছুক্ষণ পরই খবর পান বাজারে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে স্থানীয়ভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত সামি লাইব্রেরির মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, তার দোকানে এক কোটি টাকার বেশি মালামাল ছিল, যা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। মুদি দোকান মালিক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “দুই মাস আগে এনজিও থেকে ২২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল তুলেছিলাম, সবই শেষ।”

এছাড়া আহাদ নূর আলম, মাহবুব, জুম্মান মুন্সী, জুবায়ের, আশরাফ মিয়া ও আবুলসহ আরও কয়েকজন দোকান মালিক জানান, তাদের দোকানেও ১৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল, যা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।

কেরু বেপারী মার্কেটের ইমরুল, লিজু মোল্লা, মঞ্জু, আব্দুস সবুর ও আরিফের কাপড় ও জুতার দোকানও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।

দোকান মালিকরা বলেন, তারা অধিকাংশই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছিলেন। আগুনে সব হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা প্রণব কুমার চৌধুরী আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

ট্যাগস :

আশুলিয়ায় আগুনে ১৭ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে অন্তত ১৭টি দোকান। দোকানগুলোর মধ্যে মুদি, লাইব্রেরি, কাপড়, জুতা ও টিনের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়া ও গাজীপুর মহানগরীর সীমান্তবর্তী জিরানী বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ডিইপিজেড ও জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও সম্পূর্ণ নির্বাপণে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা।

রবিবার (১২ অক্টোবর) সকালে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব কুমার চৌধুরী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগুনে প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। কিছুক্ষণ পরই খবর পান বাজারে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে স্থানীয়ভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত সামি লাইব্রেরির মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, তার দোকানে এক কোটি টাকার বেশি মালামাল ছিল, যা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। মুদি দোকান মালিক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “দুই মাস আগে এনজিও থেকে ২২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল তুলেছিলাম, সবই শেষ।”

এছাড়া আহাদ নূর আলম, মাহবুব, জুম্মান মুন্সী, জুবায়ের, আশরাফ মিয়া ও আবুলসহ আরও কয়েকজন দোকান মালিক জানান, তাদের দোকানেও ১৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল, যা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।

কেরু বেপারী মার্কেটের ইমরুল, লিজু মোল্লা, মঞ্জু, আব্দুস সবুর ও আরিফের কাপড় ও জুতার দোকানও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।

দোকান মালিকরা বলেন, তারা অধিকাংশই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছিলেন। আগুনে সব হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা প্রণব কুমার চৌধুরী আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।