ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

মধুখালীতে কাঁচামরিচের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকদের হতাশা

মোঃ ইনামুল খন্দকার, মধুখালী (ফরিদপুর):
  • আপডেট সময় : ০৪:২৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫ ১২২ বার পঠিত

Oplus_131072

মধুখালীতে কাঁচামরিচের বাজারে হঠাৎ করে বড় ধস নামায় হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মরিচচাষীরা। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে প্রতিমণ মরিচের দাম ৮ হাজার টাকা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩শ থেকে ৪ হাজার ৫শ টাকায়।

গত ১৪ জুলাই পর্যন্ত মধুখালী মরিচ আরতে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়। ১৫ জুলাই তা নেমে আসে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজারে, আর ১৬ জুলাই বুধবার আরও কমে ৪৩০০-৪৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। দাম অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
বামুন্দী বালিয়াকান্দি গ্রামের কৃষক শামসুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ পাকি জমিতে মরিচ চাষ করেন। এবারে অতিবৃষ্টিতে তাঁর প্রায় সাড়ে ৪ পাকি জমির মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। বালিয়াকান্দির চরারকান্দি গ্রামের চাষি আলমগীর বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মরিচে পচন ধরেছে। এখন আবার বাজার দর কমে যাওয়ায় তাঁদের লোকসান অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধুখালীর কাদিরদী গ্রামের চাষি ইকবাল হোসেন বলেন, “পরশু শুনেছি ৮ হাজার টাকা, আজকে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩শ টাকায়। এমনিতেই মরিচ চাষে ক্ষতিগ্রস্ত, এখন দাম পড়ে গেলে চলা মুশকিল হয়ে যাবে।” আরেক চাষি ইকমল হোসেন বলেন, “ভারত থেকে মরিচ আসায় দেশি মরিচের দাম পড়ে গেছে। এতে আমাদের বড় লোকসান হচ্ছে।”
মধুখালী মরিচ আরতের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান জানান, “একদিন আগেও মরিচের দাম ছিল ৭-৮ হাজার, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে কৃষকের ক্ষতি হবে। দাম যদি ৬ হাজার টাকার নিচে থাকে, তাহলে চাষিদের পক্ষে লাভ করা সম্ভব নয়।”
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী বলেন, “চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে ৭ হেক্টর জমি নষ্ট ও ১৫০ হেক্টর জমির গাছ আক্রান্ত হয়েছে। প্রথম দিকে কৃষকরা ভালো দাম না পেলেও পরে বৃষ্টির কারণে দাম বাড়ে। কিন্তু এখন ভারত থেকে মরিচ আসায় আবার বাজার পড়ে গেছে। কৃষি অফিস থেকে আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি।”

মধুখালীতে কাঁচামরিচের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকদের হতাশা

আপডেট সময় : ০৪:২৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

মধুখালীতে কাঁচামরিচের বাজারে হঠাৎ করে বড় ধস নামায় হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মরিচচাষীরা। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে প্রতিমণ মরিচের দাম ৮ হাজার টাকা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩শ থেকে ৪ হাজার ৫শ টাকায়।

গত ১৪ জুলাই পর্যন্ত মধুখালী মরিচ আরতে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়। ১৫ জুলাই তা নেমে আসে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজারে, আর ১৬ জুলাই বুধবার আরও কমে ৪৩০০-৪৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। দাম অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
বামুন্দী বালিয়াকান্দি গ্রামের কৃষক শামসুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ পাকি জমিতে মরিচ চাষ করেন। এবারে অতিবৃষ্টিতে তাঁর প্রায় সাড়ে ৪ পাকি জমির মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। বালিয়াকান্দির চরারকান্দি গ্রামের চাষি আলমগীর বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মরিচে পচন ধরেছে। এখন আবার বাজার দর কমে যাওয়ায় তাঁদের লোকসান অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধুখালীর কাদিরদী গ্রামের চাষি ইকবাল হোসেন বলেন, “পরশু শুনেছি ৮ হাজার টাকা, আজকে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩শ টাকায়। এমনিতেই মরিচ চাষে ক্ষতিগ্রস্ত, এখন দাম পড়ে গেলে চলা মুশকিল হয়ে যাবে।” আরেক চাষি ইকমল হোসেন বলেন, “ভারত থেকে মরিচ আসায় দেশি মরিচের দাম পড়ে গেছে। এতে আমাদের বড় লোকসান হচ্ছে।”
মধুখালী মরিচ আরতের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান জানান, “একদিন আগেও মরিচের দাম ছিল ৭-৮ হাজার, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে কৃষকের ক্ষতি হবে। দাম যদি ৬ হাজার টাকার নিচে থাকে, তাহলে চাষিদের পক্ষে লাভ করা সম্ভব নয়।”
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী বলেন, “চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে ৭ হেক্টর জমি নষ্ট ও ১৫০ হেক্টর জমির গাছ আক্রান্ত হয়েছে। প্রথম দিকে কৃষকরা ভালো দাম না পেলেও পরে বৃষ্টির কারণে দাম বাড়ে। কিন্তু এখন ভারত থেকে মরিচ আসায় আবার বাজার পড়ে গেছে। কৃষি অফিস থেকে আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি।”