ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

সাতক্ষীরা মায়ের বসত ভিটায় ছেলের জবর দখল

শেখ ইয়াসির আরাফাত-সাতক্ষীরা:
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫ ২৫৩ বার পঠিত

আশাশুনি উপজেলার উত্তর চাপড়ায় আপন মায়ের বসত ভিটায় ঘেরাবেড়া দিয়ে জবর দখল ও ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে আদালতে মামলা দায়েরের পর নিষেধাজ্ঞা ও মিমাংসার শর্তে জামিন পেয়েও পুনরায় জবর দখল ও হুমকী ধামকীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলার আরজি, বাদী হাসানুর রহমান ও মা আছিয়া খাতুন জানান, আছিয়ার স্বামীর মোট ১৮ বিঘা জমি রেখে ইন্তেকাল করেন। স্বামী ইন্তেকালের পূর্বে হারাহারি মতে সকলের মাঝে সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা করে যান। স্ত্রীকে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি দিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী একাই বসবাস করে আসছেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর সবাই এক সাথে বসে স্ত্রী, ২ পুত্র ও ৩ কন্যার মাঝে সর্ব সম্মতিতে ভিটেবাড়ির সাড়ে ৩ বিঘা জমির মধ্যে মা দেড় বিঘা ও এক বোনকে ২ বিঘা প্রদান করা হয়। মাকে বিলান ১০ কাঠা দেয়া হয়। বড় পুত্র মিজানুরকে বিলান (একই প্লটে মৎস্য ঘের) ৫ বিঘা, অন্য দুই বোনকে ৪ বিঘা ও ছোট ভাই হাসানকে ৫ বিঘা দেয়া হয়। সেই থেকে মা আছিয়া স্বামীর রেখে যাওয়া ঘরে বসবাস করে আসছেন।

গত ২৫ জানুয়ারী হঠাৎ করে বড় পুত্র মিজানুর সহযোগিদের নিয়ে ঘরবাড়ি, হাঁস মুরগি ও ছাগলের কোটা, রান্না ঘর ভাংচুর করে ও ঘরের সামনে দিয়ে ঘেরা দিয়ে জবর দখল করে নেয়। মা ২৮/১/২৫ তাং বিজ্ঞ আমলী আদালত ০৮ সাতক্ষীরায় মামলা দায়ের করলে মিমাংসার শর্তে আসামীদের জামিন মঞ্জুর করা হয়। কিন্তু আসামীরা মীমাংসা না করে পুনরায় ঘেরা বেড়া দেয়া, ভাংচুর ও গাছ গাছালী রোপন করতে থাকে।
বাধ্য হয়ে ছোট ছেলে হাসানুর বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত সাতক্ষীরায় দেং ৫৩/২৫ মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হবেনা নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন। বাদী জানান, এতকিছুর পরও আসামীরা জবাব না দিয়ে জবর দখল, ভাংচুর, নতুন গাছ লাগানোসহ মাকে হুমকী ধামকী ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে যাচ্ছে।

মা আছিয়া খাতুন জানান, আমার স্বামী জীবিত অবস্থায় ভিটেবাড়িতে আমাকে থাকতে সিদ্ধান্ত দেন এবং আমি সেখানেই আছি। কিন্তু আমার বড় ছেলে তার ভাগ বিলান জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও ভিটেবাড়িতে ঘেরাবেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। ভাংচুর করে ক্ষয়ক্ষতি করছে। গাছ লাগাচ্ছে। আমি এর প্রতিকার চাই।

ট্যাগস :

সাতক্ষীরা মায়ের বসত ভিটায় ছেলের জবর দখল

আপডেট সময় : ১০:০৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

আশাশুনি উপজেলার উত্তর চাপড়ায় আপন মায়ের বসত ভিটায় ঘেরাবেড়া দিয়ে জবর দখল ও ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে আদালতে মামলা দায়েরের পর নিষেধাজ্ঞা ও মিমাংসার শর্তে জামিন পেয়েও পুনরায় জবর দখল ও হুমকী ধামকীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলার আরজি, বাদী হাসানুর রহমান ও মা আছিয়া খাতুন জানান, আছিয়ার স্বামীর মোট ১৮ বিঘা জমি রেখে ইন্তেকাল করেন। স্বামী ইন্তেকালের পূর্বে হারাহারি মতে সকলের মাঝে সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা করে যান। স্ত্রীকে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি দিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী একাই বসবাস করে আসছেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর সবাই এক সাথে বসে স্ত্রী, ২ পুত্র ও ৩ কন্যার মাঝে সর্ব সম্মতিতে ভিটেবাড়ির সাড়ে ৩ বিঘা জমির মধ্যে মা দেড় বিঘা ও এক বোনকে ২ বিঘা প্রদান করা হয়। মাকে বিলান ১০ কাঠা দেয়া হয়। বড় পুত্র মিজানুরকে বিলান (একই প্লটে মৎস্য ঘের) ৫ বিঘা, অন্য দুই বোনকে ৪ বিঘা ও ছোট ভাই হাসানকে ৫ বিঘা দেয়া হয়। সেই থেকে মা আছিয়া স্বামীর রেখে যাওয়া ঘরে বসবাস করে আসছেন।

গত ২৫ জানুয়ারী হঠাৎ করে বড় পুত্র মিজানুর সহযোগিদের নিয়ে ঘরবাড়ি, হাঁস মুরগি ও ছাগলের কোটা, রান্না ঘর ভাংচুর করে ও ঘরের সামনে দিয়ে ঘেরা দিয়ে জবর দখল করে নেয়। মা ২৮/১/২৫ তাং বিজ্ঞ আমলী আদালত ০৮ সাতক্ষীরায় মামলা দায়ের করলে মিমাংসার শর্তে আসামীদের জামিন মঞ্জুর করা হয়। কিন্তু আসামীরা মীমাংসা না করে পুনরায় ঘেরা বেড়া দেয়া, ভাংচুর ও গাছ গাছালী রোপন করতে থাকে।
বাধ্য হয়ে ছোট ছেলে হাসানুর বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত সাতক্ষীরায় দেং ৫৩/২৫ মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হবেনা নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন। বাদী জানান, এতকিছুর পরও আসামীরা জবাব না দিয়ে জবর দখল, ভাংচুর, নতুন গাছ লাগানোসহ মাকে হুমকী ধামকী ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে যাচ্ছে।

মা আছিয়া খাতুন জানান, আমার স্বামী জীবিত অবস্থায় ভিটেবাড়িতে আমাকে থাকতে সিদ্ধান্ত দেন এবং আমি সেখানেই আছি। কিন্তু আমার বড় ছেলে তার ভাগ বিলান জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও ভিটেবাড়িতে ঘেরাবেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। ভাংচুর করে ক্ষয়ক্ষতি করছে। গাছ লাগাচ্ছে। আমি এর প্রতিকার চাই।