ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

জলমগ্ন ঘরে ছকিনার দিনযাপন

প্রদীপ রায় জিতু- বীরগঞ্জ:
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫ ১২৬ বার পঠিত

Oplus_131072

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মোছাঃ ছকিনা খাতুন একজন বিধবা, বয়স প্রায় ৬০ ছুঁই ছুঁই। তাঁর কপালে নেই সুখ,ঘর বলে যা কিছু আছে তা শুধুই নামমাত্র।

ছেঁড়া পুরনো টিনের ছাউনি আর কাঠের ভাঙা বেড়ায় ঘেরা একটি ছোট ঘরই তাঁর ঠিকানা। বর্ষা এলেই তাঁর দুঃখ আরও বেড়ে যায়। টিনের ছিদ্র দিয়ে অনবরত পানি পড়ে,মেঝেতে পানি জমে। ভেতরে থাকা খাট, বিছানা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবই ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।

স্বামী মারা গেছেন প্রায় ২৫ বছর আগে। সংসার চালাতে গিয়ে আজ আর কিছুই অবশিষ্ট নেই ছকিনা খাতুনের। দিন চলে কোনো রকমে মানুষের বাড়ি গিয়ে কাজ করে,কেউ সাহায্য দিলে খায়, না হলে উপোসই থেকে যান। বয়সের ভারে কাজও এখন ঠিকমতো হয় না, তবুও পেটের দায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান।

ছকিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,বৃষ্টির সময় তো ঘরেই দাঁড়ানো যায় না। পানি এমন পড়ে যে মনে হয় ঘরের ভেতরেই মেঘ ছুঁয়ে বৃষ্টি পড়ছে। রাতের বেলা ভিজে ভিজে ঘুমাতে হয়। ঘর ঠিক করার মতো কপাল আমার নাই রে বাবা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.নাদের আলী বলেন,ছকিনা খাতুন অনেক দিন ধরেই খুব কষ্টে আছেন। আমরা প্রতিবেশী হিসেবে মাঝে মাঝে সাহায্য করি, কিন্তু তা দিয়ে কি চলে? সরকারিভাবে একটা ঘর পেলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁইটা হতো।

আরেকজন বাসিন্দা জাহানারা বেগম বলেন,বৃষ্টি হলেই আমরা গিয়ে দেখি তাঁর ঘরের ভেতর সব ভিজে যায়। একজন নারী হয়ে এত কষ্টের মধ্যে কিভাবে বেঁচে আছেন ভাবলেই কষ্ট হয়।

৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল জলিল বলেন,ছকিনা খাতুনের বিষয়টি আমরা জানি। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কিছু খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর জন্য একটি সরকারি ঘর বরাদ্দের চেষ্টা করছি। আশা করছি শিগগিরই ব্যবস্থা হবে।

ভোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাজিউর ইসলাম রাজু বলেন,আমাদের ইউনিয়নে অনেক অসহায় মানুষ রয়েছে, তবে ছকিনা খাতুনের অবস্থা খুবই করুণ। আমি নিজে দেখেছি তাঁর ঘরের অবস্থা। আগামী বরাদ্দে তাঁকে একটি ঘর দেওয়ার সুপারিশ উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাবো। মানবিক কারণে তাঁকে সহযোগিতা করা দরকার।

বীরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আহমেদ বলেন,বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ছকিনা খাতুনের মতো অসহায় ব্যক্তিদের জন্য আমাদের সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। দ্রুত যাচাই করে তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জলমগ্ন ঘরে ছকিনার দিনযাপন

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মোছাঃ ছকিনা খাতুন একজন বিধবা, বয়স প্রায় ৬০ ছুঁই ছুঁই। তাঁর কপালে নেই সুখ,ঘর বলে যা কিছু আছে তা শুধুই নামমাত্র।

ছেঁড়া পুরনো টিনের ছাউনি আর কাঠের ভাঙা বেড়ায় ঘেরা একটি ছোট ঘরই তাঁর ঠিকানা। বর্ষা এলেই তাঁর দুঃখ আরও বেড়ে যায়। টিনের ছিদ্র দিয়ে অনবরত পানি পড়ে,মেঝেতে পানি জমে। ভেতরে থাকা খাট, বিছানা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবই ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।

স্বামী মারা গেছেন প্রায় ২৫ বছর আগে। সংসার চালাতে গিয়ে আজ আর কিছুই অবশিষ্ট নেই ছকিনা খাতুনের। দিন চলে কোনো রকমে মানুষের বাড়ি গিয়ে কাজ করে,কেউ সাহায্য দিলে খায়, না হলে উপোসই থেকে যান। বয়সের ভারে কাজও এখন ঠিকমতো হয় না, তবুও পেটের দায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান।

ছকিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,বৃষ্টির সময় তো ঘরেই দাঁড়ানো যায় না। পানি এমন পড়ে যে মনে হয় ঘরের ভেতরেই মেঘ ছুঁয়ে বৃষ্টি পড়ছে। রাতের বেলা ভিজে ভিজে ঘুমাতে হয়। ঘর ঠিক করার মতো কপাল আমার নাই রে বাবা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.নাদের আলী বলেন,ছকিনা খাতুন অনেক দিন ধরেই খুব কষ্টে আছেন। আমরা প্রতিবেশী হিসেবে মাঝে মাঝে সাহায্য করি, কিন্তু তা দিয়ে কি চলে? সরকারিভাবে একটা ঘর পেলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁইটা হতো।

আরেকজন বাসিন্দা জাহানারা বেগম বলেন,বৃষ্টি হলেই আমরা গিয়ে দেখি তাঁর ঘরের ভেতর সব ভিজে যায়। একজন নারী হয়ে এত কষ্টের মধ্যে কিভাবে বেঁচে আছেন ভাবলেই কষ্ট হয়।

৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল জলিল বলেন,ছকিনা খাতুনের বিষয়টি আমরা জানি। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কিছু খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর জন্য একটি সরকারি ঘর বরাদ্দের চেষ্টা করছি। আশা করছি শিগগিরই ব্যবস্থা হবে।

ভোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাজিউর ইসলাম রাজু বলেন,আমাদের ইউনিয়নে অনেক অসহায় মানুষ রয়েছে, তবে ছকিনা খাতুনের অবস্থা খুবই করুণ। আমি নিজে দেখেছি তাঁর ঘরের অবস্থা। আগামী বরাদ্দে তাঁকে একটি ঘর দেওয়ার সুপারিশ উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাবো। মানবিক কারণে তাঁকে সহযোগিতা করা দরকার।

বীরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আহমেদ বলেন,বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ছকিনা খাতুনের মতো অসহায় ব্যক্তিদের জন্য আমাদের সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। দ্রুত যাচাই করে তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।