ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

সাভার হানাদার মুক্ত দিবস পালিত – শ্রদ্ধা নিবেদন

মাসুদুর রহমান রুবেল-সাভার (ঢাকা):
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬২ বার পঠিত

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। তবে এর দুদিন আগেই ১৪ ডিসেম্বর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে হানাদার মুক্ত হয় সাভার-আশুলিয়া। দিবসটি উপলক্ষে শহীদ গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটোর সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সাভার-আশুলিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সাভারের ডেইরি গেট এলাকায় শহীদ টিটোর সমাধিস্থলে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সমাধিস্থলটি ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন কালে উপস্থিত ছিলেন, আশুলিয়া প্রেসক্লাবে আহবায়ক মোহাম্মদ লোকমান হোসেন চৌধুরী খোকা ও সদস্য সচিব সোহেল রানাসহ স্থানীয় এক ঝাঁক গণমাধ্যম কর্মীরা। 

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোহাম্মদ লোকমান হোসেন চৌধুরী খোকা বলেন, আজকের এই দিনে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ গোলাম দস্তগীর টিটোর বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে সাভার হানাদার মুক্ত হয়েছিল। কিন্তু বিজয়ের এতো বছর পরেও জাতির বীর সন্তানের এই সমাধিটিতে ধুলো-বালি জন্মে অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে আজ আমরা শ্রদ্ধা জানাতে এসে নিজেরাই সমাধিটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করেছি। তাই আমি দাবি জানাই এই বীর শহিদ মুক্তিযোদ্ধার কবরটি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্থানান্তর করা হয়।

এসময় আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব মো. সোহেল রানা বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধের কাছাকাছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেইটে এই কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সমাধি থাকলেও দুঃখের বিষয় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের এই হানাদার মুক্ত দিবস পালনের কোনো উদ্যোগ নেই। তাই আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাঙ্গাইল থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর পাক হানাদার বাহিনীর একটি দল ১৪ ডিসেম্বর সকালে সাভার ও আশুলিয়ায় ঘাঁটি নির্মাণ করে।

খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ঘোষবাগ এলাকার শ্রীগঙ্গা কাঁঠালবাগানে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকবাহিনীর মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ শুরু হয়।

প্রায় কয়েক ঘণ্টা যুদ্ধের পর পাকবাহিনীরা পালাতে শুরু করে। এসময় শত্রু হত্যার সাফল্যে উচ্ছাসিত হয়ে বাংলা মায়ের দামাল ছেলে গোলাম দস্তগীর টিটো সহযোদ্ধাদের নিষেধ উপেক্ষা করে গুলি করতে করতে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ একঝাঁক বুলেটের আঘাত থামিয়ে দেয় কিশোর টিটোর প্রাণ। মুহূর্তেই মাটির কোলে লুটিয়ে পড়ে টিটোর সাহসী দেহ। টিটোর জীবনের বিনিময়ে শত্রুমুক্ত হয় সাভার-আশুলিয়া। 

সেই থেকেই এই দিনটিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে আসছে সাভার-আশুলিয়ার সংবাদকর্মীসহ সচেতন নাগরিকরা।

সাভার হানাদার মুক্ত দিবস পালিত – শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। তবে এর দুদিন আগেই ১৪ ডিসেম্বর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে হানাদার মুক্ত হয় সাভার-আশুলিয়া। দিবসটি উপলক্ষে শহীদ গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটোর সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সাভার-আশুলিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সাভারের ডেইরি গেট এলাকায় শহীদ টিটোর সমাধিস্থলে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সমাধিস্থলটি ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন কালে উপস্থিত ছিলেন, আশুলিয়া প্রেসক্লাবে আহবায়ক মোহাম্মদ লোকমান হোসেন চৌধুরী খোকা ও সদস্য সচিব সোহেল রানাসহ স্থানীয় এক ঝাঁক গণমাধ্যম কর্মীরা। 

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোহাম্মদ লোকমান হোসেন চৌধুরী খোকা বলেন, আজকের এই দিনে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ গোলাম দস্তগীর টিটোর বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে সাভার হানাদার মুক্ত হয়েছিল। কিন্তু বিজয়ের এতো বছর পরেও জাতির বীর সন্তানের এই সমাধিটিতে ধুলো-বালি জন্মে অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে আজ আমরা শ্রদ্ধা জানাতে এসে নিজেরাই সমাধিটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করেছি। তাই আমি দাবি জানাই এই বীর শহিদ মুক্তিযোদ্ধার কবরটি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্থানান্তর করা হয়।

এসময় আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব মো. সোহেল রানা বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধের কাছাকাছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেইটে এই কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সমাধি থাকলেও দুঃখের বিষয় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের এই হানাদার মুক্ত দিবস পালনের কোনো উদ্যোগ নেই। তাই আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাঙ্গাইল থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর পাক হানাদার বাহিনীর একটি দল ১৪ ডিসেম্বর সকালে সাভার ও আশুলিয়ায় ঘাঁটি নির্মাণ করে।

খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ঘোষবাগ এলাকার শ্রীগঙ্গা কাঁঠালবাগানে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকবাহিনীর মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ শুরু হয়।

প্রায় কয়েক ঘণ্টা যুদ্ধের পর পাকবাহিনীরা পালাতে শুরু করে। এসময় শত্রু হত্যার সাফল্যে উচ্ছাসিত হয়ে বাংলা মায়ের দামাল ছেলে গোলাম দস্তগীর টিটো সহযোদ্ধাদের নিষেধ উপেক্ষা করে গুলি করতে করতে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ একঝাঁক বুলেটের আঘাত থামিয়ে দেয় কিশোর টিটোর প্রাণ। মুহূর্তেই মাটির কোলে লুটিয়ে পড়ে টিটোর সাহসী দেহ। টিটোর জীবনের বিনিময়ে শত্রুমুক্ত হয় সাভার-আশুলিয়া। 

সেই থেকেই এই দিনটিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে আসছে সাভার-আশুলিয়ার সংবাদকর্মীসহ সচেতন নাগরিকরা।