সাভারের আকাশ হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি হৃদয়সহ গ্রেপ্তার ৮
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪ ২৮৫ বার পঠিত

সাভারের আকাশ হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি হৃদয় গ্রুপের প্রধান, সন্ত্রাসী হৃদয় হোসেন ওরফে গিয়ার হৃদয়সহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ৪ এর একটি আভিযানিক দল। এসময় তাদের হেফাজত বিপুল পরিমাণ দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-ঢাকার জেলার সাভারের মোঃ সেলিম হোসেনের ছেলে হৃদয় গ্রুপের প্রধান মোঃ হৃদয় হোসেন ওরফে গিয়ার হৃদয়(২৪), মৃত আরিবুল্লাহ ছেলে নাসির উদ্দিন নাসু ওরফে বাবা নাসু (৫২), নাসির উদ্দিন নাসু ওরফে বাবা নাসুর ছেলে আমির হামজা (২১), মোঃ আইয়ব আলি এর ছেলে মোঃ জাকির হোসেন রনি (৩০),
মোঃ মতিউর রহমান এর ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহেদ (৩৬), কুষ্টিয়া কুমারখালীর মৃত মফিজুল হক রনির ছেলে মোঃ আবিরুল হক আবির ওরফে কাটা আবির (২৪), মানিকগঞ্জ জেলার সিংড়া উপজেলার মোঃ নাছির খন্দকারের ছেলে মোঃ আরিয়ান আহম্মেদ জয় ওরফে ড্যাগার আরিয়ান (২৩), ও জোবায়ের হাসান খন্দকার ওরফে পাইটু জোবায়ের (১৯)

সোমবার (২৫ মার্চ) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তাতাররা ঢাকার সাভার এলাকার ‘হৃদয় গ্রুপে’র সদস্য। তারা এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তাদের গ্রুপে ১০-১৫ জন সদস্য রয়েছে।
র্যাবের মুখপাত্র আরও বলেন, বিগত ৪-৫ বছর ধরে হৃদয়ের নেতৃত্বে ‘হৃদয় গ্রুপ’ পরিচালিত হয়ে আসছে। গ্রেপ্তারকৃতরা এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা একাকী পথচারীদের আকস্মিকভাবে ঘিরে ধরে চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তাদের আয়ের অন্যতম উৎস ছিল সাভার এলাকায় নির্মাণকাজে চাঁদাবাজি। প্রায়ই মাদকসেবন ও মাদক কেনা-বেচাসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতো বলে জানা যায়। গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন সময় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবেও কাজ করতো।
কমান্ডার খন্দকার মঈন বলেন, আসামিরা আড়পাড়া এলাকায় একটি বাসায় ডিজে পার্টির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে একটি মোবাইল হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র মোবাইল চুরির অভিযোগে দুই যুবককে মারধর করে।
পরবর্তী সময়ে ঘটনার জের ধরে সাভারের একটি খাবার হোটেলের ভেতর ‘হৃদয় গ্রুপ’ ও ‘পিনিক রাব্বি গ্রুপের’ সংঘর্ষে আকাশকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। গ্রেফতাররা পূর্বশত্রুতার জের ধরে ছিনতাই করা টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে গত ২২ মার্চ আমজাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর জখম করে সাভার এলাকার সবুজবাগ পুকুর পাড়ে ফেলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে জড়িতরা আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়।
গ্রেপ্তার গিয়ার হৃদয় সাভার এলাকায় ৪-৫ বছর ধরে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পরিচালনা করে আসছিল। সে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতো এবং একই সঙ্গে গ্রুপেরও নেতৃত্ব দিতো। সাভারের এনাম মেডিকেলের সামনে জনসম্মুখে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষে নিহত আকাশ হত্যা মামলার এক নম্বর পলাতক আসামি এই হৃদয়।
এছাড়া হৃদয়ের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মাদক, হত্যা ও ছিনতাইসহ ৬টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, গ্রেপ্তার ড্যাগার আরিয়ান গিয়ার হৃদয়ের অন্যতম সহযোগী। সে এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত। তার সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য এলাকায় তাকে সবাই ড্যাগার আরিয়ান বলে চিনতো। তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার নাসির উদ্দিন ওরফে বাবা নাসু গিয়ার হৃদয় গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। সে গত ২১ মার্চ রাতে সাভারের সোবাহানবাগ এলাকায় আমজাদ হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি ও হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার আবিরুল ওরফে কাটা আবির, আমির হামজা ও জোবায়ের ওরফে পাইটু জুবায়ের হৃদয় গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তার জাহিদুল হৃদয় গ্রুপের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে হৃদয় গ্রুপের সদস্যদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করতো বলে তাকে সবাই গ্রুপটির উপদেষ্টা বলতো। সে কষ্টি পাথর ও ধাতব মুদ্রা প্রতারণার সাথেও জড়িত। এছাড়াও সে বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে ভুয়া পাথরের মূর্তি দেখিয়ে, কষ্টি পাথর বিক্রির কথা বলে তার সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে তাদেরকে জিম্মি করে সর্বস্ব হাতিয়ে নিত। তার বিরুদ্ধে ইতঃপূর্বে বিভিন্ন থানায় ৬-৭টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেপ্তার জাকির হোসেন রনি ওরফে মেশিন রনি হৃদয় গ্রুপের অন্যতম সদস্য। সে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন হৃদয়ের নিকট থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করে এবং এই অস্ত্র বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভাড়া দিতো। যে কারণে তাকে মেশিন রনি হিসেবে চেনে। তার বিরুদ্ধে সাভার থানায় হত্যা মামলা রয়েছে।




















