ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

শেরপুর প্রেসক্লাবে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় নিন্দা, জড়িত কর্মকর্তা-সদস্যদের শোকজ

শেখ সাইদ আহমেদ সাবাব-শেরপুর:
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০২৩ ২৩৭ বার পঠিত

শেরপুর প্রেসক্লাবে কালো তালিকাভুক্ত তথাকথিত কতিপয় গণমাধ্যমকর্মীদের সদস্যপদ দাবি আদায়ের নামেণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

সেইসাথে ওই ঘটনায় জড়িত নির্বাহী পরিষদের ২ জন কর্মকর্তা যথাক্রমে ও কতিপয় সাধারণ সদস্যকে কেন সংগঠন ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৩১ মে বুধবার রাতে প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভায় ওইসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজ উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা, সহসভাপতি এসএম শহিদুল ইসলাম ও আছাদুজ্জামান মুরাদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জল ও মহিউদ্দিন সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক দত্ত, সিনিয়র সদস্য এমএ হাকাম
হীরা, দেবাশীষ সাহা রায়, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মারুফুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহেল রানা, সাহিত্য
ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হাসান রাব্বী, প্রচার সম্পাদক জুবাইদুল ইসলাম, সদস্য রেদওয়ানুল হক আবীর উপস্থিত থেকে মতামত ব্যক্ত করেন।

সভায় ক্লাবের সভাপতি শরিফুর রহমান উদ্ভুত অবস্থায় দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, আমাদের দায়িত্বের ২ মেয়াদে ক্লাবের গঠনতন্ত্রের কোন সংশোধন করা হয়নি। আর
গঠনতন্ত্র মোতাবেক আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা নির্ধারিত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যেই নতুন কমিটির হাতে
দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চাই। যারা নির্বাচনকে ভয় পায় তারাই নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আগামী ১০ জুনের মধ্যে সদস্য নবায়নকার্যক্রম সম্পন্ন হলে সাধারণ পরিষদের সভা আহ্বান করা হবে। সাধারণ
পরিষদের সভায়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তার বক্তব্যে একমত পোষণ করে সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন বলেন, ইতিপূর্বে নির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কতিপয় তথাকথিত গণমাধ্যমকর্মীদের কালো তালিকাভূক্ত এবং সর্বশেষ সভায় তাদের সহযোগী সদস্য না করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরেও তাদের সহযোগী সদস্যপদ দেওয়ার দাবি আদায়ের নামে আমাদের নির্বাহী পরিষদের দুইজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে কতিপয় সাধারণ সদস্য বহিরাগতদের নিয়ে ক্লাবে সামনে মানববন্ধনের নামে যে বিশৃঙ্খলা করেছেন, তা নিন্দনীয় ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজ।

ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, শেরপুর প্রেসক্লাবে আমরা দায়িত্বে থাকার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি ওঠানোর সময় যারা বিরোধিতা করেছেন, এখন তারাই বঙ্গন্ধুর সৈনিক সেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছেন, যা কারোরই প্রত্যাশা নয়। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক
গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই সদস্য নবায়ন ও আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে নবাগত সাংবাদিকদের সহযোগী সদস্য করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ
জানাই। তারা ক্লাবের সাধারণ পরিষদের সভা আহ্বানসহ কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচনের দ্রুত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সুন্দর পরিবেশকে অসুন্দর করতে যারা অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, আনতে হবে শাস্তির আওতায়।

একই কথা প্রকাশ করে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা বলেন,নির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা হয়েও যারা কালো তালিকাভূক্তদের পুনর্বাসনের চেষ্টার নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তারা অভ্যাসগত বিশৃঙ্খলা
সৃষ্টিকারী। এরা ক্লাবের ঐতিহ্যসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হরহামেশাই নামে-বেনামে অভিযোগ দিয়ে তোপের মুখে পড়লেও পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই থামছে না। কাজেই এদের আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সভায় উপস্থিত ওই ২ কর্মকর্তা ব্যতীত প্রায় সবাই একই মত পোষণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে বিকেলে কালো তালিকাভুক্ত তথাকথিত কতিপয় গণমাধ্যমকর্মী সদস্যপদ দাবি আদায়ের নামে শেরপুর প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্লাবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে সভাপতি ও সাবেক সভাপতিসহ কর্মকর্তা ও সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ট্যাগস :

শেরপুর প্রেসক্লাবে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় নিন্দা, জড়িত কর্মকর্তা-সদস্যদের শোকজ

আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০২৩

শেরপুর প্রেসক্লাবে কালো তালিকাভুক্ত তথাকথিত কতিপয় গণমাধ্যমকর্মীদের সদস্যপদ দাবি আদায়ের নামেণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

সেইসাথে ওই ঘটনায় জড়িত নির্বাহী পরিষদের ২ জন কর্মকর্তা যথাক্রমে ও কতিপয় সাধারণ সদস্যকে কেন সংগঠন ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৩১ মে বুধবার রাতে প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভায় ওইসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজ উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা, সহসভাপতি এসএম শহিদুল ইসলাম ও আছাদুজ্জামান মুরাদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জল ও মহিউদ্দিন সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক দত্ত, সিনিয়র সদস্য এমএ হাকাম
হীরা, দেবাশীষ সাহা রায়, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মারুফুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহেল রানা, সাহিত্য
ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হাসান রাব্বী, প্রচার সম্পাদক জুবাইদুল ইসলাম, সদস্য রেদওয়ানুল হক আবীর উপস্থিত থেকে মতামত ব্যক্ত করেন।

সভায় ক্লাবের সভাপতি শরিফুর রহমান উদ্ভুত অবস্থায় দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, আমাদের দায়িত্বের ২ মেয়াদে ক্লাবের গঠনতন্ত্রের কোন সংশোধন করা হয়নি। আর
গঠনতন্ত্র মোতাবেক আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা নির্ধারিত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যেই নতুন কমিটির হাতে
দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চাই। যারা নির্বাচনকে ভয় পায় তারাই নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আগামী ১০ জুনের মধ্যে সদস্য নবায়নকার্যক্রম সম্পন্ন হলে সাধারণ পরিষদের সভা আহ্বান করা হবে। সাধারণ
পরিষদের সভায়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তার বক্তব্যে একমত পোষণ করে সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন বলেন, ইতিপূর্বে নির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কতিপয় তথাকথিত গণমাধ্যমকর্মীদের কালো তালিকাভূক্ত এবং সর্বশেষ সভায় তাদের সহযোগী সদস্য না করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরেও তাদের সহযোগী সদস্যপদ দেওয়ার দাবি আদায়ের নামে আমাদের নির্বাহী পরিষদের দুইজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে কতিপয় সাধারণ সদস্য বহিরাগতদের নিয়ে ক্লাবে সামনে মানববন্ধনের নামে যে বিশৃঙ্খলা করেছেন, তা নিন্দনীয় ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজ।

ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, শেরপুর প্রেসক্লাবে আমরা দায়িত্বে থাকার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি ওঠানোর সময় যারা বিরোধিতা করেছেন, এখন তারাই বঙ্গন্ধুর সৈনিক সেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছেন, যা কারোরই প্রত্যাশা নয়। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক
গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই সদস্য নবায়ন ও আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে নবাগত সাংবাদিকদের সহযোগী সদস্য করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ
জানাই। তারা ক্লাবের সাধারণ পরিষদের সভা আহ্বানসহ কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচনের দ্রুত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সুন্দর পরিবেশকে অসুন্দর করতে যারা অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, আনতে হবে শাস্তির আওতায়।

একই কথা প্রকাশ করে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা বলেন,নির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা হয়েও যারা কালো তালিকাভূক্তদের পুনর্বাসনের চেষ্টার নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তারা অভ্যাসগত বিশৃঙ্খলা
সৃষ্টিকারী। এরা ক্লাবের ঐতিহ্যসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হরহামেশাই নামে-বেনামে অভিযোগ দিয়ে তোপের মুখে পড়লেও পার পেয়ে যাচ্ছে বলেই থামছে না। কাজেই এদের আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সভায় উপস্থিত ওই ২ কর্মকর্তা ব্যতীত প্রায় সবাই একই মত পোষণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে বিকেলে কালো তালিকাভুক্ত তথাকথিত কতিপয় গণমাধ্যমকর্মী সদস্যপদ দাবি আদায়ের নামে শেরপুর প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্লাবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে সভাপতি ও সাবেক সভাপতিসহ কর্মকর্তা ও সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।