ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

যশোরে প্রবাসীর শিশুকন্যা আমেনা হত্যার রহস্য উদঘাটন,দায় স্বীকার করে আদালতে মায়ের জবানবন্দি

ইয়াছিন আরাফাত -স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩ ২৭০ বার পঠিত

যশোরে প্রবাসীর শিশুকন্যা আমেনা হত্যার রহস্য উদঘাটন,দায় স্বীকার করে আদালতে মায়ের জবানবন্দি
যশোর সদরের কিসমত রাজাপুরে প্রবাসী মজনু খাঁর শিশুকন্যা আমেনা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মা রোজিনা বেগম। পড়াশোনা না করায় মেয়ের ঘাঁড় মটকে দিলে মৃত্যুাকোলে ঢলে পড়ে আমেনা। এ সময় নিজে বাঁচতে মেয়ের গলায় ফাঁস দিয়ে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেন রোজিনা বেগম।

গত ২৫ জুলাই বিকেলে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তবে আত্মহত্যার প্রচার দিলেও স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেন। এক পর্যায় ইছালী ক্যাম্প পুলিশ রোজিনা বেগমকে হেফাজতে নেয়। কিন্তু পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একই দাবি করেন। পরে নিহত আমেনার দাদী থানায় এজাহার দেন। সেখানে তিনি অভিযোগে বলেন-ছেলে মজনু খাঁ প্রবাসে থাকায় আমেনার মা রোজিনা বেগম বাঘারপাড়ার গ্রাম্য ডাক্তার মজনুর সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমেনা বিষয়টি জানালে তিনি বউমাকে বিষয়টি জানান কিন্তু রোজিনা উল্টো তাকে শাসিয়ে থামিয়ে রাখেন। তিনি এজাহারে বলেন-পরকীয়া প্রেমিক মজনু রোজিনার সহায়তায় আমেনাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। মামলা রেকর্ডের পর পুলিশ ২৭ জুলাই বাঘারপাড়ার মজনু ও রোজিনাকে আটক করে কিন্তু তারা স্বীকার না করায় আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠায়। পরে আদালত একদিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করলে থানা ও ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে রোজিনা মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

শুক্রবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল রোজিনার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই একরামুল হুদা জানান, আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে রোজিনা জানিয়েছেন, গত ২৫ জুলাই বিকেল ৪টায় আমেনা প্রাইভেট পড়তে যায়। শিক্ষক অসুস্থ থাকায় না পড়ে বাড়িতে চলে আসে সে। সময় রোজিনা প্রতিবেশী ডালিমের বাড়ির সামনে গল্প করছিলেন। সেসময় সেখানে যায় আমেনা। আমেনাকে বাড়িতে যেয়ে পড়তে বসতে বলেন মা রোজিনা। কিন্তু আমেনা মায়ের কথা শোনেনি। এক পর্যায়ে রাগ করে আমেনাকে বাড়িতে পাঠিয়ে পড়তে বসতে বলেন মা। একঘণ্টা পর রোজিনা বাড়িতে এসে দেখেন আমেনা পড়তে বসেনি। পড়তে না বসাার কারণ জানতে চাইলে তারও কোনো উত্তর দেয় না। এতে রেগে রোজিনা দুই হাত দিয়ে মেয়ের মাথা ধরে মটকে দেন। এ সময় মুত্যুকোলে ঢলে পড়ে আমেনা। এতে ভয় পেয়ে যান রোজিনা। মেয়ের মৃতুশোক থেকে নিজের জীবনাশঙ্কায় পড়েন তিনি। নিজে বাঁচতে গলায় দড়ি গলায় পেঁচিয়ে আড়ার সাথে আমেনার মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেন।
জবানবন্দিতে রোজিনা আরও বলেছেন, তিনি নিজেকে বাঁচানোর জন্য লোকজনকে আত্মহত্যার কথাটি বলেছিলেন।

এ বিষয়ে ডিবির এলআইসি টিমের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার তারা রোজিনাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। প্রাকটিক্যালি কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছিল সে বিষয়টি জানান রোজিনা। রোজিনার দেয়া তথ্য যাচাইয়ে এলাকাবাসীর সাথে তারা কথা বলেন। ধর্ষণ কিংবা আটক অপর আসামি মজনুর সেসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়টি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে আরও উঠেছে তিন বছর বয়সে শিশু আমেনা স্থানীয় এক কিশোর কর্তৃক যৌন নিপিড়নের শিকার হয়। যা স্থানীয়রা সালিশের মাধ্যমে মিমাংসা করে দেন।
মফিজুল ইসলাম আরও জানান, মজনুর এঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। যদি প্রমাণ পাওয়া না যায়, তাহলে চার্জশিটে মজনুকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হবে।
এরআগে নিহত আমেনার দাদী মর্জিনা থানায় মামলা করেন। পরে স্থানীয়রা প্রেসক্লবা যশোরে রোজিনা ও মজনুর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেন।
অন্যদিকে এ মামলার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ আদালতে দুই আসামির রিমান্ডের আবেদন জানায়। আদালত রোজিনার একদিনের ও মজনুর দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুক্রবার রোজিনাকে নিয়ে ডিবির এলআইসি টিমের এসআই মফিজুর রহমান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই একরামুল হুদা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রোজিনা ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে রোজিনার দেওয়া আদালতে জবানবন্দির সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগস :

যশোরে প্রবাসীর শিশুকন্যা আমেনা হত্যার রহস্য উদঘাটন,দায় স্বীকার করে আদালতে মায়ের জবানবন্দি

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩

যশোরে প্রবাসীর শিশুকন্যা আমেনা হত্যার রহস্য উদঘাটন,দায় স্বীকার করে আদালতে মায়ের জবানবন্দি
যশোর সদরের কিসমত রাজাপুরে প্রবাসী মজনু খাঁর শিশুকন্যা আমেনা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মা রোজিনা বেগম। পড়াশোনা না করায় মেয়ের ঘাঁড় মটকে দিলে মৃত্যুাকোলে ঢলে পড়ে আমেনা। এ সময় নিজে বাঁচতে মেয়ের গলায় ফাঁস দিয়ে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেন রোজিনা বেগম।

গত ২৫ জুলাই বিকেলে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। তবে আত্মহত্যার প্রচার দিলেও স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেন। এক পর্যায় ইছালী ক্যাম্প পুলিশ রোজিনা বেগমকে হেফাজতে নেয়। কিন্তু পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একই দাবি করেন। পরে নিহত আমেনার দাদী থানায় এজাহার দেন। সেখানে তিনি অভিযোগে বলেন-ছেলে মজনু খাঁ প্রবাসে থাকায় আমেনার মা রোজিনা বেগম বাঘারপাড়ার গ্রাম্য ডাক্তার মজনুর সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমেনা বিষয়টি জানালে তিনি বউমাকে বিষয়টি জানান কিন্তু রোজিনা উল্টো তাকে শাসিয়ে থামিয়ে রাখেন। তিনি এজাহারে বলেন-পরকীয়া প্রেমিক মজনু রোজিনার সহায়তায় আমেনাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। মামলা রেকর্ডের পর পুলিশ ২৭ জুলাই বাঘারপাড়ার মজনু ও রোজিনাকে আটক করে কিন্তু তারা স্বীকার না করায় আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠায়। পরে আদালত একদিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করলে থানা ও ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে রোজিনা মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

শুক্রবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল রোজিনার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই একরামুল হুদা জানান, আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে রোজিনা জানিয়েছেন, গত ২৫ জুলাই বিকেল ৪টায় আমেনা প্রাইভেট পড়তে যায়। শিক্ষক অসুস্থ থাকায় না পড়ে বাড়িতে চলে আসে সে। সময় রোজিনা প্রতিবেশী ডালিমের বাড়ির সামনে গল্প করছিলেন। সেসময় সেখানে যায় আমেনা। আমেনাকে বাড়িতে যেয়ে পড়তে বসতে বলেন মা রোজিনা। কিন্তু আমেনা মায়ের কথা শোনেনি। এক পর্যায়ে রাগ করে আমেনাকে বাড়িতে পাঠিয়ে পড়তে বসতে বলেন মা। একঘণ্টা পর রোজিনা বাড়িতে এসে দেখেন আমেনা পড়তে বসেনি। পড়তে না বসাার কারণ জানতে চাইলে তারও কোনো উত্তর দেয় না। এতে রেগে রোজিনা দুই হাত দিয়ে মেয়ের মাথা ধরে মটকে দেন। এ সময় মুত্যুকোলে ঢলে পড়ে আমেনা। এতে ভয় পেয়ে যান রোজিনা। মেয়ের মৃতুশোক থেকে নিজের জীবনাশঙ্কায় পড়েন তিনি। নিজে বাঁচতে গলায় দড়ি গলায় পেঁচিয়ে আড়ার সাথে আমেনার মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেন।
জবানবন্দিতে রোজিনা আরও বলেছেন, তিনি নিজেকে বাঁচানোর জন্য লোকজনকে আত্মহত্যার কথাটি বলেছিলেন।

এ বিষয়ে ডিবির এলআইসি টিমের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার তারা রোজিনাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। প্রাকটিক্যালি কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছিল সে বিষয়টি জানান রোজিনা। রোজিনার দেয়া তথ্য যাচাইয়ে এলাকাবাসীর সাথে তারা কথা বলেন। ধর্ষণ কিংবা আটক অপর আসামি মজনুর সেসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়টি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে আরও উঠেছে তিন বছর বয়সে শিশু আমেনা স্থানীয় এক কিশোর কর্তৃক যৌন নিপিড়নের শিকার হয়। যা স্থানীয়রা সালিশের মাধ্যমে মিমাংসা করে দেন।
মফিজুল ইসলাম আরও জানান, মজনুর এঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। যদি প্রমাণ পাওয়া না যায়, তাহলে চার্জশিটে মজনুকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হবে।
এরআগে নিহত আমেনার দাদী মর্জিনা থানায় মামলা করেন। পরে স্থানীয়রা প্রেসক্লবা যশোরে রোজিনা ও মজনুর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেন।
অন্যদিকে এ মামলার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ আদালতে দুই আসামির রিমান্ডের আবেদন জানায়। আদালত রোজিনার একদিনের ও মজনুর দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুক্রবার রোজিনাকে নিয়ে ডিবির এলআইসি টিমের এসআই মফিজুর রহমান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই একরামুল হুদা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রোজিনা ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে রোজিনার দেওয়া আদালতে জবানবন্দির সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।