ঢাকা ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

মহেশপুরে করাত কলের ব্যাপক অনিয়মে বাড়ছে পরিবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

শহিদুল ইসলাম,মহেশপুর (ঝিনাইদহ):
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৭১ বার পঠিত

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে বিপুল সংখ্যক করাত কল কাঠ চিরায় করা (স-মিল) পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে।

উপজেলার বারোটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাজুড়ে যেসব করাত কল চালু রয়েছে,তার অধিকাংশই অনুমোদনবিহীন এবং “বন শিল্প (করাত কল) নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০১২”–এর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ। লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেট ও ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন কাঠ কাটা, বিক্রি ও পরিবহনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বেড়ে চলছে পরিবেশ দূষণ, শব্দদূষণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নজরদারির অভাবে অসাধু মালিকরা বসতবাড়ি, স্কুল-কলেজসংলগ্ন এলাকা ও বাজারঘেঁষে করাত কল গড়ে তুলেছে, যা আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে রাতে শব্দদূষণ বৃদ্ধি, কাঠের গুঁড়োর ধুলায় শ্বাসকষ্ট, শিশু ও বয়স্কদের অসুস্থতা এবং অগ্নিঝুঁকির কারণে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা সনদ ছাড়া কোনো করাত কল পরিচালনা করা যাবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাছির রহমান জানান, অনুমোদনহীন করাত কল পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং আইনগত অপরাধ; তাই মাঠপর্যায়ের যাচাই–বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তারও অনিয়ম বন্ধে কঠোর তদারকি ও আইনি উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, এসব করাত কলকে আইনের আওতায় আনা গেলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাবে এবং মহেশপুরের পরিবেশ ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম কাটিয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এবার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

মহেশপুরে করাত কলের ব্যাপক অনিয়মে বাড়ছে পরিবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে বিপুল সংখ্যক করাত কল কাঠ চিরায় করা (স-মিল) পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে।

উপজেলার বারোটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাজুড়ে যেসব করাত কল চালু রয়েছে,তার অধিকাংশই অনুমোদনবিহীন এবং “বন শিল্প (করাত কল) নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০১২”–এর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ। লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেট ও ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন কাঠ কাটা, বিক্রি ও পরিবহনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বেড়ে চলছে পরিবেশ দূষণ, শব্দদূষণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নজরদারির অভাবে অসাধু মালিকরা বসতবাড়ি, স্কুল-কলেজসংলগ্ন এলাকা ও বাজারঘেঁষে করাত কল গড়ে তুলেছে, যা আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে রাতে শব্দদূষণ বৃদ্ধি, কাঠের গুঁড়োর ধুলায় শ্বাসকষ্ট, শিশু ও বয়স্কদের অসুস্থতা এবং অগ্নিঝুঁকির কারণে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা সনদ ছাড়া কোনো করাত কল পরিচালনা করা যাবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাছির রহমান জানান, অনুমোদনহীন করাত কল পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং আইনগত অপরাধ; তাই মাঠপর্যায়ের যাচাই–বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তারও অনিয়ম বন্ধে কঠোর তদারকি ও আইনি উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, এসব করাত কলকে আইনের আওতায় আনা গেলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাবে এবং মহেশপুরের পরিবেশ ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম কাটিয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এবার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।