ঢাকা ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

ভোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের এডহক কমিটি নিয়ে বিতর্ক, নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট দোসর জাসদ নেতারা

আশিকুর রহমান শান্ত-ভোলা:
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫ ১২১ বার পঠিত

Oplus_0

ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন মহলে উক্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। চায়ের দোকান থেকে পাড়া মহল্লায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খানের স্বাক্ষরিত ১১ সদস্যের এই এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত এডহক কমিটিতে আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ রব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন সিকদার কে আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের ১৪ দলের অন্যতম সহযোগী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ ইনু) এর ভোলা জেলা সভাপতি ও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (ডামি নির্বাচন) সংসদ সদস্য প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনটিতে প্রধান দুটি পদে ফ্যাসিস্ট দোসরদের এভাবে পদায়ন করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগীদের পূর্ণবাসনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক মুক্তিযোদ্ধা জানান,এখানে ফ্যসিস্টদের পূর্ণবাসনের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। যারা স্বঘোষিত ও পুরো সমাজে ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে পরিচিত তাদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের সময়ও এরাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল। নতুন বাংলাদেশে কিভাবে এরা এখনো এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পায় তা আমাদের বোধগম্য নয়।

এডহক কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন সিকদার বলেন, আমি জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলাম। দুই কাউন্সিল আগে। বর্তমানে জাসদের রাজনীতির সাথে জড়িত কিনা প্রশ্ন করলে তার কোন সদ উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এ কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি অঙ্গীকারনামা দিয়ে এই পদে এসেছি।

এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন,এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা, কেন্দ্র কমিটি দিয়েছে এতটুকুই জানি। আমি অসুস্থ ডাক্তারের কাছে দৌড়াদৌড়ি করছি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারি না।

কমিটি গঠনের সংবাদে জেলার মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী জাসদ নেতারা এর নেতৃত্বে আসা মানে আওয়ামী লীগই নেতৃত্বে আসা। বাংলাদেশ নতুনভাবে স্বাধীন হয়েছে ঠিকই কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সংসদ স্বাধীন হতে পারেনি।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক মোঃ আজাদ জাহান বলেন, এটি কিভাবে কারা গঠন করেছে এর কোন তথ্যই আমার কাছে নেই। আমাকে এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোন চিঠি দেওয়া হয়নি। এটি গঠনের আগে বা এখন পর্যন্ত আমার কাছে তারা কোন প্রস্তাবও চায়নি।

এডহক কমিটিতে অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আ ফ ম নুরুল আমিন শাজাহান, শামসুল আলম, মাহফুজুর রহমান, আছমত আলি মিয়া, ওবায়দুল ইসলাম, মানিক মিয়া, আব্দুল হাদী মাসুদ ও মফিজুল হক।

ভোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের এডহক কমিটি নিয়ে বিতর্ক, নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট দোসর জাসদ নেতারা

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন মহলে উক্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। চায়ের দোকান থেকে পাড়া মহল্লায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খানের স্বাক্ষরিত ১১ সদস্যের এই এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত এডহক কমিটিতে আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ রব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন সিকদার কে আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের ১৪ দলের অন্যতম সহযোগী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ ইনু) এর ভোলা জেলা সভাপতি ও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (ডামি নির্বাচন) সংসদ সদস্য প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনটিতে প্রধান দুটি পদে ফ্যাসিস্ট দোসরদের এভাবে পদায়ন করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগীদের পূর্ণবাসনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক মুক্তিযোদ্ধা জানান,এখানে ফ্যসিস্টদের পূর্ণবাসনের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। যারা স্বঘোষিত ও পুরো সমাজে ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে পরিচিত তাদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের সময়ও এরাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল। নতুন বাংলাদেশে কিভাবে এরা এখনো এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পায় তা আমাদের বোধগম্য নয়।

এডহক কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন সিকদার বলেন, আমি জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলাম। দুই কাউন্সিল আগে। বর্তমানে জাসদের রাজনীতির সাথে জড়িত কিনা প্রশ্ন করলে তার কোন সদ উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এ কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি অঙ্গীকারনামা দিয়ে এই পদে এসেছি।

এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন,এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা, কেন্দ্র কমিটি দিয়েছে এতটুকুই জানি। আমি অসুস্থ ডাক্তারের কাছে দৌড়াদৌড়ি করছি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারি না।

কমিটি গঠনের সংবাদে জেলার মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী জাসদ নেতারা এর নেতৃত্বে আসা মানে আওয়ামী লীগই নেতৃত্বে আসা। বাংলাদেশ নতুনভাবে স্বাধীন হয়েছে ঠিকই কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সংসদ স্বাধীন হতে পারেনি।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক মোঃ আজাদ জাহান বলেন, এটি কিভাবে কারা গঠন করেছে এর কোন তথ্যই আমার কাছে নেই। আমাকে এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোন চিঠি দেওয়া হয়নি। এটি গঠনের আগে বা এখন পর্যন্ত আমার কাছে তারা কোন প্রস্তাবও চায়নি।

এডহক কমিটিতে অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আ ফ ম নুরুল আমিন শাজাহান, শামসুল আলম, মাহফুজুর রহমান, আছমত আলি মিয়া, ওবায়দুল ইসলাম, মানিক মিয়া, আব্দুল হাদী মাসুদ ও মফিজুল হক।