ভুয়া কাগজে কন্যার বিয়ে! চৌদ্দগ্রামে বাল্যবিবাহ বন্ধ ও জরিমানা আদায়
- আপডেট সময় : ০৯:০১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫ ১৮৮ বার পঠিত

ভুয়া কাগজে কন্যার বিয়ে! চৌদ্দগ্রামে বাল্যবিবাহ বন্ধ ও জরিমানা আদায়
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বৈলপুর গ্রামে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ সম্পাদনের ঘটনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার (বয়স ১৫) বিয়ে বন্ধ করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের ২৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড ও মুচলেকা নেওয়া হয়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় এদিন সকালেই বৈলপুর গ্রামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। অভিযানে সহায়তা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একটি দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈলপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল হক ও আয়েশা বেগম তাঁদের ১৫ বছর বয়সী কন্যা সানজিদা আক্তারের বিবাহ সম্পন্নের আয়োজন করেন। মোবাইল কোর্টে উপস্থিত হলে প্রাথমিকভাবে কনের মা মেয়ের বয়স ১৮ বছর হয়েছে দাবি করলেও কোনো সঠিক জন্মসনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। পরে তিনি জানান, বিয়ে “কোর্ট ম্যারেজ” হিসেবে পরিচিত নোটারী পাবলিক ডকুমেন্ট দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে এবং জন্মতারিখ ৩১ মে ২০০৬ দেখানো হয়েছে।
তবে ম্যাজিস্ট্রেটের সন্দেহ হওয়ায় অনুসন্ধান করে আসল জন্ম নিবন্ধন সনদ উদ্ধার করা হয়, যেখানে সানজিদার প্রকৃত জন্মতারিখ ৩১ মে ২০১০ – অর্থাৎ তার প্রকৃত বয়স ১৫ বছর। ফলে এটি একটি সুস্পষ্ট বাল্যবিবাহ হিসেবে প্রমাণিত হয়।
মোবাইল কোর্টে নোটারী পাবলিক কর্তৃক ভুয়া বয়স দিয়ে বাল্যবিবাহ সম্পন্নের চেষ্টায় পরিবারকে “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭” অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়। তৎক্ষণাৎ অর্থদণ্ড পরিশোধ করে কনের পরিবার ও মা আয়েশা বেগম মুচলেকায় স্বাক্ষর করেন যে ভবিষ্যতে তারা আর কোনো বাল্যবিবাহে জড়িত থাকবেন না।
এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা বলেন:
“বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। আজকের অভিযানে প্রমাণিত হয়েছে, নোটারী পাবলিকের ভুয়া জন্মতারিখ ব্যবহার করে অনেকেই বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করছে, যা দেশের প্রচলিত আইনকে অবমূল্যায়ন করে। আমরা শুধু বিয়ে বন্ধ করিনি, এর পেছনের জালিয়াতি চক্রকেও চিহ্নিত করছি।”




















