ভণ্ড কবিরাজ সেজে প্রতারণা, পাংশায় নাজিম মোল্লা আটক
- আপডেট সময় : ১১:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪৭ বার পঠিত

রাজবাড়ীর পাংশায় ধর্মীয় লেবাস ধরে প্রতারণার অভিযোগে মো. নাজিম মোল্লা (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাংশা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক নাজিম মোল্লা মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার হরিন্দি গ্রামের মো. আকামত মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়,নাজিম মোল্লা কখনো নিজেকে ‘হাজী’, কখনো ‘কবিরাজ’ পরিচয় দিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসার নামে অনুদান সংগ্রহ করতেন। বৃহস্পতিবার পাংশা এনআর ক্লিনিকের মালিক ডা. নাসির উদ্দিনের দেওয়া চারটি অনুদানের কোরআন শরীফ স্থানীয় ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরিতে ২০০ টাকায় বিক্রি করার সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন তিনি।
পরে একটি ফটোকপি দোকানে গিয়ে কবিরাজি চিকিৎসার লিফলেট ছাপাতে গেলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তার আসল পরিচয়। এসময় তার কাছ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের একটি প্রত্যয়নপত্র, ভোটার আইডির ফটোকপি এবং কবিরাজি চিকিৎসার লিফলেট উদ্ধার করা হয়। লিফলেটে নাম লেখা ছিল—‘কবিরাজ হাজী আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর হুজুর’; কিন্তু আইডিতে তার প্রকৃত নাম ‘মো. নাজিম মোল্লা’।
আটককারী মামুন বলেন, “লিফলেট দেখে সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করি। তখন তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। আইডির নাম ও লিফলেটের নামের মধ্যে কোনো মিল পাইনি।”
ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরির মালিক আব্দুর রশিদ স্বীকার করেন, তিনি ২০০ টাকায় চারটি কোরআন শরীফ কিনেছেন। স্থানীয় একটি মাদ্রাসার মুহতামীম জানান, কিছুদিন আগে এই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকেও অনুদান নিয়েছিলেন।
অবশেষে জনতার কাছে ধরা পড়ে ভণ্ড কবিরাজ নাজিম মোল্লা নিজের অপরাধ স্বীকার করে তওবা করেন। পরে এলাকাবাসী তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যাতে কেউ আর ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার সাহস না পায়।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “আটক ব্যক্তিকে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















