ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

বিশ্ব ইজতেমায় আহত ফিরোজের দুর্বিষহ জীবন

মাসুদুর রহমান রুবেল - ঢাকা:
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৭০৩ বার পঠিত

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্ব ইজতেমার মাঠে কাজ করতে গিয়ে শরীরের ওপর বাশ পড়ে আহত হয় ফিরোজ মন্ডল নামের এক যুবক। প্রাথমিকভাবে আহতের বিষয়টি সামান্য মনে হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায় মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছেন ফিরোজ। সেই থেকে শুরু যুবক ফিরোজের দুর্বিষহ জীবন।

আহত ফিরোজের গ্রামের বাড়ী বগুড়া জেলার শেরপুর থানাধীন এলাকায়। মাত্র নয় বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। মা অন্যের বাসা কাজ করে তাকে লালন পালন করতে থাকেন। এর কয়েক বছর পর মায়ের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে মাকে কিছুটা আর্থিক সহযোগিতার জন্য ২০০৭ সালে ঢাকায় পাড়ি জমান ফিরোজ। শুরু হয় তার কর্মজীবন। পরে ফিরোজ তার মাকেও ঢাকা নিয়ে আসেন। ভালোই চলতে থাকে মা-ছেলের জীবন।

কর্মজীবনের শুরুর পর ২০১১ সালে পারিবারিক ভাবে ময়না খাতুনকে বিয়ে করেন ফিরোজ।এরপরে শুরু হয় তার সংসার জীবন। বিয়ের বছর খানেক পর তাদের সংসার আলো করে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। ছোট বেলায় বাবা হারানো ফিরোজ কিছুটা সুখের দেখা পায়। কিন্তু সে সুখ তার বেশিদিন স্থায়ী হয় না।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে অন্যান্যদের মত একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে টংঙ্গীর ইজতেমা মাঠে যান ফিরোজ মন্ডল। কাজের সময় হঠাৎ করে তার শরীরের ওপর একটি বাঁশ পড়ে। এতে গুরুত্বর আহত হয় ফিরোজ। প্রাথমিকভাবে আহতের বিষয়টি সামান্য মনে হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায় তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছেন।

দীর্ঘদিন বিভিন্ন হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ গ্রহণ ও বিশেষ থ্যারাপি গ্রহন করেন ফিরোজ। তাতে কোনো রকম বেঁচে থাকা গেলেও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব হয় না। সেই থেকে শুরু হয় ফিরোজের দূর্বিষহ জীবন। এরপরে বাবার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল তিন শতাংশ জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করেন ফিরোজ। তাতের তিনি সুস্থ হতে পারেননি। এখন চলাচলের মাধ্যম হুইল চেয়ার। ব্যবহার করেন এডাল্ট প্যাম্পাস।

কিছুদিন পরে মা-মেয়েকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন ফিরোজ। নিজের স্ত্রী ময়না আক্তার হেলপার হিসেবে চাকরি নেন এক ক্যাপ ফ্যাক্টরীতে। ফিরোজের দিন কাটতে থাকে বাসায়। কিছুদিন পরে অনেক কষ্টে একটি চায়ের দোকান দেন ফিরোজ। এরই মধ্যে কেটে যায় ৫টি বছর।

গত দুই মাস আগে নিজের স্ত্রীর চাকরিটিও চলে যায়। এখন ভরসা একমাত্র চায়ের দোকান। কিন্তু এ দিয়ে তো আর সংসার চলে না। চিকিৎসা খরচ তো দূরের কথা। মা-মেয়ের জন্য টাকা পাঠাতে হয়, নিজের জন্য নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়। সংসার খরচ, রুম ভাড়া আর দোকান ভাড়াতো আছেই।

অন্যদিকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অনেকটা নিঃস্ব ফিরোজকে ডাক্তাররা জানান তাকে সুস্থ হতে হলে অপারেশন করতে হবে। যাতে করে তার খরচ হতে পারে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা। কিন্তু যার দ্বারা সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না সে কিভাবে এত টাকা ম্যানেজ করবেন। এখন শুধু দুশ্চিন্তা ভাজ ফিরোজের কপালে।

প্রতিদিন সকালে স্ত্রী হুইল চেয়ারে করে ফিরোজকে দোকানে দিয়ে যান। নিয়ে যান রাতের বেলায়। অন্যলোক ছাড়া চলাচল করতে পারেন না ফিরোজ। তাই বাধ্য হয়ে ব্যবহার করেন এডাল্ট প্যাম্পাস। সব মিলিয়ে বিশ্ব ইজতেমায় আহত ফিরোজের এখণ দর্বিষহ জীবন।

তাই তিনি সমাজের বিত্তশালীদের নিকট সাহায্য চান ফিরোজ। কিছুটা সহনুভুতি পেলে হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন ফিরোজ মন্ডল। আবার সুখের ছাড়া নামতে পারে ফিরোজের দুঃখের জীবনে।

প্রতিবেদক: যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি ফিরোজকে একটু সহযোগিতা করতে পারেন তাহলে ০১৭৯১৮২৩৭৩৩ (ফিরোজের ব্যক্তিগত নাম্বার) এই নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনাদের একটু সহানুভূতি বদলে দিতে পারে ফিরোজের দূর্বিষহ জীবন।

ট্যাগস :

বিশ্ব ইজতেমায় আহত ফিরোজের দুর্বিষহ জীবন

আপডেট সময় : ০৭:১৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্ব ইজতেমার মাঠে কাজ করতে গিয়ে শরীরের ওপর বাশ পড়ে আহত হয় ফিরোজ মন্ডল নামের এক যুবক। প্রাথমিকভাবে আহতের বিষয়টি সামান্য মনে হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায় মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছেন ফিরোজ। সেই থেকে শুরু যুবক ফিরোজের দুর্বিষহ জীবন।

আহত ফিরোজের গ্রামের বাড়ী বগুড়া জেলার শেরপুর থানাধীন এলাকায়। মাত্র নয় বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। মা অন্যের বাসা কাজ করে তাকে লালন পালন করতে থাকেন। এর কয়েক বছর পর মায়ের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে মাকে কিছুটা আর্থিক সহযোগিতার জন্য ২০০৭ সালে ঢাকায় পাড়ি জমান ফিরোজ। শুরু হয় তার কর্মজীবন। পরে ফিরোজ তার মাকেও ঢাকা নিয়ে আসেন। ভালোই চলতে থাকে মা-ছেলের জীবন।

কর্মজীবনের শুরুর পর ২০১১ সালে পারিবারিক ভাবে ময়না খাতুনকে বিয়ে করেন ফিরোজ।এরপরে শুরু হয় তার সংসার জীবন। বিয়ের বছর খানেক পর তাদের সংসার আলো করে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। ছোট বেলায় বাবা হারানো ফিরোজ কিছুটা সুখের দেখা পায়। কিন্তু সে সুখ তার বেশিদিন স্থায়ী হয় না।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে অন্যান্যদের মত একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে টংঙ্গীর ইজতেমা মাঠে যান ফিরোজ মন্ডল। কাজের সময় হঠাৎ করে তার শরীরের ওপর একটি বাঁশ পড়ে। এতে গুরুত্বর আহত হয় ফিরোজ। প্রাথমিকভাবে আহতের বিষয়টি সামান্য মনে হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায় তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছেন।

দীর্ঘদিন বিভিন্ন হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ গ্রহণ ও বিশেষ থ্যারাপি গ্রহন করেন ফিরোজ। তাতে কোনো রকম বেঁচে থাকা গেলেও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব হয় না। সেই থেকে শুরু হয় ফিরোজের দূর্বিষহ জীবন। এরপরে বাবার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল তিন শতাংশ জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করেন ফিরোজ। তাতের তিনি সুস্থ হতে পারেননি। এখন চলাচলের মাধ্যম হুইল চেয়ার। ব্যবহার করেন এডাল্ট প্যাম্পাস।

কিছুদিন পরে মা-মেয়েকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন ফিরোজ। নিজের স্ত্রী ময়না আক্তার হেলপার হিসেবে চাকরি নেন এক ক্যাপ ফ্যাক্টরীতে। ফিরোজের দিন কাটতে থাকে বাসায়। কিছুদিন পরে অনেক কষ্টে একটি চায়ের দোকান দেন ফিরোজ। এরই মধ্যে কেটে যায় ৫টি বছর।

গত দুই মাস আগে নিজের স্ত্রীর চাকরিটিও চলে যায়। এখন ভরসা একমাত্র চায়ের দোকান। কিন্তু এ দিয়ে তো আর সংসার চলে না। চিকিৎসা খরচ তো দূরের কথা। মা-মেয়ের জন্য টাকা পাঠাতে হয়, নিজের জন্য নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়। সংসার খরচ, রুম ভাড়া আর দোকান ভাড়াতো আছেই।

অন্যদিকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অনেকটা নিঃস্ব ফিরোজকে ডাক্তাররা জানান তাকে সুস্থ হতে হলে অপারেশন করতে হবে। যাতে করে তার খরচ হতে পারে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা। কিন্তু যার দ্বারা সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না সে কিভাবে এত টাকা ম্যানেজ করবেন। এখন শুধু দুশ্চিন্তা ভাজ ফিরোজের কপালে।

প্রতিদিন সকালে স্ত্রী হুইল চেয়ারে করে ফিরোজকে দোকানে দিয়ে যান। নিয়ে যান রাতের বেলায়। অন্যলোক ছাড়া চলাচল করতে পারেন না ফিরোজ। তাই বাধ্য হয়ে ব্যবহার করেন এডাল্ট প্যাম্পাস। সব মিলিয়ে বিশ্ব ইজতেমায় আহত ফিরোজের এখণ দর্বিষহ জীবন।

তাই তিনি সমাজের বিত্তশালীদের নিকট সাহায্য চান ফিরোজ। কিছুটা সহনুভুতি পেলে হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন ফিরোজ মন্ডল। আবার সুখের ছাড়া নামতে পারে ফিরোজের দুঃখের জীবনে।

প্রতিবেদক: যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি ফিরোজকে একটু সহযোগিতা করতে পারেন তাহলে ০১৭৯১৮২৩৭৩৩ (ফিরোজের ব্যক্তিগত নাম্বার) এই নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনাদের একটু সহানুভূতি বদলে দিতে পারে ফিরোজের দূর্বিষহ জীবন।