ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

ফরিদপুরে সৌদির সঙ্গে সমন্বয় করে আগাম ঈদ উদযাপন

অনিক রায়, ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ৩৩ বার পঠিত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার কিছু গ্রামে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) স্থানীয়দের ঐতিহ্য অনুযায়ী এ সব গ্রাম গুলোতে একদিন আগে রোজা শুরু হয় এবং সেই অনুযায়ী সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের অন্তত ৯টি গ্রাম এবং আলফাডাঙ্গার কয়েকটি গ্রামে এদিন ঈদ উদযাপন হয়। উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর মধ্যে আছে কাঁটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমড়া, রাখালতলী ও গঙ্গানন্দপুর।

শুক্রবার সকাল ৮টায় বোয়ালমারীর মাইটকুমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৮টায় মাইটকুমড়া জামে মসজিদে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টায় সহস্রাইল বাজার এবং সকাল ১০টায় আলফাডাঙ্গার রাখালতলী বাজারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন সকাল থেকেই সব এলাকায় উৎসবের আমেজ থাকে। ঘরে ঘরে তৈরি হয় বিশেষ খাবার, নতুন পোশাকে শিশু-কিশোররা আনন্দে মেতে ওঠে।

কিছু এলাকার মানুষ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মাহমুদাবাদ মির্জাখীল দরবার শরিফের মাওলানা শামসুল আরেফিনের অনুসারী। তারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রোজা রাখা এবং ঈদ উদযাপনের প্রথা চালিয়ে আসছেন।

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহিদুল হক বলেন, “মির্জাখিল দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন। এজন্য আমরা প্রতি বছর একদিন আগে ঈদের জামাত করি। আমাদের জামাতে আশপাশের সালথা, মুহম্মদপুর, মুকসুদপুর এবং আলফাডাঙ্গা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন।”

স্থানীয়রা উল্লেখ করেন, সহস্রাইল উত্তরপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতটি এলাকার সবচেয়ে বড়। বিশু মোল্যা জানান, প্রায় দেড়শ বছর ধরে এই মসজিদে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায়ের রীতি চলে আসছে।

স্থানীয় খলিলুর রহমান বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই আমরা একদিন আগে রোজা শুরু করি এবং সেই অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করি।”

একই দিনে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামেও সৌদি আরবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। রথখোলা বাজার সংলগ্ন মরহুম আলী হোসেন শাহের বাড়ির মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন তার দৌহিত্র মো. রবিউল হাসান মোস্তাক শাহ।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত থেকে আট দশক আগে মরহুম আলী হোসেন শাহ ভারতের আজমীর শরীফে গিয়ে একজন মুরিদ হন। দেশে ফেরার পর তিনি ঐ আদর্শ অনুসরণ করে কিছু অনুসারী তৈরি করেন। বর্তমানে ওই এলাকায় ২০–২৫টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রমজান ও ঈদ উদযাপন করছেন।

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যকে ধরে রেখে বহু বছর ধরে এসব এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের প্রথা চালু আছে।

ট্যাগস :

ফরিদপুরে সৌদির সঙ্গে সমন্বয় করে আগাম ঈদ উদযাপন

আপডেট সময় : ০২:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার কিছু গ্রামে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) স্থানীয়দের ঐতিহ্য অনুযায়ী এ সব গ্রাম গুলোতে একদিন আগে রোজা শুরু হয় এবং সেই অনুযায়ী সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের অন্তত ৯টি গ্রাম এবং আলফাডাঙ্গার কয়েকটি গ্রামে এদিন ঈদ উদযাপন হয়। উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর মধ্যে আছে কাঁটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমড়া, রাখালতলী ও গঙ্গানন্দপুর।

শুক্রবার সকাল ৮টায় বোয়ালমারীর মাইটকুমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৮টায় মাইটকুমড়া জামে মসজিদে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টায় সহস্রাইল বাজার এবং সকাল ১০টায় আলফাডাঙ্গার রাখালতলী বাজারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন সকাল থেকেই সব এলাকায় উৎসবের আমেজ থাকে। ঘরে ঘরে তৈরি হয় বিশেষ খাবার, নতুন পোশাকে শিশু-কিশোররা আনন্দে মেতে ওঠে।

কিছু এলাকার মানুষ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মাহমুদাবাদ মির্জাখীল দরবার শরিফের মাওলানা শামসুল আরেফিনের অনুসারী। তারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রোজা রাখা এবং ঈদ উদযাপনের প্রথা চালিয়ে আসছেন।

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহিদুল হক বলেন, “মির্জাখিল দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন। এজন্য আমরা প্রতি বছর একদিন আগে ঈদের জামাত করি। আমাদের জামাতে আশপাশের সালথা, মুহম্মদপুর, মুকসুদপুর এবং আলফাডাঙ্গা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন।”

স্থানীয়রা উল্লেখ করেন, সহস্রাইল উত্তরপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতটি এলাকার সবচেয়ে বড়। বিশু মোল্যা জানান, প্রায় দেড়শ বছর ধরে এই মসজিদে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায়ের রীতি চলে আসছে।

স্থানীয় খলিলুর রহমান বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই আমরা একদিন আগে রোজা শুরু করি এবং সেই অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করি।”

একই দিনে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামেও সৌদি আরবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। রথখোলা বাজার সংলগ্ন মরহুম আলী হোসেন শাহের বাড়ির মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন তার দৌহিত্র মো. রবিউল হাসান মোস্তাক শাহ।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত থেকে আট দশক আগে মরহুম আলী হোসেন শাহ ভারতের আজমীর শরীফে গিয়ে একজন মুরিদ হন। দেশে ফেরার পর তিনি ঐ আদর্শ অনুসরণ করে কিছু অনুসারী তৈরি করেন। বর্তমানে ওই এলাকায় ২০–২৫টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রমজান ও ঈদ উদযাপন করছেন।

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যকে ধরে রেখে বহু বছর ধরে এসব এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের প্রথা চালু আছে।