ফরিদপুরে পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের জন্মবার্ষিকী পালন
- আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৫ বার পঠিত

ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী।গ্রামীণ বাংলার জীবন, প্রেম ও মানবিকতাকে যিনি কবিতায় প্রাণবন্ত করে তুলেছেন, সেই কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দিনভর নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুর শহরতলীর অম্বিকাপুরে কবির সমাধিস্থলে জেলা প্রশাসন, জসীম উদ্দীন ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন, রামানন্দ পাল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর এম এ সামাদ ,
প্রেসক্লাব সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দীকি, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন সহ ফরিদপুরের বিশিষ্ট সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ।
এসময় জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, “পল্লীকবি জসীম উদ্দীন আমাদের প্রাণের কবি। তাঁর সাহিত্যকর্মে যে সহজ-সরল গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্য ও মানবিকতা ফুটে উঠেছে, তা যদি আমরা ধারণ করতে পারি এবং সমাজে ছড়িয়ে দিতে পারি, তবে দেশ ও সমাজ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্ম যেন কবির সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁকে জানতে ও উপলব্ধি করতে পারে—সে লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, পল্লীকবি জসীম উদ্দীন ফরিদপুরের গর্ব। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণ ও গবেষণার আওতায় আনার মাধ্যমে কবির কর্ম ও আদর্শ আগামী প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “জসীম উদ্দীনের সাহিত্য আমাদের শিকড়ের কথা বলে। তাঁর কবিতা ও গদ্যে গ্রামবাংলার জীবনচিত্র যেভাবে উঠে এসেছে, তা বাংলা সাহিত্যে অনন্য এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
উল্লেখ্য, পল্লীকবি জসীম উদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আনসার উদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক এবং মাতা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট। শৈশবে ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও পরে ফরিদপুর জিলা স্কুলে পড়াশোনা শেষে তিনি ১৯২১ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিষয়ে ১৯২৯ সালে বিএ এবং ১৯৩১ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৩৯ সালে তিনি মমতাজ বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের তিন পুত্র—ড. জামাল আনোয়ার, খুরশিদ আনোয়ার ও আনোয়ার হাসু। ‘নকশী কাঁথার মাঠ’, ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, ‘এক পয়সার বাঁশি’, ‘রাখালী’, ‘বালুচর’সহ অসংখ্য কালজয়ী রচনার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। এই মহান কবি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ ইহলোক ত্যাগ করেন।




















