ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় খাবার পানির ‘ন্যানো ফিল্টার’অকেজো হওয়ার পথে

​আজিজুর রহমান,আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর):
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫ ৭৪ বার পঠিত

ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট নিরসনে স্থাপিত বহু-ব্যবহৃত ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিটগুলো বর্তমানে চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হওয়ার পথে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই মূল্যবান ইউনিটগুলো এখন দেখভালের অভাবে নষ্ট হতে চলেছে,যা এলাকায় আবারও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি করতে পারে।
​​
‘ভূ-উপরিস্থ পানি পরিশোধনের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি, বাগেরহাট ও ফরিদপুর জেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় ফরিদপুর সদর, সালথা এবং আলফাডাঙ্গা—এই তিনটি উপজেলায় বেশ কিছু ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল পুকুর বা দিঘীর পানিকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

প্রতিটি ইউনিটে বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে পানি টেনে নিয়ে চার ধাপে পরিশোধনের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ৯৬০ লিটার জীবাণুমুক্ত পানি সরবরাহ করার সক্ষমতা আছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,স্থাপনের পর প্রথম তিন বছর সরকারিভাবে এই ইউনিটগুলো রক্ষণাবেক্ষণ (সার্ভিসিং) করা হলেও বর্তমানে এর দেখভালের দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না। সার্ভিসিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এখন থেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরই এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মোট আটটি ন্যানো ফিল্টার বসানো হলেও,সার্ভিসের অভাবে সেগুলোর অধিকাংশ এখন প্রায় অকেজো।
​​শুকুরহাটা গ্রামের বাসিন্দা ইকরাম মাষ্টার আক্ষেপ করে বলেন, “আমার বাড়ির পাশে যে ন্যানো ফিল্টারটি আছে সেটির অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলায় এর কোনো যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় না, আর কোথায় পাওয়া যায় তাও জানা নেই। এতো ভালো এবং দামী জিনিসটা শুধু সার্ভিসিংয়ের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

​নওয়াপাড়া, পানাইল ও কুঠুরাকান্দীসহ একাধিক স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, এই ন্যানো ফিল্টারগুলো দ্রুত সার্ভিসিং না করলে অচিরেই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাবে।
​​
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মতিউর রহমান জানান, তিনি দ্রুত সার্ভিসিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করবেন।

তবে,স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা বজায় থাকে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় খাবার পানির ‘ন্যানো ফিল্টার’অকেজো হওয়ার পথে

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট নিরসনে স্থাপিত বহু-ব্যবহৃত ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিটগুলো বর্তমানে চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হওয়ার পথে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই মূল্যবান ইউনিটগুলো এখন দেখভালের অভাবে নষ্ট হতে চলেছে,যা এলাকায় আবারও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি করতে পারে।
​​
‘ভূ-উপরিস্থ পানি পরিশোধনের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি, বাগেরহাট ও ফরিদপুর জেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় ফরিদপুর সদর, সালথা এবং আলফাডাঙ্গা—এই তিনটি উপজেলায় বেশ কিছু ন্যানো ফিল্টেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল পুকুর বা দিঘীর পানিকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

প্রতিটি ইউনিটে বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে পানি টেনে নিয়ে চার ধাপে পরিশোধনের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ৯৬০ লিটার জীবাণুমুক্ত পানি সরবরাহ করার সক্ষমতা আছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,স্থাপনের পর প্রথম তিন বছর সরকারিভাবে এই ইউনিটগুলো রক্ষণাবেক্ষণ (সার্ভিসিং) করা হলেও বর্তমানে এর দেখভালের দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না। সার্ভিসিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এখন থেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরই এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মোট আটটি ন্যানো ফিল্টার বসানো হলেও,সার্ভিসের অভাবে সেগুলোর অধিকাংশ এখন প্রায় অকেজো।
​​শুকুরহাটা গ্রামের বাসিন্দা ইকরাম মাষ্টার আক্ষেপ করে বলেন, “আমার বাড়ির পাশে যে ন্যানো ফিল্টারটি আছে সেটির অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলায় এর কোনো যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় না, আর কোথায় পাওয়া যায় তাও জানা নেই। এতো ভালো এবং দামী জিনিসটা শুধু সার্ভিসিংয়ের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

​নওয়াপাড়া, পানাইল ও কুঠুরাকান্দীসহ একাধিক স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, এই ন্যানো ফিল্টারগুলো দ্রুত সার্ভিসিং না করলে অচিরেই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাবে।
​​
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মতিউর রহমান জানান, তিনি দ্রুত সার্ভিসিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করবেন।

তবে,স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা বজায় থাকে।