ঢাকা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

পাইকগাছায় ভ্যান হারিয়ে পথে বসেছেন আতিয়ার,পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন

মোঃ ফসিয়ার রহমান- পাইকগাছা (খুলনা):
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫ ১৪৩ বার পঠিত

Oplus_131072

খুলনার পাইকগাছায় পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ইঞ্জিনচালিত ভ্যান হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন অসহায় ভ্যানচালক আতিয়ার (৪২)। তিনি কপিলমুনি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিলেমানপুর গ্রামের দিরাজ সরদারের ছেলে।
আতিয়ারের সংসারে রয়েছে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। আগে থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছিলেন তিনি। ঈদে ১০ কেজি চাল ছাড়া কখনো কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। অতি কষ্টে ইঞ্জিনচালিত ভ্যান চালিয়ে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। সেই একমাত্র আয়ের উৎসটিও হারিয়ে বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন আতিয়ার।
সরেজমিনে দেখা যায়, একটি মাত্র টালির ছাউনির পুরনো বসতঘরে থাকেন তিনি। মাটির দেয়াল আর ফুটো ছাউনি দিয়ে বৃষ্টি ঝরে পড়ে, আর ঝড়ে যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে সেই ঘর। দুর্দশার এই চিত্র যেকোনো মানুষকে নাড়া দেবে।
আতিয়ার জানান, গত ১৩ জুন (শুক্রবার) প্রতিদিনের মতো সকালে রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩০০ টাকা আয় করেন। জুমার নামাজের সময় আগড়ঘাটা বাজারের জামে মসজিদের পাশে ভ্যানটি তালা দিয়ে রেখে নামাজে যান। নামাজ শেষে এসে দেখেন, ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর ফিরে পাননি।
তিনি বলেন, “আমার কোনো জমিজমা নেই। এখন একটা ভ্যান কেনার সামর্থ্যও নেই। পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। মাঝে মাঝে মনে হয় নিজেকে শেষ করে দিই, কিন্তু ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে পারি না।”
এই কথার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন আতিয়ার। তার স্ত্রী জলি বেগমও কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার স্বামীর আয়েই সংসার চলতো। এখন ওটাই বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখে খাবার দিতে পারছি না। কেউ কি নেই আমাদের একটা ভ্যান কিনে দিতে পারে?”
সংবাদ সংগ্রহের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষকদলের প্রচার সম্পাদক এস.এম. শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, “আতিয়ার সত্যিই খুব অসহায়। তার অবস্থা দেখে মন কেঁদে উঠে। আমি নিজেও সামান্য সাহায্য করেছি। সমাজের সামর্থ্যবানদের আহ্বান জানাই, এই পরিবারের পাশে দাঁড়ান।”
সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান:
আতিয়ার ও তার পরিবারের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তির জন্য সমাজের হৃদয়বান ও সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতা এখন একান্ত প্রয়োজন। একটি ভ্যানই এই পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

পাইকগাছায় ভ্যান হারিয়ে পথে বসেছেন আতিয়ার,পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

খুলনার পাইকগাছায় পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ইঞ্জিনচালিত ভ্যান হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন অসহায় ভ্যানচালক আতিয়ার (৪২)। তিনি কপিলমুনি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিলেমানপুর গ্রামের দিরাজ সরদারের ছেলে।
আতিয়ারের সংসারে রয়েছে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। আগে থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছিলেন তিনি। ঈদে ১০ কেজি চাল ছাড়া কখনো কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। অতি কষ্টে ইঞ্জিনচালিত ভ্যান চালিয়ে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। সেই একমাত্র আয়ের উৎসটিও হারিয়ে বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন আতিয়ার।
সরেজমিনে দেখা যায়, একটি মাত্র টালির ছাউনির পুরনো বসতঘরে থাকেন তিনি। মাটির দেয়াল আর ফুটো ছাউনি দিয়ে বৃষ্টি ঝরে পড়ে, আর ঝড়ে যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে সেই ঘর। দুর্দশার এই চিত্র যেকোনো মানুষকে নাড়া দেবে।
আতিয়ার জানান, গত ১৩ জুন (শুক্রবার) প্রতিদিনের মতো সকালে রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩০০ টাকা আয় করেন। জুমার নামাজের সময় আগড়ঘাটা বাজারের জামে মসজিদের পাশে ভ্যানটি তালা দিয়ে রেখে নামাজে যান। নামাজ শেষে এসে দেখেন, ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর ফিরে পাননি।
তিনি বলেন, “আমার কোনো জমিজমা নেই। এখন একটা ভ্যান কেনার সামর্থ্যও নেই। পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। মাঝে মাঝে মনে হয় নিজেকে শেষ করে দিই, কিন্তু ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে পারি না।”
এই কথার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন আতিয়ার। তার স্ত্রী জলি বেগমও কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার স্বামীর আয়েই সংসার চলতো। এখন ওটাই বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখে খাবার দিতে পারছি না। কেউ কি নেই আমাদের একটা ভ্যান কিনে দিতে পারে?”
সংবাদ সংগ্রহের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষকদলের প্রচার সম্পাদক এস.এম. শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, “আতিয়ার সত্যিই খুব অসহায়। তার অবস্থা দেখে মন কেঁদে উঠে। আমি নিজেও সামান্য সাহায্য করেছি। সমাজের সামর্থ্যবানদের আহ্বান জানাই, এই পরিবারের পাশে দাঁড়ান।”
সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান:
আতিয়ার ও তার পরিবারের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তির জন্য সমাজের হৃদয়বান ও সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতা এখন একান্ত প্রয়োজন। একটি ভ্যানই এই পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।