ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

নাগেশ্বরীতে ঝরে পড়া কিশোরী রুনা বিয়ের আগে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়

রফিকুল ইসলাম রনজু-কুড়িগ্রাম:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০৮ বার পঠিত

 কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে নিজের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তথা নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে সাহসিকতার সহিত, পড়াশুনা অব্যাহত রেখেছে ঝরে পড়া কিশোরী রুনা।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের নালাটারী গ্রামের হত-দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রুনা খাতুন। সে হাসনাবাদ যুব সংগঠনের সদস্য। তার বাবা-মা গরিব অসহায় হতদরিদ্র। হত দরিদ্র  পরিবারে মা-বাবা  ও বড় ভাইকে নিয়ে তাদের পরিবার।হত- দরিদ্র হওয়ার কারণে তাদের পরিবারের নেমে আসে আর্থিক সমস্যা। তারপরও তার মা-বাবা অনেক কষ্ট করে অন্যের বাড়িতে কাজ করে,তাদের দু ভাই বোনের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

  রুনা খাতুন প্রায় তার বিয়ের কথা শুনতে পায়। মা বাবাও বিয়ে দেওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যায়। প্রতিবেশীরাও এটা ওটা বলতে থাকে। কিন্তু রুনা খাতুন মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে নিজে সচেতন হওয়ায় এবং অন্যকেও সচেতন করার পরামর্শ প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায়  তার মা-বাবাকে কম বয়সে বিয়ে এবং শিক্ষিত না করে বিয়ের কুফল সমন্ধে অবগত করতে সক্ষম হয়। রুনা খাতুন তার মা-বাবাকে বলেন, তোমরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে আমাদের দু ভাই-বোনকে পড়াশোনা করাচ্ছ, আমরা নিজের পায়ে না দাড়িয়ে বিয়ে করব না।

 কিশোরী রুনা খাতুন তার মা-বাবাকে বোঝাতে সক্ষম হয়। মা-বাবাও বুঝতে পেরে মেয়ের কথায় সমর্থন করে। তার মা-বাবা এখন বলে মেয়ে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেব না, যতই কষ্ট হোক পড়াশোনা করাতেই হবে। তার মা-বাবা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, মহিদেব আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আপনারাও দাঁড়ান, আমাদের একটু সহযোগিতা করুন। 

 এখন রুনা খাতুন এইচএসসিতে পড়ে। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি অশ্রু সিক্ত নয়নে বলেন, হাসনাবাদ যুব সংগঠনের আমি একজন সদস্য। মহিদেব আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। সেই সহযোগিতার অর্থ দিয়ে হাঁস- মুরগি- ছাগল পালন করছি। তাই দিয়ে কিছুটা চালিয়ে নিচ্ছি পড়াশোনার খরচ।  হতদরিদ্র পরিবারের  অজপাড়া গাঁয়ের মেয়ে হয়েও  নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে লেখাপড়া অব্যাহত রেখে, সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন কিশোরী রুনা খাতুন ।  তার এই সাহসিকতা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছে।

কিশোরী রুনা খাতুন আরো বলেন,  এখন আর আমার বিয়ে নিয়ে কোন সমস্যা নেই। আমার স্বপ্ন আমি শিক্ষক হব। এজন্য আমি সবার কাছে  দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। পরে মহিদেব যুব সমাজ কল্যান সমিতির আপা সচেতনতা মূলক পরামর্শ প্রদান করেন এবং বাল্যবিবাহ রোধে উপস্থিত সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

নাগেশ্বরীতে ঝরে পড়া কিশোরী রুনা বিয়ের আগে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪

 কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে নিজের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তথা নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে সাহসিকতার সহিত, পড়াশুনা অব্যাহত রেখেছে ঝরে পড়া কিশোরী রুনা।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের নালাটারী গ্রামের হত-দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রুনা খাতুন। সে হাসনাবাদ যুব সংগঠনের সদস্য। তার বাবা-মা গরিব অসহায় হতদরিদ্র। হত দরিদ্র  পরিবারে মা-বাবা  ও বড় ভাইকে নিয়ে তাদের পরিবার।হত- দরিদ্র হওয়ার কারণে তাদের পরিবারের নেমে আসে আর্থিক সমস্যা। তারপরও তার মা-বাবা অনেক কষ্ট করে অন্যের বাড়িতে কাজ করে,তাদের দু ভাই বোনের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

  রুনা খাতুন প্রায় তার বিয়ের কথা শুনতে পায়। মা বাবাও বিয়ে দেওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যায়। প্রতিবেশীরাও এটা ওটা বলতে থাকে। কিন্তু রুনা খাতুন মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে নিজে সচেতন হওয়ায় এবং অন্যকেও সচেতন করার পরামর্শ প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায়  তার মা-বাবাকে কম বয়সে বিয়ে এবং শিক্ষিত না করে বিয়ের কুফল সমন্ধে অবগত করতে সক্ষম হয়। রুনা খাতুন তার মা-বাবাকে বলেন, তোমরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে আমাদের দু ভাই-বোনকে পড়াশোনা করাচ্ছ, আমরা নিজের পায়ে না দাড়িয়ে বিয়ে করব না।

 কিশোরী রুনা খাতুন তার মা-বাবাকে বোঝাতে সক্ষম হয়। মা-বাবাও বুঝতে পেরে মেয়ের কথায় সমর্থন করে। তার মা-বাবা এখন বলে মেয়ে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেব না, যতই কষ্ট হোক পড়াশোনা করাতেই হবে। তার মা-বাবা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, মহিদেব আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আপনারাও দাঁড়ান, আমাদের একটু সহযোগিতা করুন। 

 এখন রুনা খাতুন এইচএসসিতে পড়ে। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি অশ্রু সিক্ত নয়নে বলেন, হাসনাবাদ যুব সংগঠনের আমি একজন সদস্য। মহিদেব আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। সেই সহযোগিতার অর্থ দিয়ে হাঁস- মুরগি- ছাগল পালন করছি। তাই দিয়ে কিছুটা চালিয়ে নিচ্ছি পড়াশোনার খরচ।  হতদরিদ্র পরিবারের  অজপাড়া গাঁয়ের মেয়ে হয়েও  নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে লেখাপড়া অব্যাহত রেখে, সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন কিশোরী রুনা খাতুন ।  তার এই সাহসিকতা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছে।

কিশোরী রুনা খাতুন আরো বলেন,  এখন আর আমার বিয়ে নিয়ে কোন সমস্যা নেই। আমার স্বপ্ন আমি শিক্ষক হব। এজন্য আমি সবার কাছে  দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। পরে মহিদেব যুব সমাজ কল্যান সমিতির আপা সচেতনতা মূলক পরামর্শ প্রদান করেন এবং বাল্যবিবাহ রোধে উপস্থিত সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।