টানা বৃষ্টিতে হাওরের ধান তলিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
- আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ১০১ বার পঠিত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে জোয়ানশাহী হাওর ও আশপাশের নিচু এলাকার শত শত একর জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটা ও ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেক জমিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার নামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কৃষক নিজেরাই পানিতে নেমে ধান কাটছেন।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত হলেও কাজের সময় কম। এতে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অথচ বাজারে ধানের দাম কম থাকায় খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
জাফরনগর গ্রামের কৃষক ইসলাম মিয়া বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরের জমি পানির নিচে চলে গেছে। ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না, আবার বাজারে ধানের দামও কম। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক আফিল উদ্দিন জানান, তার বেশির ভাগ জমির ধান এখনও পানির নিচে রয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে না পারলে আরও ক্ষতি হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
কৃষাণী জাহানারা বেগম বলেন, পরিবারের একমাত্র ভরসা এই বোরো ফসল। কিন্তু পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়ায় ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। এতে সারা বছরের খাদ্য ও সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভৈরবে প্রায় ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ২১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















