ঢাকা ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

জমি রেজিস্ট্রির আগে বাবার মৃত্যু, কবরে শুয়ে দাফনে বাধা ছেলের

নিজস্ব প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪ ১৪৪ বার পঠিত

জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আগে বাবার মৃত্যু হলে তাঁর জন্য খোঁড়া কবরে শুয়ে দাফনে বাধা সৃষ্টি করেন তাঁরই ছেলে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পৃথক স্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি ঘটে কাল শুক্রবার নীলফামারী সদরের চাপড়া যাদুরহাট বাটুলটারি গ্রামে। 

স্থানীয়রা জানান, বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ ভোরে মারা যান ওই গ্রামের মজিবুর রহমান (৬২)। সংসারে তাঁর দুই স্ত্রী রয়েছেন। মৃত্যুর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে দুই শতাংশ এবং ওই স্ত্রীর ছোট ছেলেকে পাঁচ শতাংশ জমি লিখে দেন তিনি। 

অন্যদিকে প্রথম স্ত্রীর তিন ছেলের মধ্যে ওয়াজেদ আলী, খয়রাত আলী ও নওশাদ আলীকে মৌখিকভাবে তিন শতাংশ জমি প্রদান করেন বাবা মজিবুর রহমান। কিন্তু জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আগেই তাঁর (মজিবুর রহমান) মৃত্যু হয়। 

মৃত্যুর আগে তিন ছেলেকে মৌখিকভাবে দেওয়া জমি রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ায় লাশ আটকে বাবার জন্য খোঁড়া কবরে শুয়ে পড়েন ছেলে নওশাদ আলী। স্বজনেরা অনেক চেষ্টা করে সে কাজ থেকে তাঁকে নিবৃত্ত করতে না ফেরে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অন্যত্র দাফন করা হয় মজিবুর রহমানকে। 

স্থানীয় চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ওয়ার্ড সদস্য মাহাবুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জমি লিখে না দেওয়ায় বাবাকে কবর দিতে বাধা প্রদানের ঘটনাটি আসলেই দুঃখজনক। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। পরে থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশের হস্তক্ষেপে মৃত মজিবুরের দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।’ 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তানভীরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্থানীয় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কবরে শুয়ে থাকা নওশাদ আলী কবর থেকে উঠে পালিয়ে যান। পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় অন্যত্র কবর খুঁড়ে পুলিশের উপস্থিতিতে মজিবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন করা হয়।’

ট্যাগস :

জমি রেজিস্ট্রির আগে বাবার মৃত্যু, কবরে শুয়ে দাফনে বাধা ছেলের

আপডেট সময় : ০৭:১৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আগে বাবার মৃত্যু হলে তাঁর জন্য খোঁড়া কবরে শুয়ে দাফনে বাধা সৃষ্টি করেন তাঁরই ছেলে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পৃথক স্থানে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি ঘটে কাল শুক্রবার নীলফামারী সদরের চাপড়া যাদুরহাট বাটুলটারি গ্রামে। 

স্থানীয়রা জানান, বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ ভোরে মারা যান ওই গ্রামের মজিবুর রহমান (৬২)। সংসারে তাঁর দুই স্ত্রী রয়েছেন। মৃত্যুর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে দুই শতাংশ এবং ওই স্ত্রীর ছোট ছেলেকে পাঁচ শতাংশ জমি লিখে দেন তিনি। 

অন্যদিকে প্রথম স্ত্রীর তিন ছেলের মধ্যে ওয়াজেদ আলী, খয়রাত আলী ও নওশাদ আলীকে মৌখিকভাবে তিন শতাংশ জমি প্রদান করেন বাবা মজিবুর রহমান। কিন্তু জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আগেই তাঁর (মজিবুর রহমান) মৃত্যু হয়। 

মৃত্যুর আগে তিন ছেলেকে মৌখিকভাবে দেওয়া জমি রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ায় লাশ আটকে বাবার জন্য খোঁড়া কবরে শুয়ে পড়েন ছেলে নওশাদ আলী। স্বজনেরা অনেক চেষ্টা করে সে কাজ থেকে তাঁকে নিবৃত্ত করতে না ফেরে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অন্যত্র দাফন করা হয় মজিবুর রহমানকে। 

স্থানীয় চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ওয়ার্ড সদস্য মাহাবুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জমি লিখে না দেওয়ায় বাবাকে কবর দিতে বাধা প্রদানের ঘটনাটি আসলেই দুঃখজনক। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। পরে থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশের হস্তক্ষেপে মৃত মজিবুরের দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।’ 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তানভীরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্থানীয় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কবরে শুয়ে থাকা নওশাদ আলী কবর থেকে উঠে পালিয়ে যান। পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় অন্যত্র কবর খুঁড়ে পুলিশের উপস্থিতিতে মজিবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন করা হয়।’