গোয়ালন্দে এক বছরে ২৭ ট্রান্সফরমার চুরি, সেচ সংকটে দিশেহারা কৃষক
- আপডেট সময় : ১১:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৬৪ বার পঠিত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা। একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরিতে বোরো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেক জমিতে সেচ বন্ধ থাকায় ধানক্ষেত শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের বাইপাস সড়ক এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশ থেকে একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) মালিকানাধীন ১০০ কেভিএ ক্ষমতার ট্রান্সফরমারটি খুলে এর ভেতরের প্রায় ২০০ কেজি তামার তার নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় চা-দোকানি নজরুল শেখ জানান, রাত ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যান তিনি। সকালে এসে দেখেন খুঁটির নিচে ট্রান্সফরমারটি পড়ে আছে এবং ভেতরের মূল্যবান তামার তারগুলো নেই।
ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারটির মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিকল্প উপায়ে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে গোয়ালন্দ পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় সেচ কাজে ব্যবহৃত ২৩টি এবং আবাসিক এলাকার ৪টিসহ মোট ২৭টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সেচের ট্রান্সফরমার চুরি হলে এর ক্ষতিপূরণ কৃষকদেরই বহন করতে হয়। এতে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কৃষক ছালাম মোল্লা বলেন, “বারবার ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। নতুন করে টাকা জমা দিয়ে ট্রান্সফরমার কিনতে হচ্ছে। ধান বিক্রি করেও এই ক্ষতি পোষানো সম্ভব নয়।”
তিনি দ্রুত চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সর্বশেষ চুরির ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে উপজেলায় মোট ২৭টি ট্রান্সফরমার চুরির তথ্য তার জানা নেই বলে জানান তিনি।




















