গাঁজা সেবনের জন্য ডেকে নিয়ে বন্ধুকে হত্যা, গ্রেফতার ৪
- আপডেট সময় : ১০:৫২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩ ৪৪২ বার পঠিত

নীলফামারীতে মিথ্যা অপবাদে বন্ধুর বিয়ে ভাঙা ও বোনের নামে অপবাদ রটানোর জেরে মোর্শেদ ইসলাম (৩৩) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। গাঁজা সেবনের জন্য নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে ওই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। হত্যার ঘটনা আড়াল করতে লাশ পুতে রাখা হয় বালির নিছে।
গত ২৪ আগস্ট জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুঠি বাসোপাড়া গ্রামের এঘটনায় পুৃলিশ লাশ উদ্ধার করে হত্যা রহস্য উদঘাটন ও চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. গোলাম সবুর।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি মাস্টারপাড়া গ্রামের মামুনুর রশিদের ছেলে বাদশা আলমগীর (৩১), বাসোপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে ইব্রাহিম ইসলাম (১৯), নুরুজ্জামান পেলকু মেম্বারের ছেলে সেলিম মিয়া (২৭) ও ময়নাকুড়ি গ্রামের মামুদ আলীর ছেলে আনারুল ইসলাম (৩০)। নিহত মোর্শেদসহ তারা সকলে একে অপরের বন্ধু এবং গাঁজা সেবনের সঙ্গী।
পুলিশ সুপার জানান, নিহত মোর্শেদুল ও আসামীরা গাজাসেবী ছিল। তারা একসঙ্গে বন্ধুর মতো গাঁজা সেবন করতেন। একাধিক জনের টাকা লেনদেনের বিরোধ ও ইব্রাহিমের বোনের পালিয়ে বিয়ে করার অপবাদ ছড়ানো এবং মিথ্যা তথ্যে সেলিমের বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ ছিল মোর্শেদুলের বিরুদ্ধে। এমন বিরোধ থেকে তারা সকলে মোর্শেদুলকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন। উক্ত পরিকল্পনায় গত ২৪ আগস্ট রাতে গাঁজা সেবনের জন্য মোর্শেদুলকে ডেকে নেন ইব্রাহীম। সে পরিকল্পনায় অন্যরা উপস্থিত হন সেখানে। এরপর সকলে মিলে মারপিট ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মের্শেদুলের মৃত্যু নিশ্চিৎ করেন। এরই মধ্যে মোর্শেদুলের লিঙ্গ কর্তন করে বালুর নিচে পুতে রাখেন ইব্রাহিম। এরপর তারা মৃতদেহটি বালির নিচে পুতে রাখেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার তিনদিন পর এলাকার কারাবালা নামক স্থান থেকে অজ্ঞাত ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ এবং পরিবারের পর্যবেক্ষণে লাশটি মোর্শেদুলের বলে শনাক্ত হওয়ায় হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেপ্তারে নামে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ সেপ্টেম্বর বাদশা আলমগীর, ২৪ সেপ্টেম্বর ইব্রাহিম, ২৭ সেপ্টেম্বর সেলিম ও আনারুল গ্রেপ্তার হয়। তাদের মধ্যে ইব্রাহিম, সেলিম ও আনারুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সারোআর আলম, কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজীব কুমার রায়, নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীরুল ইসলাম প্রমুখ।




















