ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন

জাহিদুল ​ইসলাম জাহিদ,লালমনিরহাট (হাতীবান্ধা):
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৫ বার পঠিত

​উত্তরের সীমান্তঘেরা জেলা লালমনিরহাট। নদী ভাঙন, বন্যা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী। চরাঞ্চলের মানুষের এই দুঃখ ঘুচিয়ে মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র’।

​ যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ এবং নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বাঁশের বান্ডাল তৈরির মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে তীর রক্ষার মতো নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি। এর সুফল পেতে শুরু করেছে স্থানীয় হাজারো মানুষ।

হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃক নির্মিত ১২০০ ফুট একটি কাঁচা রাস্তা লোকালয়ের সঙ্গে কয়েকটি গ্রামকে যুক্ত করেছে। এই রাস্তার ফলে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হয়েছে। চরাঞ্চলের প্রখর রোদে পথচারীদের বিশ্রামের জন্য রাস্তার পাশে ‘শীতল ছায়া’ নামে বেশকিছু গোলঘরও তৈরি করে দিয়েছে সংস্থাটি।

​অন্যদিকে, সিন্দুনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নদীর তীরে বাঁশের বান্ডাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একদিকে যেমন নদী ভাঙন রোধ করছে, অন্যদিকে পলি জমে নদীর তীর পুনর্গঠনে সহায়তা করছে। ফলে তীরবর্তী মানুষ তাদের ভিটেমাটি হারানোর ভয় থেকে মুক্তি পাচ্ছে।

​সানিয়াজান ইউনিয়নের শিক্ষার্থী মিম জানায়, “আগে রাস্তা না থাকায় আমরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারতাম না। বন্যার সময় যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেত, এমনকি বাজারে গিয়ে খাবার কেনার পরিস্থিতিও থাকত না। এখন রাস্তা হওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।” একই এলাকার এক কৃষক বলেন, “ফসল ভালো হলেও রাস্তার অভাবে আমরা ন্যায্য দাম পেতাম না। এখন সরাসরি যানবাহন চরে আসতে পারায় আমরা লাভবান হচ্ছি।”

​সিন্দুনা ইউনিয়নের জনৈক বাসিন্দা জানান, বাঁশের বান্ডালের কারণে তীরে বালু জমতে শুরু করেছে। এতে নদী ভাঙন কমবে এবং তাদের ঘরবাড়ি বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমেছে।

​গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা রবিউল হাসান জানান, ‘কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’-এর সহযোগিতায় এবং ‘জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ প্রজেক্টের আওতায় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নদী তীরের সুরক্ষা কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি সানিয়াজান ইউনিয়নে ১২০০ ফুট রাস্তা নির্মাণ, রাস্তার দুই ধারে বৃক্ষরোপণ এবং কৃষকদের বিশ্রামের জন্য ‘শীতল ছায়া’ ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে।

​সংস্থাটির এমন জনহিতকর কাজে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ও খুশি দেখা দিলেও একটি অপূর্ণতা রয়ে গেছে। সানিয়াজান ইউনিয়নের নবনির্মিত রাস্তাটিতে দুটি ব্রিজ বা কালভার্ট অত্যন্ত প্রয়োজন। এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন

আপডেট সময় : ১০:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

​উত্তরের সীমান্তঘেরা জেলা লালমনিরহাট। নদী ভাঙন, বন্যা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী। চরাঞ্চলের মানুষের এই দুঃখ ঘুচিয়ে মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র’।

​ যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ এবং নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বাঁশের বান্ডাল তৈরির মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে তীর রক্ষার মতো নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি। এর সুফল পেতে শুরু করেছে স্থানীয় হাজারো মানুষ।

হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃক নির্মিত ১২০০ ফুট একটি কাঁচা রাস্তা লোকালয়ের সঙ্গে কয়েকটি গ্রামকে যুক্ত করেছে। এই রাস্তার ফলে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হয়েছে। চরাঞ্চলের প্রখর রোদে পথচারীদের বিশ্রামের জন্য রাস্তার পাশে ‘শীতল ছায়া’ নামে বেশকিছু গোলঘরও তৈরি করে দিয়েছে সংস্থাটি।

​অন্যদিকে, সিন্দুনা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নদীর তীরে বাঁশের বান্ডাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একদিকে যেমন নদী ভাঙন রোধ করছে, অন্যদিকে পলি জমে নদীর তীর পুনর্গঠনে সহায়তা করছে। ফলে তীরবর্তী মানুষ তাদের ভিটেমাটি হারানোর ভয় থেকে মুক্তি পাচ্ছে।

​সানিয়াজান ইউনিয়নের শিক্ষার্থী মিম জানায়, “আগে রাস্তা না থাকায় আমরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারতাম না। বন্যার সময় যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেত, এমনকি বাজারে গিয়ে খাবার কেনার পরিস্থিতিও থাকত না। এখন রাস্তা হওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।” একই এলাকার এক কৃষক বলেন, “ফসল ভালো হলেও রাস্তার অভাবে আমরা ন্যায্য দাম পেতাম না। এখন সরাসরি যানবাহন চরে আসতে পারায় আমরা লাভবান হচ্ছি।”

​সিন্দুনা ইউনিয়নের জনৈক বাসিন্দা জানান, বাঁশের বান্ডালের কারণে তীরে বালু জমতে শুরু করেছে। এতে নদী ভাঙন কমবে এবং তাদের ঘরবাড়ি বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমেছে।

​গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা রবিউল হাসান জানান, ‘কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’-এর সহযোগিতায় এবং ‘জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ প্রজেক্টের আওতায় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নদী তীরের সুরক্ষা কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি সানিয়াজান ইউনিয়নে ১২০০ ফুট রাস্তা নির্মাণ, রাস্তার দুই ধারে বৃক্ষরোপণ এবং কৃষকদের বিশ্রামের জন্য ‘শীতল ছায়া’ ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে।

​সংস্থাটির এমন জনহিতকর কাজে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ও খুশি দেখা দিলেও একটি অপূর্ণতা রয়ে গেছে। সানিয়াজান ইউনিয়নের নবনির্মিত রাস্তাটিতে দুটি ব্রিজ বা কালভার্ট অত্যন্ত প্রয়োজন। এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।