ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

কেশবপুরে অধিকাংশ পাঁজায় কাঠ দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইট

আজিজুর রহমান-কেশবপুর(যশোর)
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০৩ বার পঠিত

কেশবপুরে অধিকাংশ পালপাড়ার পাঁজায় মাটির তৈরি জীনিসপত্রের পরিবর্তে প্রকাশ্যে কাঠ দিয়ে অবৈধভাবে ইট পোড়ানো হচ্ছে। এতে এলাকার বৃদ্ধসহ শিশুরা শ্বাস প্রশ্বাসজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার মাদারডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জগন্নাথ পাল প্রতিকার চেয়ে গত বুধবার ২৯ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে কমবেশি পাল সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস রয়েছে। পারিবারিক ভাবে এ সম্প্রদায়ের লোকেরা মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরিসহ বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। বর্তমান প্লাস্টিক, অ্যালুমোনিয়াম ও চীনা মাটির তৈরি জিনিসপত্রের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হওয়ায় পর্যায়ক্রমে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কদর কমে গেছে। যে কারণে পাল সম্প্রদায়ের অনেক লোকেরা পেশা পরিবর্তন করে ভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু কিছু কিছু পরিবার বাপ-দাদার এ পেশাকে আকড়ে ধরলেও মাটির তৈরি জিনিসপত্রের পরিবর্তে পাঁজায় পোড়াচ্ছে ইট। ভাটায় পোড়ানো ইট থেকে এ ইটের বাজার মূল্য কম হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার নিন্ম আয়ের মানুষের কাছে এর কদর অনেক বেশি। যে কারণে পাল সম্প্রদায়ের লোকেরা ইট তৈরিতে ঝু্ঁকে পড়েছেন। 
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদারডাঙ্গা এলাকাটি অত্যাধিক ঘনবসতিপূর্ণ। এলাকার গৌরপালের ৩ ছেলে জগদিস পাল, জয়দেব পাল ও রবিন পালসহ ১০/১২টি পরিবার মাটির তৈরি জিনিসপত্র তৈরির পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে পাঁজায় কাঠদিয়ে অবৈধভাবে ইট পোড়াচ্ছেন। এতে এলাকার পরিবেশ ব্যাপকভাবে দূষীত হচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই পাঁজার কালো ধোঁয়ায় এলাকার আকাশ ভারী হয়ে উঠছে। এতে এলাকার বৃদ্ধসহ শিশুরা শ্বাস প্রশ্বাসজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পাঁজার কালো ধোঁয়ায় এলাকার ফলদ বৃক্ষসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। এযেন দেখার কেউ নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি পাঁজার সামনে শতাধিক মন কাঠ প্রকাশ্যে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এতে এলাকার খেঁজুর গাছসহ বৃক্ষ উজাড় হচ্ছে। পাঁজায় কাঠের পরিবর্তে কয়লা পোড়ানোর দাবি এলাকাবাসির।এ বিষয়ে পাঁজার মালিক জয়দেব পাল জানান, আমাদের মাঠে কোনো জায়গা জমি নেই। বাপ-দাদার হাতে এ কাজ শিখেছি। মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা না থাকায় বাধ্য হয়ে ইট পোড়ানোর কাজ করছি। এ কাজ না করলে আমরা খাবো কি।এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তুহিন হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস :

কেশবপুরে অধিকাংশ পাঁজায় কাঠ দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইট

আপডেট সময় : ০২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

কেশবপুরে অধিকাংশ পালপাড়ার পাঁজায় মাটির তৈরি জীনিসপত্রের পরিবর্তে প্রকাশ্যে কাঠ দিয়ে অবৈধভাবে ইট পোড়ানো হচ্ছে। এতে এলাকার বৃদ্ধসহ শিশুরা শ্বাস প্রশ্বাসজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার মাদারডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জগন্নাথ পাল প্রতিকার চেয়ে গত বুধবার ২৯ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে কমবেশি পাল সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস রয়েছে। পারিবারিক ভাবে এ সম্প্রদায়ের লোকেরা মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরিসহ বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। বর্তমান প্লাস্টিক, অ্যালুমোনিয়াম ও চীনা মাটির তৈরি জিনিসপত্রের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হওয়ায় পর্যায়ক্রমে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কদর কমে গেছে। যে কারণে পাল সম্প্রদায়ের অনেক লোকেরা পেশা পরিবর্তন করে ভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু কিছু কিছু পরিবার বাপ-দাদার এ পেশাকে আকড়ে ধরলেও মাটির তৈরি জিনিসপত্রের পরিবর্তে পাঁজায় পোড়াচ্ছে ইট। ভাটায় পোড়ানো ইট থেকে এ ইটের বাজার মূল্য কম হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার নিন্ম আয়ের মানুষের কাছে এর কদর অনেক বেশি। যে কারণে পাল সম্প্রদায়ের লোকেরা ইট তৈরিতে ঝু্ঁকে পড়েছেন। 
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদারডাঙ্গা এলাকাটি অত্যাধিক ঘনবসতিপূর্ণ। এলাকার গৌরপালের ৩ ছেলে জগদিস পাল, জয়দেব পাল ও রবিন পালসহ ১০/১২টি পরিবার মাটির তৈরি জিনিসপত্র তৈরির পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে পাঁজায় কাঠদিয়ে অবৈধভাবে ইট পোড়াচ্ছেন। এতে এলাকার পরিবেশ ব্যাপকভাবে দূষীত হচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই পাঁজার কালো ধোঁয়ায় এলাকার আকাশ ভারী হয়ে উঠছে। এতে এলাকার বৃদ্ধসহ শিশুরা শ্বাস প্রশ্বাসজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পাঁজার কালো ধোঁয়ায় এলাকার ফলদ বৃক্ষসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। এযেন দেখার কেউ নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি পাঁজার সামনে শতাধিক মন কাঠ প্রকাশ্যে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এতে এলাকার খেঁজুর গাছসহ বৃক্ষ উজাড় হচ্ছে। পাঁজায় কাঠের পরিবর্তে কয়লা পোড়ানোর দাবি এলাকাবাসির।এ বিষয়ে পাঁজার মালিক জয়দেব পাল জানান, আমাদের মাঠে কোনো জায়গা জমি নেই। বাপ-দাদার হাতে এ কাজ শিখেছি। মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা না থাকায় বাধ্য হয়ে ইট পোড়ানোর কাজ করছি। এ কাজ না করলে আমরা খাবো কি।এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তুহিন হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।