ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা:দুই শিক্ষার্থীর শ্রদ্ধা নিবেদন
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১১ বার পঠিত

বৃহত্তর ফরিদপুরের কৃতী সন্তান, সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি ও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজেন্দ্র কলেজ চত্বরে অবস্থিত ম্যুরালে শ্রদ্ধাভরে পুষ্প অর্পণ করা হয়েছে।
২৯ ডিসেম্বর (সোমবার) এ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। ১৯২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদার পরলোকগমন করেন। ফরিদপুর অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে তার অবদান আজও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি কোথাও দৃশ্যমান না হলেও প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাজেন্দ্র কলেজের দু’জন শিক্ষার্থী। রাজেন্দ্র কলেজ চত্ত্বরে অবস্থিত বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদারের ম্যুরালে শ্রদ্ধাভরে এ পুষ্প অর্পণ করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোল্লা আবির এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নিরব ইমতিয়াজ শান্ত। তারা কলেজ প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠাতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোল্লা আবির বলেন,” শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল ইট–পাথরের স্থাপনা নয়, এর পেছনে থাকে বহু মানুষের ত্যাগ, চিন্তা ও স্বপ্ন। বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদার সেই স্বপ্নদ্রষ্টাদের একজন, যিনি ফরিদপুরে উচ্চশিক্ষার আলোকবর্তিকা প্রজ্বালন করেছিলেন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানে আমাদের শিকড়কে স্মরণ করা এবং সেই আদর্শকে ধারণ করা।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নিরব ইমতিয়াজ শান্ত বলেন,“আজ আমরা যে শিক্ষার আলোয় নিজেদের গড়ে তুলছি, তার ভিত্তি রচনা করেছিলেন বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদারের মতো মনীষীরা। আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেছি। ইতিহাসকে স্মরণ করাই ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
উল্লেখ্য, কলেজের দু’জন শিক্ষার্থীর এই স্বতঃস্ফূর্ত শ্রদ্ধা নিবেদন জেলার বিভিন্ন মহলে প্রশংসার সৃষ্টি করেছে।
বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদার ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসংস্কারক। তার হাতে গড়ে ওঠা সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে। রাজেন্দ্র কলেজের জন্য ৫.৫৫ একর জমি বরাদ্দ দেন তিঁনি।
শিক্ষার্থীদ্বয়ের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ইতিহাস সচেতনতা ও ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।




















