ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

আশুলিয়ায় স্ত্রীকে পিঠিয়ে হত্যা-স্বামী গ্রেপ্তার

মাসুদুর রহমান রুবেল- ঢাকা:
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪ ২১৯ বার পঠিত

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে পিঠিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামী পাষন্ড স্বামী শহিদুল ইসলাম মীর (৩৫)কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪।

বুধবার (২০ মার্চ) দুপর ২টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান।

এর আগে বুধবার (২০ মার্চ) ভোর রাতে আশুলিয়ার শিমুলতলা দরগারপাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত শিমু আক্তার ফারজানা (৩১) জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালামপুর গ্রামের মৃত জহুরুল হকের মেয়ে।

গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলাম মীর (৩৫) আশুলিয়ার শিমুলতলা দরগারপাড় এলাকার মৃত নজরুল ইসলাম মীরের ছেলে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, নিহত ফারজানা ও তার স্বামী শহিদুল ইসলাম মীর গাজীরচট এলাকার আব্দুল হকের মালিকানাধীন বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। নিহতের স্বামী একজন নেশাগ্রস্থ। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। অন্যান্য দিনের মত ঘটনার দিন রাতেও তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শহিদুল তার স্ত্রী ফারজানাকে কাঠের লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করলে ঘটনাস্থলেই ফারজানার মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে এসে নিহতের স্বামী শহিদুলকে আটক করে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামী জানায় যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামী শহিদুলের সাথে ১৫ বছর পূর্বে নিহত শিমুর পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বৈবাহিক জীবনে তাদের ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

বিবাহের পর হতেই নিহতের কাছে যৌতুক হিসেবে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আসছিলো। বিভিন্ন সময় শহিদুলের চাহিদা মোতাবেক শিমু তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে শহিদুলকে দিয়ে আসছিলো। এক পর্যায়ে শিমু তার চাহিদা মোতাবেক যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৫ বছর পূর্বে তাদের মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

পরবর্তীতে উভয় আত্মীয় স্বজনের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার শহিদুল পুনরায় শিমুকে বিবাহ করে সংসার শুরু করে। এর কিছু দিন পর হতে শহিদুল আবারও যৌতুকের জন্য শিমুকে চাপ সৃষ্টি করে ও মারধর করতো।

এরই প্রেক্ষিতে গত ১৯ মার্চ বিকালে যৌতুকের টাকা নিয়ে তাদের মাঝে বাক বিতান্ডা সৃষ্টি হয়। বাক-বিতান্ডার এক পর্যায়ে শহিদুল ভুক্তভোগী শিমুকে এলোপাথারি লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে শিমু অচেতন হয়ে পড়লে গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল তাৎক্ষনিক নিকটতম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী ভুক্তভোগী শিমু আক্তার ফারজানাকে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

র‌্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেই সাথে ভবিষ্যতেও আমাদের এমন অভিযান অব্যহত থাকবে বলেো জানান তিনি।

ট্যাগস :

আশুলিয়ায় স্ত্রীকে পিঠিয়ে হত্যা-স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৪:০৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে পিঠিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামী পাষন্ড স্বামী শহিদুল ইসলাম মীর (৩৫)কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪।

বুধবার (২০ মার্চ) দুপর ২টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান।

এর আগে বুধবার (২০ মার্চ) ভোর রাতে আশুলিয়ার শিমুলতলা দরগারপাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত শিমু আক্তার ফারজানা (৩১) জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালামপুর গ্রামের মৃত জহুরুল হকের মেয়ে।

গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলাম মীর (৩৫) আশুলিয়ার শিমুলতলা দরগারপাড় এলাকার মৃত নজরুল ইসলাম মীরের ছেলে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, নিহত ফারজানা ও তার স্বামী শহিদুল ইসলাম মীর গাজীরচট এলাকার আব্দুল হকের মালিকানাধীন বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। নিহতের স্বামী একজন নেশাগ্রস্থ। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। অন্যান্য দিনের মত ঘটনার দিন রাতেও তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শহিদুল তার স্ত্রী ফারজানাকে কাঠের লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করলে ঘটনাস্থলেই ফারজানার মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে এসে নিহতের স্বামী শহিদুলকে আটক করে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামী জানায় যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামী শহিদুলের সাথে ১৫ বছর পূর্বে নিহত শিমুর পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বৈবাহিক জীবনে তাদের ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

বিবাহের পর হতেই নিহতের কাছে যৌতুক হিসেবে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আসছিলো। বিভিন্ন সময় শহিদুলের চাহিদা মোতাবেক শিমু তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে শহিদুলকে দিয়ে আসছিলো। এক পর্যায়ে শিমু তার চাহিদা মোতাবেক যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৫ বছর পূর্বে তাদের মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

পরবর্তীতে উভয় আত্মীয় স্বজনের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার শহিদুল পুনরায় শিমুকে বিবাহ করে সংসার শুরু করে। এর কিছু দিন পর হতে শহিদুল আবারও যৌতুকের জন্য শিমুকে চাপ সৃষ্টি করে ও মারধর করতো।

এরই প্রেক্ষিতে গত ১৯ মার্চ বিকালে যৌতুকের টাকা নিয়ে তাদের মাঝে বাক বিতান্ডা সৃষ্টি হয়। বাক-বিতান্ডার এক পর্যায়ে শহিদুল ভুক্তভোগী শিমুকে এলোপাথারি লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে শিমু অচেতন হয়ে পড়লে গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল তাৎক্ষনিক নিকটতম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী ভুক্তভোগী শিমু আক্তার ফারজানাকে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

র‌্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেই সাথে ভবিষ্যতেও আমাদের এমন অভিযান অব্যহত থাকবে বলেো জানান তিনি।