অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব আদায়, তবুও অবহেলা-অব্যবস্থাপনায় ধ্বংসের পথে ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনি বাজার
- আপডেট সময় : ০৩:০৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫ ১৯৭ বার পঠিত

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ বাণিজ্যিক মোকাম কপিলমুনি বাজার। এই বাজার থেকে প্রতিবছর অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে পুরো এলাকাটি। অব্যবস্থাপনা, দখলদারিত্ব, অপরিকল্পিত দোকানপাট, নোংরা পরিবেশ আর ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে ঐতিহ্য হারাচ্ছে কপিলমুনি।
বাংলা ১৩৩৯ সালে রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু’র হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বাজার, যা একসময় এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে বেতার কেন্দ্র থেকে এখানকার পণ্যের দাম প্রচার হতো। লাখো মানুষের ভরসাস্থল এই বাজার বর্তমানে অভিভাবকহীন অবস্থায় দখলদারদের দৌরাত্ম্যে ধুঁকছে।
দুই যুগ আগে ঘোষিত কপোতাক্ষ নদে সেতু নির্মাণের প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, পড়ে আছে শুধু ১৮টি পিলার। সেই সঙ্গে বাজারের চারপাশে অপরিকল্পিত দখল আর বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার কারণে এটি যেন ধান রোপণের মাঠে পরিণত হয়। টিনশেড চাঁদনীগুলো অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে, ব্যবসায়ীরা পড়েছেন হয়রানির মুখে।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বে ভরপুর কপিলমুনি শুধু একটি বাজার নয়—এটি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের তীরে গড়ে ওঠা একটি তীর্থভূমি। কপিল ঋষির সাধনাস্থল, হযরত জাফর আউলিয়ার পদচিহ্নে ধন্য, এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গঙ্গাস্নানের পবিত্র স্থান এই কপিলমুনি। বিনোদ বিহারী সাধু’র অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল “বিনোদগঞ্জ” আজ হারাতে বসেছে তার নিজস্ব জৌলুস ও বৈশিষ্ট্য।
প্রবীণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা না থাকায় দিন দিন এই ঐতিহ্যবাহী বাজার ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের দাবি, অবিলম্বে বাজারে আধুনিক অবকাঠামো, নালা-নর্দমা, টয়লেট, সুনির্দিষ্ট দোকান বরাদ্দ এবং দখলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নচেৎ হারিয়ে যাবে খুলনার এক টুকরো ইতিহাস, এক টুকরো সংস্কৃতি – ঐতিহাসিক কপিলমুনি বাজার।




















