ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

টানা বৃষ্টিতে হাওরের ধান তলিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ১০৪ বার পঠিত

Oplus_131072

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে জোয়ানশাহী হাওর ও আশপাশের নিচু এলাকার শত শত একর জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটা ও ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেক জমিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার নামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কৃষক নিজেরাই পানিতে নেমে ধান কাটছেন।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত হলেও কাজের সময় কম। এতে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অথচ বাজারে ধানের দাম কম থাকায় খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
জাফরনগর গ্রামের কৃষক ইসলাম মিয়া বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরের জমি পানির নিচে চলে গেছে। ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না, আবার বাজারে ধানের দামও কম। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক আফিল উদ্দিন জানান, তার বেশির ভাগ জমির ধান এখনও পানির নিচে রয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে না পারলে আরও ক্ষতি হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
কৃষাণী জাহানারা বেগম বলেন, পরিবারের একমাত্র ভরসা এই বোরো ফসল। কিন্তু পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়ায় ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। এতে সারা বছরের খাদ্য ও সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভৈরবে প্রায় ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ২১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টানা বৃষ্টিতে হাওরের ধান তলিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে জোয়ানশাহী হাওর ও আশপাশের নিচু এলাকার শত শত একর জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটা ও ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেক জমিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার নামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কৃষক নিজেরাই পানিতে নেমে ধান কাটছেন।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত হলেও কাজের সময় কম। এতে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। অথচ বাজারে ধানের দাম কম থাকায় খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
জাফরনগর গ্রামের কৃষক ইসলাম মিয়া বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরের জমি পানির নিচে চলে গেছে। ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না, আবার বাজারে ধানের দামও কম। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক আফিল উদ্দিন জানান, তার বেশির ভাগ জমির ধান এখনও পানির নিচে রয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে না পারলে আরও ক্ষতি হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
কৃষাণী জাহানারা বেগম বলেন, পরিবারের একমাত্র ভরসা এই বোরো ফসল। কিন্তু পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়ায় ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। এতে সারা বছরের খাদ্য ও সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভৈরবে প্রায় ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ২১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।