সোনালি আঁশের রুপালি পাটকাঠিতে সালথার কৃষকদের শতকোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১০ বার পঠিত

গেল বছরগুলোতে সোনালী আঁশ পাট আবাদ করে চাহিদা মতো লাভের মুখ দেখেননি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা।
প্রতিবছরই কৃষকরা দাবি করেছেন,পাটচাষ করে লোকসান হচ্ছে তাদের। ঠিকমতো দাম পাচ্ছে না। তবে এবার পাটের আঁশের দাম একটু কম পেলেও পাটকাঠির দাম পাচ্ছে ভাল পাচ্ছেন বলে জানান তারা। যা বিগত বছরগুলোতে কৃষকরা পাননি। যেকারণে কৃষকদের মাঝে হাঁসি ফুটেছে।
জানা গেছে,সোনালি আঁশে খ্যাতির শীর্ষে রয়েছে ফরিদপুর। আর ফরিদপুর জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাট আবাদ হয় সালথা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে। এখানকার কৃষকরা জানান, পাটের আঁশের চেয়ে বর্তমানে একমসয়ের অবহেলা-অনাদরে থাকা পাটকাঠির বেড়েছে কদর। একসময় শুধু রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজের ছাউনি তৈরিতে ব্যবহৃত হতো পাটকাঠি।
বর্তমানে পাটকাঠি দিয়ে কার্বন পেপার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিনের কালি, আতশবাজি ও ফেসওয়াশের উপকরণ, মোবাইলের ব্যাটারি, প্রসাধনী পণ্য, এয়ারকুলার, পানির ফিল্টার, বিষ ধ্বংসকারী ওষুধ,জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, দাঁত পরিষ্কারের ওষুধ ও ক্ষেতের সার উৎপাদনের কাঁচামাল তৈরি হচ্ছে। যেকারণে বিশ্ববাজারে এর ব্যাপক চাহিদা।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। পাট উৎপাদনে যেহারে খরচ বেড়েছে,ঠিক সে ভাবে বাড়েনি বাজার দর। তাইতো এ মৌসুমে সোনালি কাঠিতে সেই ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করছে। উভয় উপজেলার সর্বত্র এখন চলছে পাটকাঠির পরিচর্যা ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ। এখন পাট কাঠির বহুমুখী ব্যবহার বেড়েছে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠির ও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। পাটকাঠির অর্থনৈতিক মূল্যাও অনেক। গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার পাটকাঠির চাহিদা বেড়েছে। দুর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এই দুই উপজেলায় এসে কাঠি কিনে নিচ্ছে, কৃষক দামও পাচ্ছে বেশ।
সম্প্রতি সরেজমিনে সালথা কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়,বাড়ির সামনে, পাকা সড়ক কিংবা মাঠ-ঘাট যেখানে চোখ যায় সেখানেই চোখে পড়ে পাটকাঠি শুকানো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। ১০০ আঁটি পাটকাঠি বিক্রয় হচ্ছে প্রকারভেদে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায়। সালথা ১ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত পাট থেকে গড়ে ১৫ হাজার টাকার কাঠি বের হচ্ছে।
সালথার পাটচাষি ফারুক মোল্যা বলেন, পাটের যে বর্তমান বাজার মূল্য তাতে খুব একটা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছি না।তবে তুলনামূলকভাবে পাটকাঠির মূল্য আগের চেয়ে অনেক বেশি। পাট বিক্রয় করে খুব বেশি লাভবান না হলেও পাটের কাঠিতে কিছুটা হলেও ঘুরে দাড়াতে পারবো।
তিনি আরো বলেন,আগে পাটকাঠির ব্যবহার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছিল শুধু জ্বালানি হিসেবে। আর কিছু ভালো মানের পাটকাঠি পানের বরজের আর ঘরের বেড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন আর মূল্যহীনভাবে পড়ে থাকে না পাটকাঠি। বিশ্ববাজারে পাটকাঠির চাহিদা বাড়ায় আঁশের পাশাপাশি কাঠির দামও ভালো পাওয়া যায়।
সালথার পাটকাঠি ব্যবসায়ী সামাদ মাতুব্বর বলেন,পাটকাঠি এখন আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে এই পাটকাঠি থেকে আয় ভালো হচ্ছে। বড় বড় কোম্পানির এজেন্ট, ব্যবসায়ীরা এসে গ্রাম থেকে এটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের এলাকায় পাটকাঠির চাহিদা বেড়েছে।
সাতক্ষীরা এলাকা থেকে আসা পাটকাঠি ব্যবসায়ী মোস্তফা শেখ বলেন,৭ বছর ধরে পাটকাঠির ব্যবসা করছেন। আগে সালথা ও নগরকান্দা থেকে পাটকাঠি কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতাম। তবে বর্তমানে ফরিদপুর জেলায় অর্ধশতাধিক কার্বন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। এই জন্য ফরিদপুর অঞ্চলের পাটকাঠি দিয়ে এসব ফ্যাক্টরির চাহিদা মেটানোই কষ্টসাধ্য। তাই আমরা আর আগের মতো পাটকাঠি কিনতে পারি না। কারণ বর্তমানে পাটকাঠির দাম ও চাহিদা দুটোই বেশি। অনেকেই এখন পাটকাঠির ব্যবসা করে জীবকা নির্বাহ করছেন।
সালথা উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে,এ বছর প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ থেকে উৎপাদিত পাটকাঠির বাজার মূল্য অন্তত শত কোটি টাকার বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাটকাঠির এই মূল্যবৃদ্ধি স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।




















