ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

রাজবাড়ীর পাংশায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ৪০ বার পঠিত

রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভায় ঈদ উপলক্ষে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দ ১০ কেজি চালের পরিবর্তে উপকারভোগীদের অনেককে সাড়ে সাত থেকে সাড়ে আট কেজি পর্যন্ত চাল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভা ভবনের বারান্দায় বস্তা থেকে চাল ঢেলে বালতি দিয়ে মেপে উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। সেখানে নির্দিষ্ট কোনো ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। বালতির মাধ্যমে আনুমানিক পরিমাপে চাল দেওয়া হচ্ছিল।
উপকারভোগী তাইজেল বলেন, চাল নেওয়ার পর তার সন্দেহ হলে পৌরসভার সামনে একটি দোকানে মেপে দেখেন তিনি পেয়েছেন ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম চাল। পরে বিষয়টি জানালে তাকে কিছু চাল বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
অন্য এক উপকারভোগী আয়সা জানান, দোকানে মেপে দেখেন তিনি পেয়েছেন প্রায় ৮ কেজি ৮০০ গ্রাম চাল। একইভাবে আরও কয়েকজন উপকারভোগী অভিযোগ করেন, তাদের ১০ কেজির পরিবর্তে ৮ কেজির আশপাশে চাল দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার মৃগীডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আতাই সরদার বলেন, তিনি ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছেন প্রায় ৯ কেজি ৩০০ গ্রাম। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
জানা গেছে, পাংশা পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫ জন দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের জন্য মোট ৪৬ হাজার ২৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন খাদ্যগুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের ১ হাজার ৫৪৪ বস্তা চাল উত্তোলন করে পৌরসভার গুদামে সংরক্ষণ করেন। শনিবার থেকে এসব চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. চাঁদ আলী খান ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল মাপার পদ্ধতি পরিবর্তনের পরামর্শ দেন এবং যেন নির্ধারিত পরিমাণ চাল দেওয়া হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।
এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আনিসুর রহমান বলেন, অনেক সময় খাদ্যগুদাম থেকে আসা ৩০ কেজির বস্তায় ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত চাল কম থাকতে পারে। সে কারণে সামান্য পরিমাণ কম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম দেওয়া হয়ে থাকে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
চাল বিতরণের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ জানান, শনিবার কিছু অভিযোগ ওঠার পর তিনি সারাদিন উপস্থিত থেকে বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেছেন। তার মতে, সামান্য কমবেশি হতে পারে, তবে বড় ধরনের ঘাটতির বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। ১০ কেজির মধ্যে ১০০–২০০ গ্রাম কম হলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, কিন্তু দেড় থেকে দুই কেজি কম দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

রাজবাড়ীর পাংশায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:২২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভায় ঈদ উপলক্ষে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দ ১০ কেজি চালের পরিবর্তে উপকারভোগীদের অনেককে সাড়ে সাত থেকে সাড়ে আট কেজি পর্যন্ত চাল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভা ভবনের বারান্দায় বস্তা থেকে চাল ঢেলে বালতি দিয়ে মেপে উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। সেখানে নির্দিষ্ট কোনো ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। বালতির মাধ্যমে আনুমানিক পরিমাপে চাল দেওয়া হচ্ছিল।
উপকারভোগী তাইজেল বলেন, চাল নেওয়ার পর তার সন্দেহ হলে পৌরসভার সামনে একটি দোকানে মেপে দেখেন তিনি পেয়েছেন ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম চাল। পরে বিষয়টি জানালে তাকে কিছু চাল বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
অন্য এক উপকারভোগী আয়সা জানান, দোকানে মেপে দেখেন তিনি পেয়েছেন প্রায় ৮ কেজি ৮০০ গ্রাম চাল। একইভাবে আরও কয়েকজন উপকারভোগী অভিযোগ করেন, তাদের ১০ কেজির পরিবর্তে ৮ কেজির আশপাশে চাল দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার মৃগীডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আতাই সরদার বলেন, তিনি ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছেন প্রায় ৯ কেজি ৩০০ গ্রাম। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
জানা গেছে, পাংশা পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫ জন দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের জন্য মোট ৪৬ হাজার ২৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন খাদ্যগুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের ১ হাজার ৫৪৪ বস্তা চাল উত্তোলন করে পৌরসভার গুদামে সংরক্ষণ করেন। শনিবার থেকে এসব চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. চাঁদ আলী খান ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল মাপার পদ্ধতি পরিবর্তনের পরামর্শ দেন এবং যেন নির্ধারিত পরিমাণ চাল দেওয়া হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।
এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আনিসুর রহমান বলেন, অনেক সময় খাদ্যগুদাম থেকে আসা ৩০ কেজির বস্তায় ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত চাল কম থাকতে পারে। সে কারণে সামান্য পরিমাণ কম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম দেওয়া হয়ে থাকে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
চাল বিতরণের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ জানান, শনিবার কিছু অভিযোগ ওঠার পর তিনি সারাদিন উপস্থিত থেকে বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেছেন। তার মতে, সামান্য কমবেশি হতে পারে, তবে বড় ধরনের ঘাটতির বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। ১০ কেজির মধ্যে ১০০–২০০ গ্রাম কম হলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, কিন্তু দেড় থেকে দুই কেজি কম দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।