ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

অনিক রায়,ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১২৮ বার পঠিত

Oplus_131072

ফরিদপুর-১ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির দুটি পক্ষের আলাদা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পৌরসদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পৌর এলাকার বিভিন্ন স্কুল, মাঠ ও বাজার–সংলগ্ন স্থানে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয় এবং পরে মাইকিং করে জনসাধারণকে জানানো হয়।

ইউএনও রাসেল ইকবাল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী—কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ভিপি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আলফাডাঙ্গায় একই দিন ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দুটি কর্মসূচি আহ্বান করা হয়।

খন্দকার নাসিরুল ইসলামপন্থীরা শনিবার বিকালে আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সমাবেশের আয়োজন করেন। অন্যদিকে ভিপি ঝুনু সমর্থকরা বিকেল ৩টায় আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিল এবং গত ৭ নভেম্বর বোয়ালমারী সংঘর্ষে যুবদল নেতা মিনহাজুর রহমান লিপনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভের আয়োজন করেন।

দুই পক্ষের আলাদা সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। আদেশে বলা হয়, এই সময় পাঁচজন বা তার বেশি লোক একত্রে জড়ো হওয়া, মিছিল, সভা–সমাবেশ, গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক বা দেশীয় অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।আদেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

খন্দকার নাসিরুল ইসলামপন্থী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরু বলেন, তাদের সমাবেশ এক সপ্তাহ আগে নির্ধারণ করা ছিল। তবে ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় তারা জেলা কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

অন্যদিকে শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপের যুবদল নেতা সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, নতুন কমিটি বাতিল ও ৭ নভেম্বরের হামলার প্রতিবাদে তাদের কর্মসূচি ছিল, তবে ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় তারা সেটি স্থগিত করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর ঘোষণা করা নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপের প্রভাব বেশি থাকায় ঝুনু গ্রুপ ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে নামে। ৭ নভেম্বর বোয়ালমারীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৫–২০ জন আহত হয় এবং মামলা–মোকদ্দমা হয়। আলফাডাঙ্গার সর্বশেষ অবস্থান সেই উত্তেজনারই ধারাবাহিকতা।

ট্যাগস :

ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ফরিদপুর-১ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির দুটি পক্ষের আলাদা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পৌরসদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পৌর এলাকার বিভিন্ন স্কুল, মাঠ ও বাজার–সংলগ্ন স্থানে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয় এবং পরে মাইকিং করে জনসাধারণকে জানানো হয়।

ইউএনও রাসেল ইকবাল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী—কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ভিপি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আলফাডাঙ্গায় একই দিন ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দুটি কর্মসূচি আহ্বান করা হয়।

খন্দকার নাসিরুল ইসলামপন্থীরা শনিবার বিকালে আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সমাবেশের আয়োজন করেন। অন্যদিকে ভিপি ঝুনু সমর্থকরা বিকেল ৩টায় আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিল এবং গত ৭ নভেম্বর বোয়ালমারী সংঘর্ষে যুবদল নেতা মিনহাজুর রহমান লিপনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভের আয়োজন করেন।

দুই পক্ষের আলাদা সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। আদেশে বলা হয়, এই সময় পাঁচজন বা তার বেশি লোক একত্রে জড়ো হওয়া, মিছিল, সভা–সমাবেশ, গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক বা দেশীয় অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।আদেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

খন্দকার নাসিরুল ইসলামপন্থী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরু বলেন, তাদের সমাবেশ এক সপ্তাহ আগে নির্ধারণ করা ছিল। তবে ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় তারা জেলা কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

অন্যদিকে শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপের যুবদল নেতা সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, নতুন কমিটি বাতিল ও ৭ নভেম্বরের হামলার প্রতিবাদে তাদের কর্মসূচি ছিল, তবে ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় তারা সেটি স্থগিত করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর ঘোষণা করা নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপের প্রভাব বেশি থাকায় ঝুনু গ্রুপ ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে নামে। ৭ নভেম্বর বোয়ালমারীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৫–২০ জন আহত হয় এবং মামলা–মোকদ্দমা হয়। আলফাডাঙ্গার সর্বশেষ অবস্থান সেই উত্তেজনারই ধারাবাহিকতা।