প্রিজাইডিং অফিসারের ফলাফল বদলে যায় রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৪ ৩৬৩ বার পঠিত

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে। প্রিজাইডিং অফিসারের ভোট গণনার বিবরনী সিটে ‘সোনালী আঁশ’প্রতীকে ৭১৬ ভোট যা রিটার্নিং অফিসারের ফলাফল থেকে ৫৮৭ ভোট বেশি এবং ‘মশাল’ প্রতীকে ৬৬৪ ভোট যা রিটার্নিং অফিসারের ফলাফল থেকে ৩৪৮ ভোট বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভোট পুনঃগণনার দাবিও জানিয়েছেন নৌকার প্রার্থী মাহবুবুর রহমান হেলাল।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভোট গ্রহণ শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত নির্বাচনী সদ্য ঘোষিত ফলাফল প্রতিবেদনে এ আসনে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫ ভোট কাস্টিং হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। যার শতকরা হার ৪৮.০৮ শতাংশ। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৬১ জন। ৭ জানুয়ারি রাতে প্রকাশিত মোট ৮৯টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখানো হয়েছে, ‘ট্রাক’ প্রতীকের স্বতত্র প্রার্থী মো. আবদুর রশীদ ৫০ হাজার ৬৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগ মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল ৪৭ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়েছেন। তৃতীয় অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মুরাদ হাসান ‘ঈগল’ প্রতীকে ৩৭ হাজার ৪৩৩ ভোট। এছাড়া বিএনএফ’র তারিখ মাহাদী ‘টেলিভিশন’ প্রতীকে ৫১৩ ভোট ও জাতীয় পার্টির মো. আবুল কালাম আজাদ ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে ৪০০ ভোট। কিন্তু সবচেয়ে মজার তথ্য ও গড়মিল দেখা যায়, তৃণমুল বিএনপি’র মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘সোনালী আঁশ’ ও জাসদের মো. গোলাম মোস্তফা জিন্নাহর ‘মশাল’ প্রতীকে।
রিটার্নিং অফিসারের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. শফিউর রহমান স্বাক্ষরিত বার্তা প্রেরণ সিটে দেখা যায়, তৃণমুল বিএনপি’র মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকে ১২৯ ভোট এবং জাসদের মো. গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ ‘মশাল’ প্রতীকে ৩১৬ ভোট উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ৪৮ নং কেন্দ্র ভাটারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মাহমুদুল হক স্বাক্ষরিত সহকারি রিটানিং অফিসার বরাবর পাঠানো ভোট গণনার বিবরনী সিটে তৃণমুল বিএনপি’র মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকে ৭১৬ ভোট যা রিটার্নিং অফিসারের মোট ফলাফল থেকে মাত্র একটি কেন্দ্রেই ৫৮৭ ভোট বেশি এবং জাসদের মো. গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ ‘মশাল’ প্রতীকে ৬৫৪ ভোট, যা রিটার্নিং অফিসারের মোট ফলাফল থেকে মাত্র একটি কেন্দ্রেই ৩৩৮ ভোট বেশি উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও এই কেন্দ্রে মোট ভোট কাস্টিং দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৫৬৮ ভোট। বাতিলকৃত ভোটসহ মোট ভোট হওয়ার কথা ছিল ৩ হাজার ১৫১ ভোট। এই কেন্দ্রে মোট ভোট ৩ হাজার ২’শ ২২।
মূলতঃ প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত ফলাফল সিট রিটার্নিং অফিসারের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে গিয়েই পরিবর্তন হয়ে যায়। অপরদিকে ৩১নং কেন্দ্র পিংনা উচ্চচ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষরিত ভোট গণনার বিবরণীতে দেখা যায়, কলমে কাটছাঁট করে ট্রাক প্রতীকের ৪৯৬ ভোটকে কেটে ৫৯৬ এবং নৌকা প্রতীকের ৫১২ ভোটকে কেটে ৪১১ করা হয়েছে।
এই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান ভোট জালিয়াতি মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ভোটের দিন নৌকার এজেন্টদের কেন্দ্রেই মারধরা করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোট গণনার ফলাফল সিটে কাট-ছাট ও নয়-ছয় করে নৌকাকে পরাজিত করা হয়। ইউএনওসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাকে কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি, ফোন করে হুমকি দেন। ভোট গণনার অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তিনি এ আসনে পুন:ভোট গ্রহণ বা পুনঃভোট গণনার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে ভাটারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার পোগলদিঘা ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হক বলেন, এমন ভুল হওয়ার কথা নয়। রেজাল্ট সিট না দেখে কিছু বলতে পারছিনা। তবে বাহির থেকে সংগ্রহকৃত ফলাফল সিটে কাটসিট হতে পারে।
সহকারী রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার যে ফলাফলের সিট আমাদের কাছে দিয়েছে সেই ফলাফলই ঘোষনা করা হয়েছে। সেখানে হয়তো প্রিন্টিং মিসটেক হতে পারে, তবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এটা ভাল বলতে পারবেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শানিয়াজ্জামান তালুকদার বলেন, আমাদের এখানে যে রেজাল্ট সিট আছে সেটাই সঠিক। তার নিকট রক্ষিত ফলাফলে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকের শুন্য ভোট এবং মশাল প্রতীকের দুই ভোট পেয়েছেন বলেও তিনি জানান। বাকি সব ফলাফল ভুয়া বলেও উল্লেখ করেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. শফিউর রহমান বলেন, এ হিসাবটা সঠিক নয় তবে জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে ফাইনাল রেজাল্ট সিট আছে সেখান থেকে এ বিষয়টি জানতে পারেন।




















