পদ্মার চরে দুই সশস্ত্র বাহিনীর গোলাগুলি,নি-হ-ত ১
- আপডেট সময় : ০১:৫১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ৭৫ বার পঠিত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী পদ্মার চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার ও বালুমহল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর বাঘা এলাকার মণ্ডল বাহিনী এবং পাবনার ঈশ্বরদীর কাঁকন বাহিনীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হলেন কাঁকন বাহিনীর সদস্য ও কথিত বালুমহলের ম্যানেজার আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫)। তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার আব্দুল শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বালুঘাট দখল, ফসলি জমির নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, এসব গ্রুপের কাছে একে-৪৭সহ আধুনিক ভারী অস্ত্র রয়েছে।
মঙ্গলবার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দ হাজার মৌজার হবির চর থেকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর চর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় মণ্ডল বাহিনী ও কাঁকন বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলে। এ সময় উভয় পক্ষ শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষে আজিজুল হক ঝড়ু নিহত হন। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পরে নাটোরের লালপুর উপজেলার চরজাজিরা মৌজা সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে একটি স্পিডবোটে থাকা গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহের মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পদ্মার চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত চললেও কার্যকর অভিযান ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। অস্ত্রধারীরা প্রায়ই প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরের কাশবনের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কাঁকন ও মণ্ডল গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। সে সময় মণ্ডল গ্রুপের দুই সদস্য এবং কাঁকন বাহিনীর একজন সদস্য প্রাণ হারান।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, “নাটোরের লালপুর থানা এলাকার পদ্মা নদী থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “মরিচা ইউনিয়নের হবির চর থেকে বাঘার আলাইপুর চর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ঠিক কত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে তা বলা সম্ভব নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসীরা একে-৪৭ ধরনের আধুনিক ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে।”




















