ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

কাঁকরোল চাষে বদলে যাচ্ছে ঝিনাইগাতীর ‘গোমড়া’ গ্রাম

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝিনাইগাতী (শেরপুর):
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫ ২১৯ বার পঠিত

এক সময়ের পতিত জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া গ্রাম বদলে গেছে কাঁকরোল চাষকে ঘিরে। প্রায় ১২০০ কৃষক এখন কাঁকরোল চাষের ওপর নির্ভরশীল। ধীরে ধীরে গ্রামটি পরিচিতি পেয়েছে ‘কাঁকরোল গ্রাম’ হিসেবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে পানির অভাবে অনেক জমি পতিত থাকতো। বিদ্যুৎ আসার পর সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় জমি এসেছে আবাদের আওতায়। এখন প্রায় প্রতিটি কৃষক নিজস্ব অথবা বর্গাচাষে কাঁকরোল চাষ করছেন। এখানকার কাঁকরোল জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কাঁকরোল একটি লতানো জাতীয় সবজি। এর বীজ হয় মূল গাছের নিচে, যা দেখতে মিষ্টি আলুর মতো। মার্চ-এপ্রিলে রোপণের পর ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। তবে পরাগায়নের জন্য পুরুষ ও স্ত্রী গাছ আলাদাভাবে থাকতে হয়—না হলে ফলন কমে যায়।
গোমড়ার কৃষি উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ আসার পর পানি সমস্যা মিটেছে। আমরা এখন মৌসুমি সবজি বিশেষ করে কাঁকরোল চাষ করছি এবং লাভবান হচ্ছি।’
একই কথা বলেন কৃষক হরমুজ আলী। তিনি জানান, ৫০ শতাংশ জমিতে কাঁকরোল চাষ করে তিনি ভালোই লাভ করেছেন। ‘এই আবাদ দিয়েই পরিবারের পাঁচজনের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাই।’
তবে রাস্তার সমস্যার কথা বললেন কৃষক খাইরুল। তিনি বলেন, ‘পাকা রাস্তা না থাকায় গাড়ি আসতে চায় না। আসে হলেও ভাড়া বেশি পড়ে, এতে আমাদের লাভ কমে যায়।’
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, “এবছর উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে কাঁকরোলের চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি।”
কাঁকরোল শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, ত্বকের বয়সের ছাপ রোধ করে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

কাঁকরোল চাষে বদলে যাচ্ছে ঝিনাইগাতীর ‘গোমড়া’ গ্রাম

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

এক সময়ের পতিত জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া গ্রাম বদলে গেছে কাঁকরোল চাষকে ঘিরে। প্রায় ১২০০ কৃষক এখন কাঁকরোল চাষের ওপর নির্ভরশীল। ধীরে ধীরে গ্রামটি পরিচিতি পেয়েছে ‘কাঁকরোল গ্রাম’ হিসেবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে পানির অভাবে অনেক জমি পতিত থাকতো। বিদ্যুৎ আসার পর সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় জমি এসেছে আবাদের আওতায়। এখন প্রায় প্রতিটি কৃষক নিজস্ব অথবা বর্গাচাষে কাঁকরোল চাষ করছেন। এখানকার কাঁকরোল জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কাঁকরোল একটি লতানো জাতীয় সবজি। এর বীজ হয় মূল গাছের নিচে, যা দেখতে মিষ্টি আলুর মতো। মার্চ-এপ্রিলে রোপণের পর ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। তবে পরাগায়নের জন্য পুরুষ ও স্ত্রী গাছ আলাদাভাবে থাকতে হয়—না হলে ফলন কমে যায়।
গোমড়ার কৃষি উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ আসার পর পানি সমস্যা মিটেছে। আমরা এখন মৌসুমি সবজি বিশেষ করে কাঁকরোল চাষ করছি এবং লাভবান হচ্ছি।’
একই কথা বলেন কৃষক হরমুজ আলী। তিনি জানান, ৫০ শতাংশ জমিতে কাঁকরোল চাষ করে তিনি ভালোই লাভ করেছেন। ‘এই আবাদ দিয়েই পরিবারের পাঁচজনের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাই।’
তবে রাস্তার সমস্যার কথা বললেন কৃষক খাইরুল। তিনি বলেন, ‘পাকা রাস্তা না থাকায় গাড়ি আসতে চায় না। আসে হলেও ভাড়া বেশি পড়ে, এতে আমাদের লাভ কমে যায়।’
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, “এবছর উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে কাঁকরোলের চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি।”
কাঁকরোল শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, ত্বকের বয়সের ছাপ রোধ করে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।