আলফাডাঙ্গায় বিএনপির কোন্দল সহিংসতায়, গ্রেপ্তার ৪
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫ ২৩১ বার পঠিত

ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা,বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। দলের দুই মনোনয়ন-প্রত্যাশী নেতা—সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু—এই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, মামলা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটায় স্থানীয় রাজনীতি চরম উত্তপ্ত।
সংবাদ সূত্রে জানা যায়,সম্প্রতি নাসির গ্রুপের কর্মীরা ঝুনু গ্রুপের আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা খোশবুর রহমান খোকন-এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এই পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে নাসির গ্রুপের বোয়ালমারী ছাত্রদলের সাবেক নেতা বনি আমিন-এর ওপর হামলা চালায় খোকন গ্রুপের সমর্থকরা। তিনি গুরুতর আহত হন।
বনি আমিনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একই গ্রুপের ঘনিষ্ঠ নেতা এ কে এম উজ্জ্বল হোসেন-ও হামলার শিকার হন বলে জানা যায়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার ঘটনা শেষে শুক্রবার রাতেই বনি আমিন বাদী হয়ে ঝুনু গ্রুপের ছয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত মামলা (মামলা নম্বর ০১) রুজু করে।
মামলা হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ঝুনু গ্রুপ। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনে শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজালাল আলম-এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়।
এই মানববন্ধনের প্রস্তুতিকালেই পুলিশ অভিযান চালায়। আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের কলেজ রোড থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপির নেতা খোশবুর রহমান খোকনসহ মোট চারজন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটকদের মধ্যে রমজান মোল্লা ও আরব আলী নামের দুইজন এজাহারভুক্ত এবং নজরুল নামের একজন বিএনপির সদস্য রয়েছেন। এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ শাহজালাল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন,”সন্ধ্যার আগে ও পরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামিরা ঘোরাঘুরি করতে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করে সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,নির্বাচন সামনে রেখে দলের এমন সহিংস কোন্দল বিএনপির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। তারা অবিলম্বে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতৃত্বকে হস্তক্ষেপ করে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই কোন্দল জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।




















