ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

ভূঞাপুরে ৫৪তম জাহাজমারা দিবস পালিত

মোহাম্মদ সোহেল,টাঙ্গাইল:
  • আপডেট সময় : ০৪:৫২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫ ৮১ বার পঠিত

স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টায় ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি জাহাজমারা ঘাটে ৫৪তম জাহাজমারা দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এই দিনটিকে স্মরণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনরা একত্রিত হন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু আবদুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক মন্ডল। তিনি ১৯৭১ সালের ১১ আগস্ট (২৭ শ্রাবণ) সংঘটিত জাহাজমারা যুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ দখল করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছিলেন। পরবর্তীতে শত্রুর হাতে পুনরায় চলে যাওয়ার আশঙ্কায় জাহাজগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যা ‘জাহাজমারা’ নামে পরিচিতি পায়।” অনুষ্ঠানে ভূঞাপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত থেকে তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। বক্তারা জাহাজমারা যুদ্ধকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে এ দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্মৃতিচারণ পর্ব শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, নৃত্য ও কবিতা পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এ দিনে ভূঞাপুরের লেংড়া বাজার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দুটি অস্ত্রবোঝাই জাহাজ দখল করে। অস্ত্র উদ্ধারের পর জাহাজগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে জাহাজমারা যুদ্ধ নামে পরিচিতি পায়। এই যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের সাফল্যের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান স্থানীয়দের মধ্যে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে জাগ্রত করেছে। বক্তারা এ দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে পালনের আহ্বান জানান।

ট্যাগস :

ভূঞাপুরে ৫৪তম জাহাজমারা দিবস পালিত

আপডেট সময় : ০৪:৫২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টায় ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি জাহাজমারা ঘাটে ৫৪তম জাহাজমারা দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এই দিনটিকে স্মরণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনরা একত্রিত হন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু আবদুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক মন্ডল। তিনি ১৯৭১ সালের ১১ আগস্ট (২৭ শ্রাবণ) সংঘটিত জাহাজমারা যুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ দখল করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছিলেন। পরবর্তীতে শত্রুর হাতে পুনরায় চলে যাওয়ার আশঙ্কায় জাহাজগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যা ‘জাহাজমারা’ নামে পরিচিতি পায়।” অনুষ্ঠানে ভূঞাপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত থেকে তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। বক্তারা জাহাজমারা যুদ্ধকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে এ দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্মৃতিচারণ পর্ব শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, নৃত্য ও কবিতা পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এ দিনে ভূঞাপুরের লেংড়া বাজার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দুটি অস্ত্রবোঝাই জাহাজ দখল করে। অস্ত্র উদ্ধারের পর জাহাজগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে জাহাজমারা যুদ্ধ নামে পরিচিতি পায়। এই যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের সাফল্যের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান স্থানীয়দের মধ্যে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে জাগ্রত করেছে। বক্তারা এ দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে পালনের আহ্বান জানান।